লন্দন্ভ্রনগন্

লট উিআউউউিউিউিউসিহ

ব্ঙ্গনাটা।

মাইকেল মধুস্থদন দত্তের জীবন-চরি প্রড়তি ্রন্থ-গ্রণেত।

শ্রীধোগীন্দ্রনাথ বস্তু বি, এ, বিরচিত।

৯১|১ মেছুয়াবাজার ষ্টাট “নববিভাকর যন্ধে” শ্রীগোপালচন্্ নিয়োগী কর্তৃক মুদ্রিত

গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত

১৩২১

বিজ্ঞাপন

লোকে আনন্দ চায়, স্ক্তি চায় ; অসদ্ত্ভির পরিপোষণ না করিয়া এই ঢুইটা দিতে পারিলে জনসমাজের মঙ্গল করা হয়। উপদেশের ্ঠায় বাঙ্গ দ্বারাও বাক্তিগত এবং মম্প্রদায়গত ক্রটির সংশোধন হইয়| থাকে এই দুইটা মৌলিক সত্তা স্মরণ রাখিয়া গন্ধর্বনগর রচনা করিয়াছি। ইহার বাঙ্গ বিদবেষপ্রহ্ুত নয় এবং রুচিভঙ্গ দুর্নীতির সমর্থক নয় পাঠক মভাশয়কে ই! স্মরণ রাখিতে বলি। গন্ধর্ববনগর উদ্দেশ্তের উপযোগী হইয়াছে বিবেচিত হইলে সুখী হইব। ইতি।

৩৫ নঃ গুয়াবাগান লেন কলিকাতা ১৩১২১ অগ্রহায়ণ ]

গল্দত্রনগান্ত প্রথম দৃশ্ঠ | ভিমাচল প্রদেশ

গিরিশুঙ্গ অবলম্বনে নারদের বীণ! বাদন করিতে করিতে পৃথিবীতে অবতরণ রাগিণী- ইমন কল্যাণ। তাল--চৌতাল।

নারদ তত্বাতীত তুমি, হরি ! তব তন্ব কেবা জানে ?

জ্ঞানী, গুণী কেহ, কত, তোমারে না পান ধ্যানে

গ্রলযসিদ্ধুঘলিলে তুমি বেদ উদ্ধারিলে,

বৃদ্ধরূপে বেদকশ্ম তুমিই নাশিলে জ্ঞানে

রামরূপে করি লীলা সলিলে তাসালে শিলা,

অহল্যারে উদ্ধারিলা চরণের রজোদানে ;

মায়ায় মোহিত করি রেখেছ, সবারে, হবি !

নাশ মায়া, আখি ভরি, তোমারে নেহারি প্রাণে

& প্রভো! কি অপরূপ রূপই আজ দেখিয়েছ। তোমাকে যখনই দেখেছি, তখনই প্রাণ মোহিত হয়েছে; কিন্তু এমন রূপ আর কখন দেখিনে। সতাই তুমি ভূবনমোহন বটে মরি মরি কি ভঙ্গী! এমন ক'রে আর কেউ দাড়াতে পারে না; বাম পদের উপর দক্ষিণ

প্রথম দৃশ্য

পদ বক্র করে, ব্রিভঙ্গ হ'য়ে, কি মনোহর দাড়িয়েছিলে। ঠাকুর ! যদি দাঁড়ালে, তবে তোমার নারদের জদয়মঞ্চের উপর অম্নি করে দীড়ালে না কেন? কি দৃষ্টি! তাতে কত স্রেহ, কত করুণা, কত আকুলতাই ব্যক্ত হচ্ছিল। মরি মরি কি সুন্দর! অঙ্গের পীতিধড়া আর কখনত এমন উজ্জল দেখিনে। কের বনফুলের মালা, আর কখন, এমন অন্দর দেখেছি বলেত মনে হয় না। নিজীব বনফুল যে এত সাব বোধ হতে পারে, তাঃ জান্তাম নাঁ। মনে হচ্ছিল, প্রতোক ফুলটী, বুঝি, চক্ষু মেলে, তোমার অপরূপ রূপমাধুরী, যেমন করে শিশিরবারি পান করে, তেম্নি করে, পান কচ্ছিল। শিখিপুচ্ছ যখন শিখীর দেহে থাকে, তখন তার এমন শোভা হয় না। তোমার ভূষণ হ'লে কি তার এত শোভা, এত সৌন্দধ্য বাড়ে? প্রাণারাম! নারদকে আজ যে অপরূপ রূপ দেখিয়ে মুগ্ধ করেছ, চিরদিন, সেই রূপ দেখিয়ে মুগ্ধ করে রেখ। নারদ আর কিছু চায়না; অন্তরে বাহিরে, স্বপ্পে জাগরণে তোমায় দেখবে, কেবল এই চায়; আর চায়, তোমার শ্রীমুখের বাণী গুন্কে। তুমি তারে ডাক্বে “আয়, আয়, আয়”, আর সে, ছুটে গিয়ে, তোমার চরণে লুটিয়ে পড়বে। ( নেপথ্যে মধুর বশীধ্বনি ) পৃথিবীতে এসেছি, তবুও তোমার বংশীর মধুর ধ্বনি

গন্ধর্বনগর

কর্ণে প্রবেশ কচ্চে। কি মধুর! কি মধুর! যতই দুরে যাই, তোমার বংশীর আকষণী শক্তি কি ততই বুদ্ধি পায়? এস্বর সকলে শুন্তে পায় না কেন, ঠাকুর ? কেবল নারদকে নয়, সকলকেই তোমার এই বংশীপবনি শে!নাও | (চিন্তা করিরা) আমি একি নলচি? ত্ুমিত 'শানাতে ক্রুটা কর না, জীব, মোহে আন্গ ভয়ে, না শুনলে তুমি আর কি করেন? দেখি, নারদ কাধ্যে তোমার সেবকত্র করতে পারে কি না ভাল! ভিমালয়েত এসেছি, এখন গন্ধব্নদেশটা কি করে বার করি। স্খনেচি, হিমালয়ের এই অংশেই মহধি দেবলের আশ্রম একবার তার সান্ছে সাক্ষাৎ ভলে জানবার সুবিধা হয় আই থে নামমাত্র তার দর্শন পেলাম, দিকেই আস্চেন। ঠাকুরেরই দয়া !

( মভষি দেবলের প্রবেশ )

নারদ। মহধি! আপনার তপস্যার কুশলত ?

দেবল। দেবধির দর্শনে সমস্তই কুশল! কি ভাগ্য চটী, আজ, অকস্মাৎ, আপনার দর্শন পেলাম হঠাৎ এই দুর্গম প্রদেশে আগমন জল কেন?

নারদ। প্রভুর আদেশেই এসেচি। আজ প্র আমাকে ডাকিয়ে বলেন; “নারদ! পৃথিবাতে আাবার ধন্মের গ্লানি, অধন্মের অভ্যু্ন হচ্চে, আবার আমি জন্ম

গন্ধববনগর

নেব তুমি যাও, পৃথিবীতে গিয়ে আমার আবির্ভাবের কথা প্রচার কর।” তাই আমি এসেছি

দেবল। আবার জন্ম নেবেন ? ধন্মীরূপে, কক্মীরূপে, বাররূপে, কতদেশে, কতবার, যে জন্ম নিয়েছেন জীবের প্রতি তার এতই দয়া যে, বার বার জন্মগ্রহণের ক্লেশ সহা করেও, বলেছেন “আবার জন্ম নেব” ধন্য তার প্রেম, ধন্য তার করুণা ! ছু্দান্ত হিরণ্যাক্ষ, হিরণ্যকশিপু, রাবণ, কুস্তকর্ণ প্রভৃতি যে সেই কোমল অঙ্গে কত অস্ত্রাঘাত করেছে; সীতাশোকে যে, চোকের জলে বুক ভাসিয়ে, বনে বনে ঘুরে বেড়িয়েছেন; বুদ্ধরূপে যে, অনাহারে, অনিদ্রায় কঠোর তপসা' করেছেন ! তবুও আবার বলেছেন, “জন্ম নেব !” জীবকে কি শেখাচ্চেন যে, জন্মধারণ ক্রেশ- কর নয়; কম্মের জন্যই জন্ম যখন তার ইচ্ছা হয়েছে, তখন জন্ম নিন, তখন আস্তন; পাপে, তাপে জীণ, রোগে, শোকে অবসন্ন মানবের কল্যাণের জন্য আসুন দেবষি! প্রভু, কবে, কোথায়, জন্ম নেবেন তা'কি কিছু বলেছেন ? |

নারদ। না। তা" কিছু বলেন নি; কিছ বলেছেন, সত্য যুগে হিরণাক্ষ, হিরণ্যকশিপু প্রভৃতি অসুরের ভয় ছিল; ত্রেতায় রাবণ, কুস্তকর্ণ প্রাভৃতি রাক্ষসের ভয় ছিল; দ্বাপরে শিশুপাল, দন্তবক্র প্রভৃতি মনুষ্যের ভয় ছিল। তারা সকলেই বিনষ্ট হয়েছে।

