2১৫৩.

০2 ত্দ্

হেশ্চ্ত্দ্র £

উপন্যাস।

বঙ্গ-সাহিত্যাকাশের পূর্ণচন্ স্বগাঁয় বঙ্ছিমচন্দ্রের

মৃণালিনীর উপসংহার

প্রীস্বরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য গ্রণীত।

পাশ পাশপাশি

নিত্যানন্দ পুস্তকালয়। এস, কে, শীল এণ্ড এন, কে, শীল কর্তৃক প্রকাশিত ৩৩৩ নং অপার চিৎপুর রোড,--কলিকাতা।

চিপ

£2727104 779. 119641%7116 15411) 1১104, (0০910668,5829 00020101012 17,

উপহা'র।

শি

স্বদেশের মুখোচ্ছলকারী জুসন্থান, দীনের আশ্রয়, বিপনের বন্ধু আমার পরম হিভৈহী কৃষ্ণনগর জর্জকোটের প্রধানতম উকীল শ্রীবুক্ত বাবু তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কর কমলে এই গ্রহ আমার হৃদয়ের কৃতন্রতার সহিত

সমর্পিত হইল

শপ

পুর্বাভাষ। স্পা (6) ৪৮০৮

বাঙ্গলার অমর গওপন্তাসিক স্বর্গীয় বঙ্কিমচন্দ্রের “মুণালিনী” নামক অতুৎকষ্ট গ্রন্থ পাঠের পর, এমারেন্ড থিয়েটার রঙ্গমঞ্চে পমুণালিনী” অভিনয় দেখিয়া মুগ্ধ হইয়া ছিলাম ।_সে কত স্তীত দীনে মিশাইয়। গিয়াছে, কিন্ক এখনও--“কণ্টকে গড়িল বিধি, মুণাল অধমে”র সেই সুউচ্চ সুর, সেই ভাব হৃদয়ে পাষাণ- রেখার মত অস্কিত হইয়া রহিয়াছে।

তাহারই পর অনিচ্ছায়, অজ্ঞাতসারে একটি স্বপ্ন-কল্পনাঁয় এই' শ্ন্থখানি লীপিবদ্ধ করি। কিন্তু মুদ্রিত করিতে কাঁহাকে দিই নাই ।-_-এখনও মুদ্রিত করিতে ইচ্ছ। ছিল ন1, কেননা, বঙ্কিমচন্দ্রের রস্থ পাঠান্তে যাহ! লিখিত, তাহা! আকাশ দেখিয়া পুর কাট|।

অতি সভয়ে স্থলে বলিতে পারি, ইতিহাসের হিসাবে ধরিতে গেলে,_-বস্কিম বাবুর মুণালিনী প্রকৃত নহে। ইচা তীহার' উদ্ভাবনী শক্তির, সামান্য ক্রীড়ণ মাত্র

বঙ্কিমচন্দ্র আমার গুরুস্থানীয়। তীহান্র পদাঞ্ক রেখা অনুস- রণেও গ্রন্থ লিখিত নহে-_ইহা মৃণালিনীর পরে পাঠ করিলে, তাহার গল্পের পর আর একটুকু হইবে, এই মাত্র। বঙ্গ সাহিভো বঙ্কিম বাবুর রাজরাজেশ্বরত্ব। তাহার চিন্র পাঠকের মনে একবার যে শক্তি বিকাশ করিয়াছে, তাহা আর বিলোপের সন্তাবন! নাই সুতরাং নির্ভয়ে এই বিভিন্ন গল্পের অবতারণা করা গেল। বাহার মনে করিবেন, আমি বঙ্কিম চিত্রিত চরিত্রের কোনবপ বিকাশ করিতেছি, তাহার পুস্তক পাঠ এই: খানেই ব্দ্ধ

প্রকাশকের একান্ত অনুরোধ এতংগ্রন্থের পাঞুলীপি তাহাকে, প্রদান করিলাম।

.. আনততপুর ] প্র আওাবওশে চৈ

লগ হণ

উন্মুক্ত বাতায়ন-পার্থে দড়াইয়া এক নুন্দরী যুবতী সান্ধ্য গগ্গনের দৌন্দধ্য দেখিতেছিল। গাছের পাতার উপর অন্তগামী। হুর্যের চঞ্চল-লোহিত আভা কিরপে ক্রমে জ্যোতিহীন হই”,