প্রথম দুশ্য |

যুগভেদে অসুরের, বাক্সের এবং মানবের অত্যাচার প্রবল ভয়ছিল, তা' লোপ পেয়েছে কিন্কু এই বন্তমান কলিযুগে গন্বনদের প্রাদুর্ভাব ভায়েছে। তাদের আহযাচরের কথা, বারবার, আমার কণে প্রবেশ কচ্চে। তারা মানুষকে রূপযৌবনের আকষণে, ধনমানের প্রলোভনে পথভষ্ট কচ্চে। তাদের অস্ত্র, লৌহের ন্যায় বা প্রস্তরের ন্যায়, কঠোর নয়, পুষ্পের ম্যায় কোমল ; কিন্তু ব্জের জাপেক্ষাও মম্মভেদী। কত সাধবানারী, তাদের প্রলোভনে প্রলব্ধ পতিকে হারিয়ে, কত পুক্রবসল জনক. তাদের আকনণে আকৃষ্ট, আশার স্থল, সন্তানকে হারিয়ে, হাহাকার কচ্চে। আহারে, পরিচ্ছদে, কুচিতে, বাবারে, বাবসায়ে লোকে, নানা! বিষয়ে, তাদের জন্টে উন্মাগগামী ভচ্চে। তাদের মায়ায় লোকে সতোর সরল পথে গমন করে না; বুঝেও বুঝে না, দেখেও দেখে ন|। ধনা দরিদ্র, বিদ্বান মুখ, রাজ! প্রজা, সকলেই, সমভাবে, তাদের মায়ায় মুগ্ধ হয়। তাদেরি মায়ায় বিদ্বান, বিদ)া ছেড়ে, অর্থকর দাসত্ব খোজে ; রাজা, প্রজাদের প্রতি কর্তব্য ছেড়ে, বিলাসে মগ্ন হয়ে থাকে : বণিক, ধন্ম ভুলে, কপটতা, নীচতা করে ধনী হতে চায়; সহদয় বুদ্ধিমান ব্যক্তিও, স্বদেশীয় আচার, ব্যবহার তাগ করে, বৈদেশিক চাকচিক্যে মুগ্ধ হয়। নারদ! তুমি পৃথিবীতে যাও, প্রকৃত অবস্থা কি গিয়ে দেখ! তারাই মানুষকে আকধণ কচ্ছে, না মানুষ, নিজের প্রবৃত্তি অনুসারে,

গন্ধবরবনগর |

হাদের দিকে ছুটে যাচ্চে, ভাল করে গিয়ে পরীক্ষা কর। যদি গন্ধব্বদেরই দৌষ হয়, তবে অস্ত্র এবং রাক্ষসদের মত তা" দিগকেও বিনষ্ট কন্তে হবে আর যদি মানুষই, মতিভ্রান্ত হয়ে, তাদের কাছে ধাবিত হয়, তা? হলে মানুষের বিবেক, মানুষের কর্ঠব্যজ্ঞান, আরও, উদ্বোধিত করতে হবে। প্রকৃত অবস্থা তোমার মুখে শুনে যা কর্তব্য আমি স্থির করুব।” তীর এই আদেশ গ্ুনেই আমি পৃথিবীতে এসেচি। বলুন দেখি, গন্ধবর্ন নগর কোথায় ?

দেবল। প্রভু যা শুনেছেন, তা" অলীক নয়। বাস্তবিকই, লোক, গন্গবননগরের স্রখ সৌন্দব্ের কথা প্ানে, মুগ্ধ তচ্চে দোঁষ গন্ধর্বদের, কি জীবের সে বিচার প্রতৃই কর্ষেবন। কিন্কু লোক যে, দলে দলে, গন্ধব্বনগরে যেতে চায়, তাতে সন্দেহ মাত্র নাই অই দেখুন, এক দল যারী সেই দিকে চলেছে। বালক, বুদ্ধ, যুবা, জী, পুরুষ, উদ্ধস্থাসে, দৌড়চ্চে। ওরা যেরূপ উৎসাহে, যেরূপ স্ফ,ভিতে ছুটেছে, তা'তে ডাক্‌লে যে, শুন্তে পাবে, ফিরে যে কথা কইবে, তা” বোধ হয় না। তবে একটা কোমলাঙগী নারী আর একটা বালক একটু আস্তে আস্তে যাচ্চে ডাক্‌লে, বোধ হয়, শুনে, আস্তে পারে। আপনার অনুমতি হ'লে আমি ডাকি, আপনি ছু? চারটা কথা জিজ্ঞাসা করুন।

নারদ ভাল! ডাকুন; ক্ষতি নাই।

প্রথম দুশা।

দেবল। (উচ্ছৈঃম্বরে ) “ওগো নারি ! অহে বালক! দু'জনে দিকে এস, এক্টা কথা বলব

একটা স্ুবেশা নারী একটা সুবেশ বালকের প্রবেশ

নারী। আপনারা আমায় ডাকলেন কেন? আমি বড় ব্যস্ত, কি প্রয়োজন, শীঘ বলুন

নারদ। তুমি এত বাস্ত হয়ে কোথায় যাচ্চ ?

নারী গন্ধরননগরে |

নারদ। কেন? এদেশ ছেড়ে গন্ধর্বনগরে যাচ্চ কেন?

নারী। দেশে স্তখ নাই ; এদেশে নিত্য উতৎকণা।

নারদ তোমার কি অন্তখ ?

নারী। আমি উপন্যাস পড়তে পাই না; এমন কি নূতন টিকটিকির গল্প গুল পর্ধান্ত পাই না মামিকপত্রের সম্পাদকের যখন ব্যবসাদার তখন তাদের কেবলই উপন্াম লেখা উচিত; কিন্থ তা' নালিখে এ, ও, তা বাজে কথা লেখে। পড়বার মত কিছু পাইনা ; আমি কি নিয়ে থাকি?

নারদ। কেন তোমার কি ঘর সংসার নাই ?

নারী। তার জন্যেত বুড় শাশুড়ী আর বিধবা ননদ রয়েছেন। তারাই দেখুন না, আমার কি দরকার ?

গন্ধববনগর |

নারদ। তোমার মস্থখের কারণ বুঝলাম, কিন্ত উত্কার কারণ কি?

নারা। আমার স্বামা বিদেশে থাকেন।

নারদ অবশ্য জন্য তোমার উত্কণা হ'তে পারে; তুমি কি তার সংবাদ পাওনা?

নারা। না পানারই মধ্যে ; প্রতিদিন এক খানি বই পত্র আসেনা তাও কি ছাই পরের মত পত্র? তাতে থাকে কেবল “মার শরার ভাল নয়, বাসনের পাঁজ। নিয়ে যেন পড়ে না যান; তুমি বাসনগুলি মেজো,” | “দিদি এই সে দিন বিধবা হয়েছেন, একাদশী কর! তার এখন€ অভ্যাস হয়নি, আর কোন দিন রীধতে ন৷ পার, দ্বাদশীর দিন সকাল বেলাট! তুমি রেঁধ।” কেবল এই রকম কগা এর নাম কি পত্র?

নারদ। কিরূপ পত্র পেলে তোমার উৎকণ্ঠা দুর হয় ?

নারা। শুনুন; পত্রের পৃষ্টা হবে ন্যুন কল্সে ষোলটা; তাতে পাঠ থাকবে প্রাণেশ্বরী নয় “কায়মন- বাকোর অধাশ্বরা” ; নাম স্বাক্ষরের পুর্বেব থাকবে কেবল মাত্র তোমারি নয়, তোমারি তোমারি তোমারি ।” পত্রে অশ্রুচিত্ন থাক্বে, তান্ুলরঞ্জিত অধরের সংযোগচিত থাক্‌বে। প্রত্যেক তৃতীয় পংক্তিতে থাক্‌বে হয় রোমাঞ্চ, নয় কটাক্ষ, না হয় চন্বন ইত্যাদি প্রেমিকজনোচিত শব্দ। আর সর্বশেষে থাক্বে,

প্রথম দৃশ্য।

ক্ষিম অশ্রুচিহ্ন পত্রে, আনন্দে বহিছে অশ্রুধারা” কিন্বা “থাকিব নিরখি পথ স্থিরআাখি হয়ে উন্তরার্থে” এরূপ পত্র ন! পেলে কি উৎকণ্টা দুর হয় ? নারদ গন্ধববনগরে গেলে কি তুমি এইরূপ পত্র পাবার আশা কর ? নারা। সেখানে যখন বিরহই নাই, তখন পত্রেরও প্রয়োজন নাই ? কিন্তু আমার সময় যাচ্চে, আমি বিদায় নি? তার পুর্বে আমার মনের কষ্ট সম্বন্ধে একটা গান তয়ের করেছি শুনুন ;- সঙ্গীত আমি কুলবালা ; হয়ে ঝালা পালা, ছুটেছি, দেখি কোথা ঘোচে জালা হার! নীরম অতি আমার প্রাণের পতি ; নাটুকে প্রেমে তার নাহি মতি) তাই শুকার, নিতি, বত গাঁথি মালা নারীর প্রস্থান। দেবল। বালক! তুমি গন্ধর্বনগরে যেতে চাও কেন? বালক আগে বলদেখি, তুমি কোন ইন্কুলের পপ্ডিত কিনা! এর পর এক স্কুল থেকে আর এক স্কুলে কাজ পেয়ে আস্বে, আর তখন ঝাল ঝাড়বে।

১৩ গন্ধর্বনগর

দেবল। না বাপু! আমি পণ্ডিত নই, পণ্ডিতী কর্‌- বারও আমার সম্ভাবনা নাই। তুমি, স্বচ্ছন্দ, আমাকে তোমার মনের কথ! বল্তে পার।

বালক আমার আর ভাল লাগে না; ভ্বালাতন হয়েছি, সেই জন্তে বাড়ী ছেড়ে পালাতে চাই

নারদ। তুমি বালক, তোমার এমন কি কষ্ট হল? বাপ, মা ছেড়ে কেন পালাতে চাও ?

বালক। তুমি, ঠাকুর ! তা” কি বুঝবে? বাঁপ, মাই যত কষ্টের মূল। দিন নাই, রাত নাই, কেবল বল্বেন “পড় পড় পড়”। পৃথিবাতে যেন আর কাজ নাই। হকি আছে, ফুটবল আছে, টেনিস আছে, ব্যাডমিণ্টন আছে, সার্কাস আছে, ঘুড়ী আছে, পায়রা আছে, ঘোড়- দৌড় আছে, চু কবাটা আছে, নৌকায় বাচ খেলা আছে; সে গুলর দিকে দৃষ্টি নেই, কেবল পড় পড় পড়। বার্ডসাই খেলে মান্তে আস্বেন, পান খেলে ধম্কাবেন, সোজা সিঁতি কাটুলে বল্বেন “ছি ছি! বাবু হওয়া কি ভাল ?” আমরা তবে করব কি? ঘরেত এই জ্বালা, স্কুলে এর দশ গুণ ভ্রালা। আর তুমি বলচ কষ্ট কি?

নারদ। কেন স্কুলে কি কষ্ট?

বালক কখন বুঝি স্কুলে যাঁওনি ? বুঝবে কি? সেখানে এম্নি কড়াকড়ি যে, চুরট, বিড়িট। দূরে যাঁক্‌, চানাচুর, ঘুগ্নিদানাটা খাব তারও যো নাই। তার

প্রথম দুশা। ১১

উপর কি পড়তে হয় তা” জান? ভূগোল বলে একখানা বই আছে, তাতে সব অন্ভুত অদ্ভুত যায়গার নাম আছে। একটা দেশ আছে, তার নাম কামচট্কা, সেখানে একটা অন্তরীপ আছে তার নাম লে।পট কা ; চীন দেশে দুটো নদী আছে, একটার নাম হোয়াংহো, একটার নাম ইয়ং- সিকিয়াং; স্পেনে আর ছুটো নদী আছে, একটার নাম গোয়াড়িয়ানা আর একটার নাম গোয়াডালকুইভার ; এক সমুদ্রে একটা দ্বীপ আছে, তার নাম ম্যাডাগাক্কার, তার রাজধানার নাম আণ্টানানারিভো ; পঞ্জাবে দুটো সহর আছে একটার নাম ডেরাগজি খা, একটার না ডেরাইসমইল খা; এই গুলো সব মুখস্থ করতে হবে। তারপর ইতিহাস; হাজার বচ্ছর আগে কে এক বেটা জন্মেছিল, তার নাম অলগুজিন, তার জামাইএর নাম সবক্তজিন, তার বেটার নাম মামুদ। দে আঠার আঠার বার এই ভারতবর্ষ আক্রমণ করেছিল। কখন কারুর গরু চুরী করেছে, কখন মন্দির ভেঙ্গেছে, কখন ঘরে আগুন দিয়েছে। গুল সব, একটার পর একটা, আমাদের মুখস্থ রাখতে হবে। আবার সকলের চেয়ে ভ্বালা সংস্কৃতটা। ছুটো ই, দুটে! উ, ছুটো৷ জ, দুটো ন, দুটো ব, আবার তিন তিনটে শ। একি ঠিক করা মানুষের কাজ? তান! হয় করি; তিনটে চারটে অক্ষর জুটে তবে একটা উচ্চারণ হবে। উদ্ধী; একে দীর্ঘউ

টি গন্ধব্বনগর |

তারপর দয়ে, ধয়ে, বয়ে; আবার তার উপর একট! রেফ একটার কীধে একটা, তার কাধে আর একটা, তার উপর একটা নিশেন ধরে দীড়িয়ে আছে; যেন সার্কাসে বাজী দেখাচ্চে এর উপর লট, লোট, লিট, ল্‌ট্‌. লুউ, বিধিলিউ, আশীলিও কত রকমই যে আছে, তার ঠিক নাই। এক অতীত কাল, তাতে কখন হবে লিট্‌, কখন হবে লঙ$, কখন হবে লুউ্‌। হন ধাতু ; তার উত্তর অল কল্পে হবে বধ, ঘঞ কলে হবে ঘাতি, আবার কাপ কল্পে হবে হত্যা ন! আছে বিধি, না আছে, নিয়ম ভাধা মানে স্ত্রী, সেটা স্ত্রীলিঙ্গ ; কলত্র মানেও স্ত্রী, সেটা র্লীবলিল্গ ; আবার দার মানেও স্ত্রী, সেটা হুল পুংলিঙ্গ। সকলই অদ্ভুত তাও কি, ছাই সব ভাষার এক নিয়ম ? ইংরেজীতে পড়লুম্‌ 9109 স্ত্রীলিঙ্গ ; তাই বল্পলুম বলে পণ্ডিত মহাশয় বেত মেরে বল্লেন চন্দ্র শব্দ অকারান্ত পুংলিঙ্গ 1 ইংরেজীতে পড়লুম 1:8067 1197 পণ্ডিত মহাশয় বল্লেন মাতগর্গে সপ্তাহে সপ্তাহে ০১610159 ; মাসে মাসে পরীক্ষা; পাস দিতে গেলে আগে টেফট- পরীক্ষার বৈতরণী পার হ'তে হয়; এতে যদি মানুষ জ্বালাতন না হয় তবে আর হবে কিসে? দিন রান্তির আমাদের পেছু “পড় পড়” বলে না লেগে গুল সব তুলে দ্রিলেত ভাল হয়। যারা পাশ করেছে, তাদেরও বানান ভুল হয়, ব্যাকরণ ভূল হয়, আর যারা পাশ করেনি,

প্রথম দৃশ্যা। ১৩

তাদেরও হয়। পাশ করা না করাত সমান ? তবে এত পীড়াপীড়ি কেন? দরকার মত টাকা নাও, আর বলে দাও “পাশ করেছে”। তোমরাও খুসী, আমরাও খুনী

নারদ গন্ধর্ননগরে কি সকল উৎপাত নাই ?

বালক। কিছু মাত্র না। সেখানে রেতে ঘুম আর দিনে ফুটবল খেল! ; মাঝে মাঝে চা আর গল্প। 1২02১), 55900180101 যে খেল! ইচ্ছে তাই খেলাতে পার। রাজসরকার থেকে বল দেয়, কিন্তেও হয় না। কিন্তু তোমাদের জন্যে আমার বড় দেরি হল। দিদির সই, এতক্ষণে, অনেক দুর গিয়েছেন আমি চল্লুম; যাবার সময় একট| গান শুনিয়ে যাই ;

আমি সেথায় চলেছি; আমি বেড়ে ধুলো, কেতাব গুলো শিকের তুলেছি। সেথায় মোহন বাশীর স্থরে, নৌ বে বে। লাটিম ঘুরে, (সেথায়) মাব বলে, কাণটা মলে, দিব্যি গেলেছি। পাস্টা সেথার টেষ্ট বিনে, মাষ্টার দেন তানউা! কিনে, যাবার আশে সেই স্বদেশে সকল ভুলেছি। বালকের ড্রুতবেগে গমন

_দেবল। দেবষি!' এইরূপ সহত্র সহজ লোক, কল্পিত সুখ দুঃখের জন্যে, প্রতি দিন, গন্ধববনগরের দিকে ছুটেছে। আপনি সেখানে গিয়ে স্বচক্ষে দেখুন, সমস্ত বুঝতে পার্বেন। সম্মুখেই মন্দাকিনী নদী, তার উত্তর

১৪ গন্ধর্বনগর |

তীর দিয়ে পূর্ব মুখে গেলেই গন্ধর্বনগর দেখতে পাবেন। আমার সায়ংকৃত্যের সময় হল, আমি আসি। প্রত্যাগমনের সময় আমার আতিথ্য গ্রহণ কলে পরম স্থখী হব। দেবলের প্রস্থান। নারদ। (পরিক্রমণান্তে) অইত গন্ধব্বনগর দেখা যাচ্চে। আমি, ওখানে গিয়ে, একবার, গন্ধবর্বরাজের সঙ্গে দেখা করি। তা হ'লেই প্রকৃত অবস্থা জান্বার আমার স্থবিধা হবে। দেবতা, অস্থুর, গন্ধবর্,, মানুষ, যেই হউক, ঠাকুর! তোমার কৃপায় নারদের কেউ শত্রু নাই। যেখানেই যাই, আদর, অভ্যর্থনা পাই; আর যদি ঘ্বণা, উপেক্ষা, উৎগীড়ন পাই, তাতেই বা ক্ষতিকি? তোমার জন্য সবই সহ্য কর্ুব। অইনা কে ছু'জন দীড়িয়ে আছে, দেখ যাচ্চে। বেশ ভূষা এবং ভাবভঙ্গী দেখে ওদিগকে গন্ধববী বলে বোধ হচ্চে। ভালই হয়েছে। এই মন্দাকিনী তীর * দিয়ে গিয়ে, প্রথমে, ওদের সঙ্গে দেখা করি। নারদের প্রস্থান

* এই মন্দাকিনী হ্বর্গগঙ্গা নহে। হিমাচলস্থিত সবনামপ্রণদ্ধ নদী বিশেষ।

দ্বিতীয় দৃশ্য

মন্দাকিনী তীরবর্তী গন্ধর্র্বনগরের সম্মুথস্থ উপবন উজ্জবলবেশে পুষ্পাভরণে শৌভিতা গন্ব্বীদ় দণ্ডায়মানা

উভয়ের সঙ্গীত

এটা গন্ধর্বদের দেশ : হেথা নাই কল্‌হ, নাই কোলাহল, নাহি দ্রঃখলেশ। এদেশ সদাই অভিরাম, হেথ| নাহি শ্রমের নাম, অন্নবস্ত্র তরে হেথা নাহি ঝরে ঘাম; হেথা, দিবানিশি, সবাই খুসী, ছোটে হাঁসির রেশ। অই হাহা হা হাহা! শোন হাসির গর্‌ র্‌ রা টা, অই নাচের তালে সবাই বলে বা! বাঁ! বা! হেথা নাই পাকা টুল, মবার মাথায় টাচর, চিকণ কেশ। কর্‌ ফুরু ফর ঝুর্‌ ঝুরু ঝুর্‌ মলয় হেথা বয়) জুই মালতীর গন্ধে হেথা দেশটা মধুময় ) হেথা অনন্ত বসন্ত খতু না হয় কভু শেষ। ফুলের পাতায় গুয়ে হেথায় দিনটা কাটে ঘুমে, রাতটা কাটে কি বল্ব আর, প্রিয়ার বদন চুমে ) যদি সুখ পেতে চাও এস হেথায়, পর মোহন বেশ

১৬ গন্ধর্ববনগর |

১মা। সই! সর্বনাশ করেছি; দু'জনে কি গান গাচ্ছি ? কে অই শুন্তে শুন্তে এদিকে আস্চেন, দেখতে পাওনি ? সর্বনাশ করেছি, কি হবে?