ত_পীথীগুল। নীলাকাশের নীচে কত ক্রতভাবে ঘুরছে. অত উচ্চ আকাশ স্পর্শ করিতে পারিতেছে না-_তাহার্সি ষদ্, তাই চীৎকার করিতেছে-মেঘের জমতে ভুবিয়া. বিষ আবার ভাসিয়া৷ উঠিতেছে-_যুবতী নিবিষ্ট মনে ইহাই দেখি ছিল) এমন সময়ে প্াৎ হইতে কে ডাকি:

ীদীমদি

.. হেষচনত্ু।

যুবতী চমকিয়া উঠিল; শ্থাতে ফিরিয়া দেখিল,__পি়ারী” পিয়্ারীও যুবতী তবে মে যৌবনের শেষ সীমায় পদার্পণ করি গা সা নদী; ভাটায় টান ধরিয়াছে।

পা বা অনাদৃতভাবে মুখের চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। সেই সন প্রফুল্ল হান্ত-রস-সিক্ক ওঠাধর-_নীরল শু, ক্ষণে ক্ষণে কম্পিত) '

যুবতী সরিয়া আদিয়া পিস্বারীর কঠলগ্ হইয়া কাদিতে লাগিল। বর্ধার নদীর রুদ্ধশ্রোত কে যেন খুলিয়া দিল। সে শ্রোত যেন: বেগ মানিতে চায় না_কুদ্ধ হইতে চায় না-__ফিরিতে চায় না। পিয়ারী বলিঙ্গ_

“এতদুর হুইরাছে, খবর দাও নাই কেন?”

কথার উত্তর নাই। আবার অশ্রপ্রবাহ দেই কোমল গণ্স্থলের পথ আশ্রয় করিল। বর্যাবারি-নিষিক্ত গোলাপের ন্যায় মেই মুখের দৌনারধ্য ফুটিয়া উঠিল।

" পিয়ারী আশ্বন্তম্বরে বলিল,”

পভুলিয়া যাও দীদীযণি! যাহা! পাইরার নে, তাহার জ্তী- শরীর পাত্ত করিলে আর কি হইবে?” “- ঘুবতী অনেকক্ষণ 'উদাদ ভাবে অর্থশূন্য চাঁহ্নিতে ি্পারীর সুখের দিকে চাহিয়া থাকিয়া ক্ষুদ্র নিশ্নীসের সহিত বলিল,__ ্‌ পরী সনুখস্থ নদীকে বলিয়া দাও, নদি! মি পর্তে দিও যাও” পি) বালা লন, বমি! রতি একবার খা হইলে, আর ফিল্ান যায় প্না,এই নাকি? "...

বাতায়ণে। চা

হু। ঘি তাহাই বলি থাকি?

পি। ভাঁল বল নাই,_প্রবৃত্তিকে সংযত করাই রমণীর ্র্ধ্য) মতুবা রমণী রমণীই নহে। পৃথিবী বড় সিন গৃথিবী রমণী।

যু। কিন্তু স্থৃতি যায়, কৈ?

পি। মানুষের বৃত্তি সমুরয়ই অনুশীলন সাপেক্ষ”+-আমর। তাহাদিগকে বে প্রকারে অন্ুণীলন করিব, তাহার! তাহাই শিখিকে -করিবে। খু বুঝিয়াছি সই- তুমি ডি টা বড় পাকা কথা শিথিয়াছ, কিন্তু কাজে কথায় এক কর! বড়ই শক্ত। যদি ন্যাকরত্ব ম্হাঁশ় একদিন বাড়ী না থাকেন, তধে, রে পারি! ;

পি। কিক হি দিত জানায় এর বন তবে আমার কি করা কর্তব্য?

যু। স্থৃতি যে মুছিতে পারে,__ভুলিতে পারে, তাহাকে আমি নমস্কার ক্রি__কিস্তু মনে ভাবি, সে বুঝি সংসারের নহে, সে বুঝি বড় পাষাণ। পা

পি। কিন্তু পাইবার আশা কোথায় ?. দগ্ধ স্মৃতি ! . যু দগ্ধ স্বৃতিরই যাতনা বেশী। আমাকে ভগিনীর মভ' উপদেশ দাঁও/আঁমি কিকরি। হেমচন্ত্রকে না তির সুঠি বাঁচিতে পারিব না।

পি। বুঝি তোমায় বাঁচিবার সন্াবনাও. মাই।

খু। পাইবার কি কোন উপায় নাই? রাঙা একা" ধিক বিবাহ করিল্না থাঁকেন।

$ হেঁমচন্ত্র

পি। যুখালিনীকে সপত্বী যন্তরণ। দেওয়ার মত হেমচন্ত্র ভাল বাসেন না। |

যু। তাহাদের দেবার্থে দামীও রাখিয়া থাকেন।

পি। দাসী যে পরত্র সমন হাটুর রি করিয়া ফেলিকে না, তাহার বিশ্বাস কোথায়? , ' ঘু। যে হৃদয় একবার একজনকে দান কর! হইয়াছে, আর কি কেহ তাহা অপহরণ করিতে পারে?

পি। যর্দিসে সম্তাবন| না থাকে, তবে কি বুঝিয়৷ মরণের পথে অগ্রমর হইতেছ?

যু। হইতেছি না দীদী__হইয়াছি। - পি এখনও .ফিরিয়। পড়।

যু। সাধ্য নাইশুধু দেখিলেও ভাল থাকিব |

পি 1. দেখা দিবেন কেন? | . হুবতী সজল নেত্রে গাগদ স্বরে বলিল, “দেখিবার অধিকার কাহার নাই ? শুধু দেখিবার জীধে কে বাধা দিবে দীদ্দী ? আমি. কেবল তাঁহাকে দেখি্া, হৃদয়ে তাহাকে ধ্যান করিয়া জীবন কাটাই বুকে দীদী? চুপ কর?” .. * ভীহীয়া. এই স্কল বথাবার্তী কহিতেছিলেন, এমন সময়ে ভিইগুি মধুরস্বরে কে গান গাইতেছে। স্বর _ তি কৌমল মর্দম্প্পী। গায়িকা গাহিতেছে__. ,প্ভাবিয়া শ্রীহরি,।. . বলিয়া শ্রীহরি,

চল চল চল সহচরি 1.

নাঁচে প্রাণহরি ডাঁকিছে বাশরি

- প্রাধা রাধা রাধা” করি”

বাতায়ণে। . খু

যুবতী বলিল্ট--কে গাহিতেছে, দীন ?৮

পি। বোব হয়, শ্তামা হইবে ডাকিব ?

যুবতী কোন কথা কহিল না। কথা তাহার কর্ণে গিয়াছে এমনও বোধ হইল না। সে বুঝি কি ভাবিতে বসিয়াছে। পিয়ারী ভাবিল, শ্তামাকে ডাকিয়া দুই একট! গান শুনাইলেও ইহার চিত্তের কতকটা ভার কমিয়! যাইতে পারে। গানে মান্গষের অর্ধেক যাতনা! বিদুরিত হয়। পিয়ারী উঠিয়া গিয়া শ্তামাকে ডাকিয়া আনিল।

সে দিন শুরুপক্ষের নিণি। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গেই প্রী্দিগৃভাগে চন্দ্রদেবের উদয় হইয়াছে, উত্মুক্ত বাঁতায়ণ-পথ-প্রবিষ্ট শ্বেত শুত্র- মন্ত্রের চুণীকিত চন্র্িমোস্তাসিত শীতল আলোক আর তাহার মধ্যে সেই স্বপ্ররাজ্যের উপান্তহ্থিত__নন্দরীদের হুন্দর দুখ! যেন বাদন্তী প্রভাতের মৃছ্মলয় সঞ্চারে প্রন্ষুটিত অর্ধ উন্মেষিত পু্পকলিকাগুলি পাহ্‌ হৃদয়োন্মাদে নিরত রহিয়াছে।

পিয়ারী যাহাকে ডাকিয়া আনিল, সে- পুর্ণ যুবতী--অতি সুন্দরী পোষাক দেখিলে দাদীর মত বোধ হয়, কিন্তু রূপ. দেখিলে রাজরাণীরও আসন টলিয়। উঠে।. একটি স্নিগ্ধ শ্রী একটি "শাস্তি লাবণ্যে মুখখানি মণ্তিত। তাহার দেহায়বয়র. দেখিয়া বয়স ঠিককরা শক্ত। শরীরটি বিকশিত, কিন্ত মুখটি এমন কীচা যেসংসার কোথাও যেন তাহাঁকে লেশমান্র স্পর্শ. করে নাই। দে যে যৌবনে পদার্পন করিয়াছে এখনও নিজের, দিসে সংবাদটি তাহার পৌছাহ নাই) ড় ২৯