২য়া। কে আস্চেন?

১মা। কে আর ৭স্বয়ং নারদ মুনি মহারাজ যে অই সব লোকের কাছে রকম গান কত্তে, একবারেই, বারণ করে দিয়েছিলেন। অই দেখ, মন্দাকিনীর তীর দিয়ে এদিকেই আস্চেন ; গানটা যদি কাণে প্রবেশ করে থাকে, তা হলে আজ অনেক লাঞ্কনা পেতে হবে।

তাইত! গাছের আড়াল পড়েছিল বলে দেখতে পাইনে। কিন্তু এত কাছ থেকে উনি কি আর শুন্তে পান্নি? তার উপর নিজে একজন অদ্ধিতীয় গায়ক; বাতাসে স্থুরটা উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে কাণটা যে খাড়া হয়ে উঠবে। উনি নিশ্চয়ই শুন্তে পেয়েছেন

১ম। তা” হলে উপায়?

২য়। উপায় আর কি? উনিত কারুকে অভিশাপ দেন্‌ না; দুটো চাট উপদেশের" কথা বলবেন। কাণ পেতে শুন্ব, তার পর যা চিরকাল করি, তাই কর্ব।

১ম। এস ওকে তাল দেখে গোটা কত ফুল তুলে দিই, যদি তাতে মনটা ঠাণ্ডা হয়। _ ২য়। ফুল দিয়ে না উনি নন। দুটো চারটে তুলসী পাত৷ দিতে পার্লে বরং

দ্বিতীয় দৃশ্য ১৭

কাজ হত। কিন্তু গন্ধব্বনগর ওলট পালট কল্লেও কোথাও একটা তুলসীগাছ দেখতে পাওয়া যাবে না। পৃথিবীর আর সকল জায়গার মত এখানেও পাতা বাহারের ছড়াছড়ি। যা হক, এস, দেখি, যদি খু'জে পেতে একটা তুলসীগাছ পাই। কিন্তু তার আগে, এস, দুজনে স্থরটা বদলে নিই। ১মা। বেশ বলেছ, এস!

রাগিণী--খট্‌ ) তাল__কাওয়ালী।

গেল গেল বৃথা জীবন;

স্মর গোবিন্দ, গোবিন্দ, গোবিন্দ-চরণ।

সুখ সম্পদ কিছুই কিছু নয়,

বিলাস-রসে কভু না ঘে'চে ভবভয়

বারেক অন্তরে দেখহ, ধ্যান ধরে,

মুরলী লয়ে করে শ্রীরাধা মোহন

' গন্বব্বাদঘয়ের পুষ্পাহরণ। নারদের প্রবেশ।

নারদ আমাকে দেখেই এরা সুরটা ব্দূলালে ! ভেবেছে, আমি ওদের আগেকার গানটা শুন্তে পাইনে। এইটাই দেখ্‌চি গন্ধরবর্দের বিশিষতা ; অস্থুর কিন্বা রাক্ষম এমন মায়া জানে না। নিজেদের রাজ্যের কি মনোমুগ্ধকর বর্ণনাই কল্পে। বল্পে কিনা সেখানে শ্রম করতে হয় না, ঘুমে আর ইন্দ্রিয়সেবাতেই দিন

১৮ গন্ধর্বনগর |

গত হয়। এইটাই কি স্তুখ? কিন্তু হায়! এমন সহশ্র সহত্ম লোক আছে, যারা আলস্য আর ভোগকেই পরম পুরুষার্থ মনে করে তারা যে গন্ধবর্বদের কুহকে মুগ্ধ হবে, তাতে বিস্ময় কি? যা হ'ক যখন এসেছি, তখন ভাল করেই দেখে, শুনে যাব। এখন ওরা যে বিষ ঢেলে দিয়েছে, তার একটু প্রতিক্রিয়া আবশ্যক

সঙ্গীত। রাগিণী-বাগেশ্রী। তাল-_আড়াঠেক1। রয়েছ প্রমন্ত, জীব! কি সুখ,বাসন! লয়ে? অমৃত-সাগর তাজি ক্ষার জলে মগ্ন হয়ে। বত ঢালি হুতাশনে নিবা?তে বাদনা মনে, লালসা কি ভোগ সনে যাবে ভাবিছ হৃদয়ে আত্মারূপে ভগবান তোমাতেই বর্তমান, কেমনে মহাজ্ঞান আছ ভুলিয়ে ; লভিয়া ছুল্লভ জন্ম যদি না সাঁধিলে ধর্ম বৃথা যে হইবে কর্ম, রবে পশুসম হয়ে _ পুষ্পসংগ্রহান্তে গন্ধব্বীদ্য়ের প্রণাম। উভয়ে। দেবষি! প্রণাম করি। নারদ। তোমাদের ধর্মপথে মতি হ'ক, নারায়ণ তোমাদের অন্তরে প্রকাশিত হন। উভয়ে। আপনার জন্য আমরা এই কেমন সুন্দর ফুল এনেছি, এই নিন,

দ্বিতীয় দৃশ্য ১৯

নারদ দেখিকি ফুল? যে দেখচি নৃতন রকমের, এগুলির নাম কি?

১মা। এর নাম পপি, এর নাম পান্নি, এর নাম কলিঅপসিস।

২য়া। এর নাম ক্রিসানথিমম্‌, এর নাম মোরগঝুটী।

নারদ। গুলিতে গন্ধ আছে?

১মা। আজে না।

নারদ। এতে মধু আছে?

২য়া। না। এক্টু আধটু থাকৃতে পারে।

নারদ ফুলে দেবতার পুজা হয়?

১মা। না।

নারদ। তবে আমার জন্যে ফুল এনেছ কেন? দেখচি, চাদ্দিকে কেমন সুন্দর জবা, কেমন স্থন্দর মল্লিকা ফুটে আছে; তাই আন্লে না কেন ?

১ম। সব ফুলের এখন আর চলন নাই। অনেকে বলেন, জবা দেখলে তীদের কালীমার জিব বার করা মনে পড়ে; আর সবুজ পাতা দুটার মধ্যে মল্লিকা ফুলের কুঁড়িটী দেখলে তাদের মনে হয় শ্যাম স্বন্দর দাত বার করে রয়েছেন। এই জন্যে আমরা আপনাকে সকল ফুল দিতে ভরসা করিনে, এখনকার পছন্দসই ফুলই দিয়েছি। |

নারদ। নানা! আমরা সেকেলে মানুষ, আমাদের

২০ গম্বর্ববনগর |

সেকেলে পছন্দ। আমাদের কাছে জবা, করবী, মল্লিকা এই সকল ফুলই ভাল। এখন বল দেখি, তোমরা! প্রথমে কি গানটা গাচ্ছিলে?

(পরম্পর অনুচ্চম্বরে ) ওলো ! যা ভেবেছিলাম, তাইত হল; এখন দেখা যাক্‌ কি হয়।

১মা। সেগান আপনার শোন্বার যোগ্য নয়।

নারদ। যদি শোন্বারই যোগ্য নয়, তবে গাচ্ছিলে কেন?

২য়। আপনার শোন্বার যোগ্য নয় কিন্তু এমন হাজার হাজার লোক আছে, যারা সেই রকম গানই চায়। আমর! তাদের শোন্বার জন্যেই গাচ্ছিলাম।

নারদ লোকে কি অই সকল গান শুন্তে চায়? এমন লোক কত আছে ?

১ম। অসংখ্য ভাল গান শোন্বার লোক যদি থাকে দশজন, রঙ্‌ তামাসার গান শোন্বার লোক আছে দশ হাজার জন।

নারদ তোমরা কি নিজে এরকম লোক দেখেছ ?

২য়। না দেখলে কি আর আপনাকে বলছি? প্রতিদিনই দেখি; এই কদিন আগে যা দেখেছি, শুনুন। পুর্ণিমার দিন আমোদপুরের গোপীবল্লতজীর দৌলযাত্রায় মহা ধূমধাম হয়। শুন্লাম, এবওসর, সেখানকার বাবুরা কেবল আবীর, কুস্কুম আর গোলাপজলের জন্যে হাজার

দ্বিতীয় দৃশ্য ২১

টাকার উপর খরচ করেছেন। শুনে আবীরখেলা দেখতে আমাদের ছু'জনার বড় সাধ হু'ল। তুলসীর মাল! গলায় দিয়ে, তিলকসেবা করে, নামাবলী গায়ে, দু'জনে গিয়ে দৌলমঞ্চের কাছে দীড়ালাম। দেখলাম, চারদিক লালে লাল হয়ে গিয়েছে। বুড় কন্তাটার মাথার সাদা চুল গুলি লাল পশমের টুপির মত দেখাচ্ছে দোলমঞ্চের মধ্যে গোপীবল্পভজী, শ্রীরাধিকাকে বামে নিয়ে, রূপোর দোলচৌকীতে দুল্ছেন। সর্ববাঙ্গ দোণার অলঙ্কারে ভূষিত; বড় শোভা হয়েছে; দেখে, মনের উচ্ছাসে, আমরা, তক্তিভরে, গান ধল্লাম; - বাউলের স্থর। আমার দেহ-বুন্দাবন আমার আত্মা তাহে শ্রীরাধিকা, কৃষ্ণ ব্রহ্ম সনাতন শোভে শ্রীকরে বাশী, শোভে শ্রীমুখে হাসি, উজলে নিকুপ্ত যেন জ্যোছনা-রাশি ;

বাশী রাধা, রাধা, রাধা নামটা করে সদা উচ্চারণ।

নারদ! কিতুন্দর! কি সুন্দর! এমন সব গান তোমরা জান, তা না গেয়ে কি গান গেয়ে বেড়াও ? নিজেরাও পতিত হও আর জীবকেও পতিত কর। এখন বল, তার পর কি হল।

২য়া। তার পর বাড়ীর কর্ত/টী গান শেষ না হতে হতেই বল্লেন, “থাক্‌ থাক্‌, আজ (দালের দিন, দশ জনে

২২ গন্ধবর্বনগর |

আমোদ প্রমোদ কর্বে, আজ সকল তত্বকথা থাক্‌” এই বলে তার উড়ে খান্সামাকে ডেকে হুকুম দিলেন, “অরে জগ্গা ! বঙ্ুমী মাগী দুটোকে ছু'মুটো চাল আর. এক একটা পয়সা দিয়ে বিদেয় কর্‌।৮

নারদ। বটে! কত্তাটার বয়স কত?

১মা। এই আপনার বয়িমি হবেন; দু'এক বছরের বড় ভিন্ন ছোট হবেন্‌ না

নারদ। তার পর তোমরা কি কল্লে ?

১মা। আমরাত লজ্জায়, মাথা হেট করে, সেখান থেকে পালালাম। তার পর সই বল্লেন, “এ দেখছি: মহারাজের ভক্ত প্রজা, স্থবিধ! পেলেই গন্ধববনগরে যাবে চল, অন্য সাজে দেজে এর কাছে যাই।” এই ঠিক্‌ করে, খ্যাম্টাওয়ালী সেজে, পেস্ওয়াজে, ওড়নার ঝক্‌ মক্‌ কর্তে কত্তে, সন্ধ্যের সময়, কত্তাটীর কাছে খবর পাঠালাম। খ্যামটাওয়ালী এসেছে শোন্বামাত্র কত্তা, নিজে, এসে দেউড়ী থেকে, আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। , আমাদের দেখে কত্তার চোকে আর পলক পড়ে না। রূপোর পিচ্‌কিরী নিয়ে স্বহন্তে আমাদের বুকে, মাথায় গোলাপ দিলেন। “বড় আনন্দের দিনে, আপনারা, ভাগ্যগ্তণে, পঁহছেছেন”” এই বলে একেবারে গদ গদ হলেন। সঙ্গে সঙ্গে চক্বন্দী বাড়ীর উঠনে ফরাস বিছানা পড়ল। যত লোক, গোপীবল্লভজীকে ছেড়ে

দ্বিতীয় দৃশ্ট। ২৩

সেখানে এসে বসল। গরীব পুরুত ঠাকুরটা, কেৰল ঠাকুরের শীতল দেবার জন্যে, একা মঞ্চের ভিতর বসে রইলেন। আমরা, আসরে নেমে, এমনি করে নাচতে নাচতে, গান ধল্লাম ;

রাগিণী বিঝিট খাম্বাজ, তাল-_কাওয়ালী। তারে ভূলি কেমনে ? মোহন মূরতি তার আকা মরমে। হানিয়ে নয়নবাঁণ আকুল করেছে প্রাণ, ঢেলে দেব কুলমান তারি চরণে ত্যজি গৃহ, ভয়, লাজ, ছুটিব খুঁজিতে আজ হৃদয়-ধনে ) তনু হ'ব জর, জর, কি স্থখে করিব ঘর্‌? আঁপন হয়েছে পর তারি কারণে এই গান শুনে কত্তার পারিষদেরা একেবারে “বাহবা ! বাহবা !” করে উঠ্ল। আর কত্তা দু'হাত থেকে দুগ্টী আংটা খুলে দু'জনকে দ্রিলেন। তখনই লোক জনকে ডেকে বল্লেন “আমার বটুকখানার পাশের ঘরে এখনই পাখার বন্দোবস্ত কর, ও'রা রাস্তিরে সেই ঘরেই থাকৃবেন। দেওয়ানজীকে বল্লেন, “গোপীবল্পভজীর শীতলের জন্যে যে রাব্ড়ী আর ছানার পায়েস দোলমঞ্চে পাঠান হয়েছে, তা আনিয়ে ও'দের জন্যে আগে পাঠাও ) পরে, আবার আনিয়ে, গ্রোপীবল্পভজীকে দিও; বেশী বাত্তির হলে ওদের কষ্ট হবে” একজন মো সাহেব

২৪ গন্ধর্বনগর

শুনে বললে, “কর্তা ঠিকই বিবেচনা করেছেন। গোপী- বল্পভজী আর হাত বার করে রাবড়ী, পায়েস খাবেন না; খাবে অই বামুন বেটারা তাদের এক্টু দেরি হলে ক্ষেতি কি?

এখন আপনি বলুন, আমরা লোককে ভক্তিকথা শোনাব না নয়নবাণের কথা শোনা ? আপনার মত ভক্ত কেউ নাই, আর ভক্তির গানও অমন কেউ কন্তে জানে না। আপ্নি নিজে একবার দেখুন, পৃথিবীর কণ্টা লোক আপনার গান শুন্তে চায়।

নারদ। শুনুক্‌ আর নাই শুনুক্‌, যখন পেয়েছি, জিহ্বা পেয়েছি, তখন তার কথা গান কর্বই কর্ব। তোমরাও তাই কর।

১ম। তাহলে আপনি দেবর্ষধি আর আমরা গন্ধব্বী হয়েছি কেন? স্থির প্রথম থেকে এই প্রভেদ চল্চে ; চিরদিনই চল্বে। আপনার কাজ আপনি করুন, আমাদের কাজ আমরা করি। আপনি আর আমরা, সকলেই, এক কাজ কর্ব, তা কখনই হবে না। এখন অনুমতি হলে আমরা বিদায় নিতে পারি। আপনার আগমনে আমরা আজ মহারাজের কোন কাজ কত্তে পারিনে ; রাজকাধ্যের ব্যাঘাত হচ্চে

নারদ। তোমাদের কি কাজ?

২য়। মহারাজের প্রজা-সংগ্রহ।

দ্বিতীয় দৃশ্ঠ ২৫

নারদ। কিরূপে তোমরা কাজ কর ? ১মা। গন্ধববনগরের শোভা আর স্তুখ বর্ণনা করে। নারদ। আর কিছু নয়? তাতেই এত লোক

আকৃষ্ট হয়।

২য়। তাতেই এত লোক আকৃষ্ট হয়। আমরা মহারাজের আদেশে নগরে প্রান্তরে, মন্দিরে মস্জিদে, বিষ্ভালয়ে বিচারালয়ে, যেখানে স্থবিধা পাই, গন্ধবর্বরাজ্যের স্থখ, সৌন্দধ্য বর্ণনা করি; গৌরব ঘোষণা করি; আর দলে দলে লোক এসে আমাদের মহারাজের প্রজাত্ব স্বীকার করে। এখন আমরা বিদায় নি! নারদ। এস" তোমাদের কাজ তোমরা কর, আমিও আমার কাজ কর্ব। আমি তোমাদের মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাত কত্তে ষাচ্ছি। নারায়ণ তোমাদের স্মতি দিন্‌। প্রণামান্তে উভয়ের প্রস্থান

সন্কীর্তনের স্থুরে।

নারদ। হরি! মধুর মধুর, মধুর মধুর, মধুর তোমার নাম; নাম স্মরণে, মননে, কথনে কীর্তন পূর্ণ হয় মনস্কাম।

হরিনামে মধুক্ষরে, নামে সুধা বরে, শুনিলে জুড়ায় প্রাণ; নাম অঙ্গের ভূষণ, আতপে চন্দন,

নাম মম সুখধাম।

২৬

গন্ধর্ববনগর | মরমরি শাখী, কুজনিয়া পাখী ঘোষে এই হরি নাম) অনলে, অনিলে, ভূধরে, সলিলে (ওঠে) হরিনাম অবিশ্রাম। নামের মহিমা, নামের গরিমা, কে করিবে পরিমাণ? প্রভো! এতবৰ সেবক, অবোধ বালক, তারে কি হইবে বাম? (মুড অধম বলে) নারদের প্রস্থান

তৃতীয় দৃষ্ঠ। গন্ধবরবরাঁজের সভা সিংহাসনে গন্ধবর্বরাজ।

চতুদ্দিকে গন্ধব্ব গন্ধবর্কীগণ।

রাগিণী-_খাম্বাজ, তাল__কাওয়ালি।

গন্ধর্বগণ।

গন্ধবর্বাগণ। গন্ধর্বগণ।

গন্ধবর্বীগণ। গন্ধর্বগণ।

গন্ধববীগণ। গন্ধর্বগণ

গন্ধবর্বীগণ। গন্ধর্বগণ।

গন্ধবর্বীগণ।

সবে, আয় আয় আয়! সবে, আয় আয় আয়!