তাহার নাম হ্বামা। শাম! বলে তাঁহারা. জকি নার বরণের বারণ শ্তামার শিতাখাতার ফৌলিবতক্ক

বা! আবাস স্থান কেহই পরিজ্ঞাত নহে। নৌকায় করিয়া তাহার পিতামাতার সহিত সে কোথার যাইতেছিল, পথে নৌকা! জলমগ্র হয়, সকলেই তাহাতে সলিলগর্ভে নিমগ্ন হয়। যাহার পরমাঁয়ু ছিল, সে নিমজ্জমান হইয়াও রক্ষা পাইয়াছে, শ্তাম্া৪ পাইয়াছিল, কিন্তু কাহীরও সহিত কাহারও সাক্ষাৎ হয় নাই। ভাগ্যচক্র যাঁহাকে যে দিকে চালিত করিয়াছে, সে সেই দিকে গিয়াছে। শ্তাীমা যে বাড়ীতে আছে, দেই বাঁটার ঘিনি কর্তা তিনি সেইদিন নৌকায় আদিতেছিলেন, নদীকিনারে মুমূরধ, শ্তামাকে দেখিয়া তুলিয়া লইয়া আইসেন। তখন শ্তামার বয়স একাঁদশ বর্ষের উপরে নহে) পরে শ্তামার নির্দেশমতে তাহার পিতার মন্বান করা হইয়াছিল,-কৌথাও দে সন্ধান মিলে নাই।

পিয়ারী তাহাকে বলিল,_পগান গাঁও ।”

শামা হাঁসিয়৷ বলিল,_“গানত গাহিতেছিলাম ।”

পি। আমাদের এখানে বসিয়া গাও।

স্তা। তিলৌত্তম! কথা কহিতেছে ন! কেন ?.

পি। সকলেই কি কথ! কহে। একজনেই কহে। তুমি গাঁম গাও।

শ্রা। কিগাহিব?

_পি। - যাচ্ছ ভাল হয়।

শ্তা। আমার ভাল নাঃতোমাদের ভাল? | শি আছা তোমার ভালই গাও।

রর হামা ১৮8 | “এমন সমীরণ মাচত যন] ২: গীহত কুনুমরে,। 7

বাতায়ণে

যুবতী বলিল; *ও ;কি গান? তব যাব গাহকেছিল, তাহাই গাও।” গায়িক পিরারীর মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, . “বলিলেই হইত, তোমাদের ভাল। ভাল এখন গাহিতেছি।” শ্তামার কোমলকণ্ঠনিঃস্ত স্বরলহ্রীতে গীত হইতে লাগিল__

“ভাবিয়া শ্রীহরি, বলিয়া শ্রীহরি, চল চল চল সহচরি ! নাচে প্রাণহরি, ডাঁকিছে বাশরি, প্রাধা বাঁধা রাধা” করি ! তার গ্রেমে সাধা, তার প্রেমে বীধা, , আধা বাঁধা রাধ! মানে কি? প্রেমের ভিখারী, আমি ব্রজনারী, ভয়-লাজ-সেগো! জানে কি? কুলকারাগারে, পড়ি একধারে, . আর কি থাকিতে পারি ? না হয় রুষিবে, না হয় দূষিবে, নিন্দা ছলময়ী নারী! শ্তামের সোহাগ, শ্তাম অনুরাগ, নিজে দিব ধরা, চল্‌ চল্‌ ত্বরা, হরির ীমুখ ম্মরি।*

গানের শ্বরলহরী কীপিয়া কাপিয়া রা নিস্তবমতার প্রাণে মিশিয়া গেল। গায়িক! বলিল। “তবে আমি যাই? |