মরম বেদনা কেন সহিছ বুথায়? হেথা কি শোভা অতুল,

ফুটেছে বিবিধ ফুল,

মাতোয়ারা অলিকুল গুন্‌ গুন্‌ গায়। হের অই নীলাকাশে

তারা সনে শশী হাসে,

ডেকে তবে লও পাশে ভালবাস যায়। ভোগ-স্থখ, ধন, মান

দু'হাতে করিব দান,

এমন স্থখের ধাম না পাঁবে কোঁথায়। ভুলি রোগ, শোক, জরা

এস, হেথা, এস ত্বরা ;

নগরী স্থুথে ভরা বিদিত ধরায়।

২৮ গন্ধর্বনগর |

নারদের প্রবেশ।

গন্ধর্বরাজ ( নিংহাসন ত্যাগান্তে দণ্ডায়মান হইয়া) দেবর্ষি! প্রণাম করি; আজ আমি ধন্য; আজ আমার সুপ্রভাত যে, গন্ধবর্বনগরীতে আপনার পদধূলি পড়েছে

নারদ (স্বগত) আদর, অভ্যর্থনা বেশ; কিন্তু প্রবেশের সঙ্গে যে সঙ্গীত শুন্লাম তাতেই প্রকৃত আচরণ বুঝ্তে পাচ্চি। ( প্রকাণ্ঠে ) গন্ধববরাজ ! কল্যাণ হ'ক; তোমার রাজ্য ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত হ'ক। প্রভুর আদেশে আমি তোমার কাছে এসেছি। যদি তোমার অন্য কাধ্যের ব্যাঘাত না হয়, তা'হলে, আমি তোম।কে আমার আস্বার উদ্দেশ্য বল্তে পারি।

গরা। একে প্রভুর আদেশ তার উপরে আপনি দূত; আপনার কথা শোন্বার চেয়ে আমার আর কি বড় কাজ থাক্‌তে পারে ? কি বল্বেন, আজ্ঞ। করুন্‌।

নারদ প্রভু শুনেছেন যে, তোমার কাধ্যে পৃথিবা অধর্মে, অসদাচারে পু হয়েছে। তুমি তোমার অনুচর আর অনুচরীদিগের সাহায্যে, -রূপযৌবনের আকর্ষণে, ধনমানের প্রলোভনে, জীবকে কুপথগামী কচ্চ। যদি তুমি সতর্ক না হও, হিরণ্যাক্ষ, রাবণাদির ম্যায় তুমিও বিনষ্ট হবে।

গ-রা। যিনি এক রা এই ব্রহ্মাণ্ড বিনষ্ট কত্ত পারেন, হুর গন্ধবর্ররাজকে বিনষ্ট করা তীর পক্ষে কিছুই

তৃতীয় দৃশ্য ২৯

কঠিন নয়। কিন্তু তার পূর্বেন যেন তিনি সূর্য্য, অগ্নি, যম প্রভৃতিকে বিনাশ করেন, তা না হলে তীর ন্যারসঙ্গত বিচার হবেনা

নারদ। কেন? তিনি সুধা, অগ্নি, যমকে বিনাশ কর্বেবন কেন?

গ-রা। সুরধ্য কত স্ন্দর স্বুকোমল ফুল, কত পুষ্ঠিকর বীজ শুষফ করে দিচ্চেন, অগ্নি কত গ্রাম, নগর, দেশ ভস্মসা কচ্চেন, যম জীবের শরীরে প্রতি নিয়ত জরা, বাধি সঞ্চার কচ্ছেন, তারাও জীবের শক্র।

নারদ। না। তারা জীবের শক্র নন; তারা জগতের মঙ্গলের জন্যই এইরূপ কচ্েন।

গ-রা। দেবর্ষি! এই ক্ষুদ্র গন্ধব্বরাজও যা কচ্ছে, জগতের মঙ্গলেরই জন্য প্রভূ সূর্ধাকে যেমন আলোকের, অগ্নিকে যেমন উত্তাপের এবং যমকে যেমন ব্যাধির দেবতা করেছেন; আমাকেও তেমনি মোহের দেবতা করেছেন। রূপের মোহ, ভোগের মোহ, ধনের মোহ, সম্মানের মোহ, সকল মোহের, তার আদেশে, আমি প্রেরণা করি। কিন্তু না কলে তীরস্যটি থাকৃত না। যে মলর্েদলিগ্তা শুকরীকে দেখে লোকের ঘবণা হয়, শুকর তারই পম্চা পশ্চা ধাবিত হয়, তারই জন্য অপর শুকরকে দন্তাঘাতে বিদীর্ণ করে; নিজেও তা"র দন্তাঘাতে বিদীর্ণ হয়। যে শ্সেন্সাপুরীষ দেখলে লৌক

৩০ গন্ধর্বনগর

ঘৃণায় মুখ ফিরোয়, কত প্রাণী তারই আস্বাদে তৃপ্তি লাভ করে। যে গলিত দেহের দুর্গন্ধ লোকের গীড়া উৎপাদন করে, তারই মাংস ভোজনে কত জীবের বল বৃদ্ধি পায়, জীবন রক্ষা হয়। অষ্টাও যেমন এক, স্ৃষ্টি- কাধ্যের নিয়মও, তেমনই, এক। যে নিয়মের বলে শুকর মলর্লেদ-লিপ্তা শুকরীর প্রতি ধাবিত হয়, সেই নিয়মেরই বলে মানুষ অলকাতিলকাশোভিতা মানুষীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। যে নিয়মে কৃূমিকীট দুর্গন্ধ মল এবং গলিত শব ভোজন ক'রে পরম স্তুখ অনুভব করে, সেই নিয়মেই মানুষ দ্বৃত ছুগ্ধাদি ভোজনে তৃপ্তি পায়। মোতই এর মুল, মোহই এর কারণ। এই মোহ না থাকলে সির কদর্ধা কুৎসিত জীবগুলি বিলুপ্ত হত; পৃথিবী দুর্গন্ধ ঘ্বণিত বস্তুতে পুর্ণ হত; ভোগ্যবস্ত লাভের চেষ্টায় জীবের বৃদ্ধিবু্তির যে বিকাশ হয়, তা হ'ত না। তিনি জীবকে রক্ত, মাংস দিয়ে গড়েছেন, বাহ্য প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্বন্ধ রেখেছেন ; সুতরাং পরস্পরের মধ্যে যদি আকর্ষণ জন্মে তাতে দোষ কার, অষ্টার না! ্ষ্ট বস্তুর? সূর্য্য এবং অগ্নি, যেমন, তাঁরই নিয়মে, আলোক উত্তাপ দিচ্ছে, আমিও, তেম্নি, তারই, নিয়মে, মোহ উৎপাদন কচ্ছি। আমায় বিনষ্ট কল্পে তীর সৃষ্টির ক্ষতি হবে।

নারদ। তুমি ইতর প্রাণীর সঙ্গে মানুষের তুলনা কল্পে, সঙ্গত নয়। ইতর প্রাণী কেবল তাদের রক্তঁ-

তৃতীয় দৃশ্য ৩১ মাংসর আরামই চিন্ত। করে; কিন্তু মানুষের পক্ষে দেহের আরামের সঙ্গে আত্মার আরামও চিন্তনীর়। তুমি মানুষের আত্মার আরাম নষ্ট কর্নার চেষ্টা কর।

গ-রা। যদি করি তবে প্রতিক্রিয়ার ভার আপনা- দিগের ন্যায় বাক্তির হস্তে কিন্তু আমি, প্রকৃত প্রস্তাবে, মানবাত্মার আরাম নষ্ট করি না; আমি জীবের শারীরিক বৃত্তিরই পরিচালনে শক্তিপ্রয়োগ করি। শরীরের সঙ্গে আত্মার সম্বন্ধ আছে বলেই একের ইফ্টীনিষ্ট দ্বারা অপরের ইফ্টানিষ্ট হয়। আমার কাজ আমি কচ্চি, আপনাদের কাজ আপনারা করুন আমি যদি মোহ উৎপাদন করি, আপনারা বৈরাগ্য উত্পাদন করুন; আমি যদি পার্থিব স্থখের মাধুর্য দেখাই, আপনার। তার অস্থায়িত্ব শিক্ষা দিন। কোন ক্ষেত্রে বট বুক্ষ হলে তার ছায়ায় তৃণ জন্ম।তে পারে না। আপনাদের উপদেশের গুণ খাকৃলে আমার সাধ্য কি যে জীবকে পথভ্রষ্ট করি। ধাশ্রিক এবং নীতিজ্ঞের উপর আমার অধিকার নাই। যার! ভগবদ্াত্ত বু্তির অপব্যবহার করে, ধন, মান এবং বিষ্ভার প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝে না, তারাই আমার প্রজা হ'বার জন্যে ব্যাকুল হয়। আপনারা তাদের জ্ঞাননেত্র উন্মীলন করুন; তাহলে আপনাদের এবং আমার, উভয়ের, কার্য্ের সামঞ্জস্যে সৃষ্টির মঙ্গল হবে।

নারদ। তুমি স্থুবিবেচকের মত কথা বলড। কিন্তু

৩২ গন্ধরর্বনগর |

তুমি মানবকে ধন্দপথ হতে আকর্ষণ করে আন কেন? তোমার অনুচর অনুচরীগণ লোককে অলীক আশ্বাস দিয়ে তোমার অধিকারে আনে

গ-রা। একজনকেও নয়। তারা কেবল আমার রাজ্যের স্ুথ, সৌন্দর্য ঘোষণ! করে মাত্র। যারা আমার রাজ্যে আস্বার জন্য প্রস্তৃত, তারাই সে ঘোষণা শুনে ছুটে আসে, কিন্তু সকলে আসে না। আপনার হৃদয় শ্রীভগবানের সেবার জন্য প্রস্তুত; তাই আপনি বৃক্ষের মনরে, নদীর কল কলে, পক্ষীর কুজনে, মেঘের গর্জজনে তার মহিমা শ্রাবণ করেন। কিন্তু সকলেত শুন্তে পায় না, সকলেত আপনার মত ভগবানের কাছে ছুটে যায় না। সেইরূপ যারা আমার সেবার জন্য প্রস্তুত নয়, তারা আমার মহিমা গুন্তে পায় না; পেলেও মুগ্ধ হয় না।

নারদ। তোমার এই কথাগুলির অর্থ আমার স্ুম্প$ বোধগম্য হল না। প্রমাণ দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দাও

গরা। যেআজ্ঞা। আপনার আগমনের অল্পক্ষণ মাত্র পুর্দেব কতকগুলি নরনারী আমার প্রজা হবে বলে এখানে এসেছে এখন পর্যন্ত আমি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনে, কোন প্রলোভনই : দেখইনে। আমি একে একে তা'দিগকে আহ্বান কচ্চি; আপনি দেখুন, আমি তা'দিগকে ডেকেছি কি তারা নিজেই প্রস্তুত ছিল বলে এসেছে আপনি ইচ্ছানুসারে তা"দিগকে আপনার

তৃতীয় দৃশ্ঠ ৩৩

বীণা স্পর্শ করাবেন; ত| হলেই তাদের মনের ভাব সঙ্গীতে বাক্ত হবে। প্রয়োজন মত আমি তাদের পরিচয় দেব; আমার মায়ায় তারা আপনার এবং আমার কথোপ- কথন শুন্তে পাবে না। দৌবারিক! যাও প্রথমে অর্থান্বেষী বিদ্বানকে সঙ্গে নিয়ে এস।

দৌবারিকের প্রস্থান অর্থাননেবীর সঙ্গে পুনরাগমন।

অর্থা। জয়! গন্ধব্বরাজের জয়! আমি আপনার ভক্ত প্রজা ; আমার মনোবাঞ্ছ৷ পূর্ণ করুন|

গরা। (নারদের প্রতি) এই যুবক অতি বিদ্বান্‌ বুদ্ধিমান; কিন্তু অর্থচেষ্টায় বিদ্যা, বুদ্ধি সমস্তই নট কচ্চে। য! শিখেছিল, চচ্চ1র অভাবে, ক্রমে, সমস্তই ভূলে মাচ্চে। আপনার যা ইচ্ছা হয়, একে জিজ্ঞাসা কন্তে পারেন

নারদ। ( অর্থানেধীর প্রতি ) বাপু! তোমার বিদ্ভা- বুদ্ধির প্রশংস! শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। তুমি কি অধ্যয়ন আর অধ্যাপনাতেই জীবন উৎসর্গ করেছ?

অর্থা। না ঠাকুর ! তাতে টীকা হয় না। পণ্ডিত, ম্যাষ্টর বল্পে কেউ খাতির করে না।

নারদ। তুমি ভারতবর্ষে জন্মেছ ; পণ্ডিতের! দারি- দ্রযকে এদেশে মাথার ভূষণ করে নিয়েছিলেন। ব্যাস, বাল্মীকি, কালিদাস, কপিল, শঙ্কর কে ধনবান্‌ ছিলেন ?

অর্থা। সেটা সেকাল, আর এটা একাল। ব্যাটার

৩৪ গন্ধর্বনগর

নাম লিখতে পধ্্যন্ত জানে না, অথচ যখন গাড়ী হাঁকিয়ে, গায়ে কাদা দিয়ে, চলে যায়, তখন শরীরট। যে জলে ওঠে। কারুর বাড়ীতে দেখি সমস্ত রাত পঞ্চাশট! বিজলী বাতি জবল্ছে; আর আমার শ্রীমতী যখন প্রদীপে একটার উপর ছুটো সল্তে দেন, তখন, মা এসে বলেন “বউমার একটু বিবেচনা নেই, কেবল তেল পোড়াচ্চেন, এতে কি করে খরচ কুলুবে ?” এসব কি সহ্য হয়? বিদ্যা, বুদ্ধি যা বল, সকলের উপরে হ'ল টশকা, টাকা, টকা

নারদ সকলে টাক! বলে, তুমি টকা বল কেন?

অর্থা। তারা মূর্খ, আমি বিদ্বান, সেই জন্য বঙ্ক শব্দের অর্থ যদি বাঁকা, শঙ্ শব্দের অর্থ যদি শাখা হয়, তবে কোন্‌ নিয়ম অনুসারে টঙ্ক এই-সংস্কত শব্দের অর্থ টকা না হ*য়ে টাকা হ'বে এতদিন যে বিদ্ভা উপার্জন কল্লেম তা কি ভুলে যেতে বলেন ?

নারদ। ন! না, বিদ্ধানের পক্ষে বিদ্যার চচ্চ রাখা অবশ্য কর্তব্য। এখন তুমি, একবার, আমার বীণাঁটা স্পর্শ কর।

( বীণ! স্পর্শে নৃত্যভঙ্গীতে সঙ্গীত )।

আমায় দিলে না কেন টাকা? বলি, বিধেতা !

আমার বিষ্ঘে, বুদ্ধি যা দিয়েছ, সব হল যে ফাঁকা।

তৃতীয় দৃশ্য ৩৫

(ভাবি ) ডিপট্টাগিরির আশে, যাব সাহেব স্থুবোর পাশে, চাপরাসী সব ঢকৃতে দেয় না মুচকে মুচ্‌কে হাসে ( তারা কাজের আগে ইনান খোজে) তারা ভোগের আগে প্রসাদ খোজে আবার কথা বলে বাকা। ( কভু) চোগা চাপকান গায় গিয়ে বসি ঝাউতলায় মক্কেল কেউ ফিরে না চায়, বুকটো ফেটে যায় আমার মনের ছঃখ বল্ব কারে, .... মনেই থাকুক আকা। গরা। উত্তম! তোমার মনোবাঞ্চা পূর্ণ হ'ক। অর্থান্বেধীর অভিবাদনান্তে প্রস্থান

'গ-রা। দৌবারিক ! যাও, ইন্দরিয়াসক্ত নরনারী- দ্বয়কে সঙ্গে নিয়ে এস। নারদ। নিশ্ায়োজন; তাঁদের ব্যবহার স্পরিচিত ; অন্য কারুকে আনাও। গ-রা। তবে যাও, ভোগলোলুপকে সঙ্গে নিয়ে এস। দৌবারিকের গমন ভোগলোনুপকে সঙ্গে লইয়া পুনরাগমন। গ-রা। দেবর্ষি! এর সম্বন্ধে আমার কিছু বলবার

৩৬ গন্ধর্ববনগর |

প্রয়োজন নাই; আপনার বীণাস্পর্শেই এর মনোগত ভাব ব্যক্ত হ'বে।

তো-লো। জয় মহারাজের জয় !

নারদ। তোমার নিবাস কোথায় 2

ভো-লো। আমোদপুর।

নারদ। তোমার কথা আমি পূর্বেই শুনেছি এখন তুমি আমার বীণাটী স্পর্শ কর।

নারদের বীণাম্পর্শে ভোগলোলুপের নৃত্যভঙ্গীতে সঙ্গীত।

তিন কালটা গেছে আমার, তবু আমি মর্ব না; মর্ব না, মর্ব না, মর্ব না। তোমরা যতই বল সর পর, কিন্তু আমি সর্ব না) সর্ব না, সর্ব না, সর্ব নাঁ। কেউ বলে বাও গয়াকাশী, কেউ বলে হও তীর্থবাসী, বয়স আমার হ'ল আশী, পথ তবু ধর্ব না) ধর্ব না, ধর্ব নাঁ, ধর্ব না। কতই পোষাক হাল ফ্যাসানে উঠতেছে, ভাই ! দিনে দিনে, ভাঁবি আমি মনে মনে সে সব কি হায়! পর্ব না) পর্ব না, পর্ব না, পর্ব না করেছি, ভাই ! বাগানবাড়ী, করেছি এই জুড়ী গাড়ী, যেতে বল্চ তাড়াতাড়ি সব কি ভোগ কর্ব না; কর্ব না, কর্ব না, কর্ব না।

তৃতীয় দৃশ্য ৩৭ পরিপাটা দাত বাধিয়ে, পাকা চুলে কলপ দিয়ে, কত বুড় গেছে তরে, আমি কি, ভাই ! তর্ব না? তর্ব না, তর্ব না, তর্ব না।

( গন্ধর্বরাজের প্রতি ) মহারাজ! আপনি ভিন্ন আর: কেউ আমার মনের কথা জানে না; আপনি আমায় আশ্রয় দিন।

গরা। তুমি শ্বচ্ছন্দে থাক, ইচ্ছামত সুখভোগ কর।

( ভোগলোলুপের অভিবাঁদনাস্তে প্রস্থান ) দৌবারিক ! যাও, স্বদেশীকে সঙ্গে নিয়ে এস। দেবর্ষি! আপনি স্বদেশীকে দুটা একটী কথা জিজ্ঞাস! করুন।

দৌবারিকের সঙ্গে স্বদেশীর প্রবেশ

নারদ। বাপু! তুমি কি স্বদেশী?

স্ব। (উচ্চৈঃস্বরে ) সাবধান বুদ্ধ ব্রা্ষণ! আমি প্রকৃত দেশভক্ত, প্রত্যেক ভারতবাসীকে আমার মাতৃ- গর্ভজ বলে জ্ঞান করি, (ুষ্টিবদ্ধ করিয়া ) নচেত, তোমার দাঁড়ি ধরে, একটা ঘুঁসিতে তোমার যে কটা দাত পড়তে বাকী আছে, তা” ভেঙে দিতুম।

গরা। একি! একি! হঠাৎ তুমি এত উত্তেজিত হলে কেন? তুমি কাঁর সঙ্গে এরূপ ব্যবহার কচ্চ জাননা ? ইনি যে দেবর্ষি।

৩৮ গন্ধবরবনগর |

স্ব। হন দেবর্ষি,হন নরর্ষি ! যিনি আমার আত্মমধ্যাদায় আঘাত করেন, তাকে আমি ক্ষমা কত্তে পারিনা তিনি তদ্দারা কেবল আমাকে নয় আমার প্রিয় স্বদেশকেও আঘাত করেন। নারদ। গন্ধববরাজ ! আমার জন্য চিন্তিত হয়োনা, আমি প্রভুর কাজ কন্তে এসেছি; কুৎসা, কটুক্তি, প্রহার অঙ্গের ভূষণ বলে গ্রহণ কর্ব। ( স্বদেশীর প্রতি) বাপু! আমি, না জেনে, যদি তোমার মধ্যাদাভঙ্গ করে থাকি, তুমি আমায় মাঙ্ভনা কর। স্ব। এব্যবহার ভদ্রোচিত। ক্ষমা প্রার্থনা কলে, ক্ষতিপূরণ কল্পে, আর কোন ক্রোধ থাকেনা এস। (নারদের করমদ্দিন) না। বাপু! আমি তোমার কি মধ্যাদাভঙ্গ করেছি তা'ত এখনও বুঝ্তে পাচ্চিনা, আমায় বল। স্ব। তুমি আমায় বল্পে স্বদেশী, কিন্তু আমি হচ্চি বিষম স্বদেশী, স্বদেশীর অপেক্ষা অনেক উচ্চে আমার আসন। না। উভয়ের মধ্যে কি পার্থক্য আমি জানি না। অনভিজ্ঞ আমি ; আমায় বুঝিয়ে দাও _ স্ব। ব্যাকরণ পড়েছিলে ? জান ? “উপসর্গেণ ধাত্বর্থো বলাদন্যাত্র নীয়তে।” উপসর্গের যোগে ধাতুর অর্থ, যেন বলপুর্ববক, অন্য প্রকার করা হয়। হ্ৃ ধাতুর উত্তর ঘঞ প্রত্যয় কল্পে হার হয়। কিন্তু তার সঙ্গে উপসর্গের যোগে

তৃতীয় দৃশ্য ৩৯

সম্পূর্ণ ভিন্নার্থ শব্দ হয়; যথা আহার, বিহার, সংহার প্রহার ইত্যাদি

না। হা, সুত্রটা আমি জানি

স্ব। আচ্ছা তুমি এই সুত্রটা জান? “শব্দযোগেন শব্দস্য ভিন্নার্থো জায়তে সদ1।” শব্দের সহিত শব্দের যোগে বিভিন্নার্থ হয়। ঘেমন কাল শব্দের সহিত মহ শব্দের যোগে হয় মহাকাল, কিন্তু মা শব্দের যোগে হয় মাকাল।

না। না সৃত্রটা আমি জানি না কিন্তু সূত্রের প্রতিপাদন আমার পরিচিত

স্ব। তুমি যদি বল্তে সূত্রটা আমি জানি, তাহলে আমি বুঝ.তুম তুমি দাস্তিক আর মিথ্যাবাদী; কারণ সুত্রটা আমার নিজের রচনা কিন্তু তুমি তা” বলনি; এতে তোমার সত্যনিষ্ঠা প্রকাশ পাচ্চে। তার উপর তুমি আমার অপমান করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছ, স্বৃতরাং দেখ্‌চি তুমি সঙ্জন। তোমার সঙ্গে সরল ভাবে কথা কইতে আমার বাধা নাই। বল, তুমি কি জিজ্ঞাসা কচ্ছিলে, বল।

না। আমি জিজ্ঞাসা কচ্ছিলাম স্বদেশী বিষম স্বদেশী উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কি ?

স্ব। শোন। স্বদেশী শব্দটা! এখন ঘৃণার আস্পদ হয়েছে। এই জন্য আমরা ওটার সঙ্গে প্রশম, অসম এবং বিষম এই তিনটা শব্দ যোগ করে, প্রশমস্বদেশী, অসম-

৪০ গন্ধর্বনগর |

স্বদেশী এবং বিষমস্বদেশী এই তিনটা যৌগিক শব্ধ উৎপাদন করেছি। আমি এবং আমার মত প্রধান প্রধান ব্যক্তিগণ বিষমস্বদেশী

না। এই তিন শ্রেণীর বিশিষ্ট লক্ষণ কি?

স্ব। স্বদেশীদের মধ্যে যারা, ম্যাদ খেটে, মুছলিকা দিয়ে, দেশান্তরিত হয়ে, এখন, চুপচাপ করে আছে, এবং যারা বাতে পড়ে, বনুমূত্রে ভূগে শধ্যাশায়া হয়েছে, আমরা তাদের বলি প্রশমস্বদেশী ; যারা ইস্কুল পাঠশাল করে ছেলে পুলেকে লেখা পড়া শেখায়, রোগীকে ওষধ দেয়, পুকুর কাটায়, জঙ্গল সাপ করে, আমরা তাদের বলি অসমস্বদেশী কিন্তু ছুইই নিন্নশ্রেণীতে; আমরা সর্বেবাচ্চ শ্রেণীতে, আমরা হচ্ছি বিষমস্বদেশী |

না। তোমরা কি কর?

স্ব। আমরা বক্তৃতা দিই আর ভবিষ্য্বংশ বৃদ্ধি করি।

না। আরকিছুনয়!

স্ব। আবার কি? উভয়ের মধ্যে অঙ্গার্গি ভাব, গৌণ- মুখ্য সন্বন্ধ। এই দুই কল্লেই সব হল। আমরা বক্তৃতা দিই, ভবিষ্যৎ বংশের মঙ্গলের জন্যে; আর ভবিষ্যৎ- বংশ বৃদ্ধি করি, বক্তৃতা শোন্বার জন্যে তা হলেই হল।

গ-রা। তুমি এমন বিষম স্বদেশী, এমন গুণবান, হয়ে একটী সামান্য কথার জন্যে এই জগৎ-পুজ্য ব্রাহ্মণকে ঘুঁসি তুলে ছিলে?

তৃতীয় দৃশ্য ৪১

স্ব। ওটা আমাদের মধ্যে অপ্রচলিত নয় ; দূষনীয়ও নয়। প্রকাশ্য সভাতেও আমাদের কেবল মুখটা নয় হাত, পা টাও চলে। মাঝে মাঝে জুতা ছোড়াছুড়িও হয়। বিষমস্বদেশী হলেও আমরা আত্মমধ্যাদা ওরফে আমিত্বপ্রিয়তা ছাড়তে পারি না। আমরা যে আমাদের স্বদেশকে কিছু কম ভালবাসি তা নয়, কিন্তু আমরা আমাদের আমিত্টটাকে কিছু বেশী ভাল বাসি।

গরা। বেশ! তোমার আগমনে গন্ধববরাজ্যে নৃতন জীবনের সঞ্চার হবে। এখন তুমি বিদায় নিতে পার।

স্দ। সে কি, মহারাজ! আমায় বিদায় নেবার কথা কি বলছেন? আমার যে এখনও বক্তৃতা করা হয়নি। শবেতদ্বীপের রাজা পুবেৰ সুধ্যাস্তআাইন করেছিলেন, তাতে রাজা মহারাজারাই, খাজনা না দিলে, বিপদে পড়তেন, এখন আবার ষে নূতন সৃষ্যাস্তআাইন করেছেন তা'তে আমাদেরও বিপদ সুধ্যান্তের পর মুখ খুল্বার উপায় নেই। সেই দুঃখেই আমি মহারাজের আশ্রয় নিয়েছি। আপনি অনুমতি দিন, যেখানে সেখানে, রাতদিন, লোকে শুনুক না শুনুক্‌, আমি, অন্ততঃ একা একাও, প্রকাশ্য বক্তৃতা কর্তে পারি। আমি কেমন বক্তৃতা কন্তে পারি, এখনই তার নমুনা দেখাতে প্রস্তুত আছি।

গ-রা। বেশ! দেখাও

৪২ _ গন্ধবর্বনগর |

স্ব। (বারংবার কঞ্ঠ-পরিষ্কার শব্দ করিয়া এবং পুনঃ পুনঃ দক্ষিণে, বামে, উদ্দে, অধোদেশে হস্ত সধশলন করিরা ) কই! আমি বক্তৃতা কত্ত দড়ালুম, এখনও আপনার সভাসদেরা করতালি দিলে না? এতে আমার স্ফপ্তি, উৎসাহ হবে কেন? এতে যে আমার প্রতি অনাদর দেখান হল। কলিকাতা মহানগরী হলে আমার দাঁড়াবার পূর্বেবই করতালিতে গৃহ প্রতিধ্বনিত হ'ত।

গ-রা। এরা তোমাকে এখনও চেনেন; তাই উপযুক্ত সমাদর দেখ|তে পারেনি এই আমরা সকলেই করতালি দিচ্চি, তুমি আরম্ভ কর। (উচ্চ করতালি-ধ্বনি )

প্রথমে সঙ্গীত। স্ব। বল্‌ মা ভারতজননি ! কি দুঃখে তুই, দিবানিশি, মলিনবদনী ? (হেন) ত্রিশ কোটি যার ছেলে, মেয়ে নেচে, কুঁদে বেড়ায় ধেয়ে, কাদে সে কি বাথা পেয়ে দিবারজনী ? | আমরা তুলে “হা হা” হাসি, বলি তোরে ভালবাসি, তোর কেন, মা ! অশ্ররাশি ভিজায় অরনী? (তবে)

এইবার বক্তৃতা শুন, সভ্য মহোঁদয়গণ ! আন, সভ্যা মহোদয়াগণ !

তৃতীয় দৃশ্য ৪৩ শুন দেহে, আকাশ, পবন! জল, স্থল, শুন ত্রিভূবন ! কহি আমি ভবিষ্য-বচন, পরিশুদ্ধ করি উচ্চারণ, বাহুদ্ব় করি আম্ফালন, বক্ষোদেশ করি প্রসারণ, শির মম করিয়া কম্পন, নেত্রযুগ করিয়। ঘূর্ণন, সর্ব অঙ্গ কর