রা হেমচন্দর।

পিষ়ারী বলিল, “কোথায় যাঁবে ?” রি শ্তা। শ্ঠামানুসন্ধানে। পি। তোমার শ্তাম কোথায় পোড়ারমুখী ? হামা গাহিতে গাহিতে চলিল,_ . “চাদের সহিত সথি আমার প্রণয় রে। সথধু সে চাদের সুধ। হৃদয়-পিয়াসা রে। আকাশেতে চাঁদ বসি, আমি ছার মর্ত্যবামী, তবু বড় ভালবাঁপি, দেখনে তাই ধাইরে যুবতী পিয়ারীর গল! ধরিয়! বলিল,

প্বীদী, উহাকে ফিরাও। শুনি উহার প্রাণের ভিতর কি জালা জলিতেছে,_উহার আঁকাশের চাদ খানি কোথায় থাকে 1”

উচ্ছদিত জলতর্গের সায় পিয়ারী হাঁমিয়া উঠিল। বলিল,

নিজের শ্ঠামটাদের বাণীরতানেই. আকুল,--আবার পরের চাদে প্রয়োজন কি?

যুবতীর ক্রিষ্ট-কম্পিতাঁধরে হাঁসির একটু ক্ষীণ রেখা প্রশ্ষটিত হইল। সে বলিল,

দশুনিইনা কেন! আহা, প্রেমের জালা-_

_ পিয়ারী বাধা দিয়া বলিল, এও পাগল ! ওকে আর ডাকিয়া কাজ নাই। আর প্রেমের কত জালাতৈও কাক নাই”.

. যু। তুমি কখনও অল নাই, তাই.

. পি।. মন গাই কিনে নিছে.

হা মর।

বাতায়ণে।

শি আগে প্রেমের জালা শ্রীমতীকে তমালের ডালে ঝুলাইয়৷ তবে বৃন্দা মরিবে।

যু। এখন তামাসা রাখ--আসল কথার কি তাহাই বল। এহেমচন্দ্র ভিন্ন আমি বাচিব ন!।

পি। তবে মরিও।

বাহির হইতে শ্তাম! গাহিতেছিল-_

“কানুগুণ চিন্তনে, নিদ নাহি লোচনে, উদবেগে তন্থু ভেল ক্ষীণ : কাঞ্চন বরণ, কালীসম উতৈ গেল, বিলাপ করিয়৷ নিশি দিন। সথি__রে, নিদারুণ বেয়াধিত_ দিনে দিনে বাঢ়ল, রাই তনু জারল, ভেদল অগ্তর সাধি॥ . অতি উনমাদে, _ মোহিত ঘন ঘন, না জানি কি হইবে নিদান প্র

০০

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

নৃতন রাজ্য-_মাগধর্নগরী। বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূল ভাগ যে ভীষণ অরণ্যে আচ্ছা- দিত, ভাহার নাঁম স্ুযরবন। এই তৃভাগ তাগীরখীর কহ সংখ্যক ক্ষুদ্র বৃহৎ শাখানদী হারা কবচ্ছিররহিয়াছে। এইছান। টে

0] হৈমচ্র |

জোয়ারের সময় যখন জলমঞ্ন থাকে, তখন হটাৎ দেখিলে বোধ হয় যেন সমুদ্র গর্ত হইতে একটি প্রকাণ্ড অরণ্য উথ্তি হইয়াছে ( উপরে যে শাখানদী গুলির উল্লেখ কর! হইয়াছে, নৌকাযোগে তাহার কোনওটির মধ্যে প্রবেশ করিলে চতুর্দিকে কেবল লম্বা লঘঘ! ঘাস বড় বড় গাছ দেখিতে পাওয়া যায়, তাঁহার শাখায় শাখায় প্রকাণ্ড সর্পাকৃতি লতা রজ্জু সকল জড়াইয়া রহিয়াছে চারিদিক নিস্তব্ধ ) মধ্যে মধ্যে কেবল সহিষ্কুতার অবতার শ্বূপ দুই একটি বক চিত্রার্পিতের ঠায় স্থির ভাবে দণ্ডায়মান থাকিয়া, অথব! উজ্জ্বল বর্ণ বিশিষ্ট ছুই একটি মাছরাঙ্গা জীবিকা সংগ্রহের জন্য ইতস্ততঃ উডডীয়মাঁন হইয়া কিঞ্িন্মাত্ ঈজীব্তার পরিচয় দেয় ) কখনও কখনও সুদুর অরণ্গর্ত হইতে আগত নানাপ্রকার অন্তত অস্পষ্ট ধ্বনি শ্রবণ করিয়া হৃদয় নানারূপ কল্পনাও ভয়ে আন্দোলিত হইতে থাকে।

বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকুলভাঁগ দৈর্ঘ্যে প্রায় ছুইশত মাইল )-তাহার পশ্চিমাংশ ঘন বৃক্ষাব্লী সমা্ছন্ন১- কিন্ত ইহার পূর্বাংশ বৃক্ষহীন জলাভূমি মাত্র

এই -পশ্চিমাংশের একটি স্থৃলকে- কয়েক ব€সরের একান্তিক চেষ্টার একটি রাজধানীতে পরিণত কর. হইয়াছে। যিনি করিয়াছেন, তিনি মগধের রাঁজপুক্র। রাজধানীর নাম হইয়াছে, মাগধনগরী। বর্তমানে তাহার সে নামের পরিবর্তন হুইয়া গিয়াছে।

বখ্তিয়ার খিলিজি তাহার গুত গ্রহের সুসময়ে, আর বাঙ্গলার বিঃপ্রস্থ শনির প্রকোৌপকালে বঙ্গে পদার্পণ করিয়া মগধের রাজাকে সংহারপুর্বক মগধরাজ্য হস্তগত্ত করেন। মগধরাজপুতত হেসচন্ত্র, তৃখন শ্বরাক্যে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন

মুক্ত রাজ্য-_মাগধনগরী ১5

তীর্থ দর্শনে মথুরাঁয় গমন করিয়াছিলেন দেখানক'র অন্ততমধনী মথুরারাজের প্রিয়পাত্র এক শ্রে্ঠির সুন্দরী যুবতী বন্তা মুণালিনীর গুণে রূপে একান্ত মুগ্ধ হইয়া তাহাকে গোপনে বিবাহ করত তাহার প্রেমোন্মাদনায় তথায় অবস্থান করিতেছিলেন ছেমচন্দ্র বীরশ্রেষ্ঠ! তাঁহার বাঁছতে অজয় শক্তি, হৃদয়ে ্ত্িয়ন্থলভ সাহস ধৈর্্য। হেমচন্দ্রের গুরু মাধবাচার্ধ্য তাহাকে চিনিতেন, শ্ইি তাহার ছারা বঙ্রাজ্য উদ্ধারের অনেক চেষ্ট: করিয়াছিলেন। গৌড়াধিপতি তখন নবদীপে অবস্থান করিতেছিলেন। মীধবাচার্ক্য হেমচন্্রকে ইসা নব্দীপে উপস্থিষ্ভ হয়েন, এবং শীঘ্রই বখ্তিয়ার খিলিজির নবদীপা- ক্রমণ সম্ভাবনায় তিনি রাঁজদরবারে উপস্থিত হইয়! হেমচন্তের পরিচয় দিয়া তাহার বাহুবল জ্ঞাপন করেন, এবং বঙ্গদেশের আনেক নরপতিকেও তিনি প্রই ঘুদধার্থে আহ্বান করনে, কিন্তু তাহাদের সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হইয়া গেল, গৌঁড়দেশের সৌভাগ্য: শগী চিরদিনের জন্য রাহুগ্রস্থ হইলেন। রাজা বৃদ্ধ অপদার্থ গৌড়দেশের ধর্দাধিকার পশুপতি রাজ্যলোভে প্রতারিত হইয়া দামোদর শর্খাকে দিয়া মিথ্যা শাল্তবাক্য গুনাইয়া রাজাকে পলায়ন করিতে উপদেশ প্রদান করিল। রাজ! দুরকের আগমন বার্তা শ্রবণ করিয়াই মুখের গ্রাস পরিত্যাগ পূর্বক রাণীর হস্ত ধারণ করিয়া পলায়ন করিলেন। ৈন্ঘগণও পপুপতির আজার নন্তরধারণ করিল না, বিনা যুদ্ধে সপ্তদশটি মুললমানে বয় করিয়া! লইল। বঙ্গদেখের ভাগো বুঝি বিধাতা কখনও সম্মুখ নমরের পরাজন্ধ লেখেন নাই।

: খঁকা” হেমন্ত্র আর কি করিতে পারিবেন! বলায়:

5২ হেখচন্ত্র।

আর ফোন উপায় নাই জানিয়া তদীয় ওরুদেব মাধবাঁচার্্য তাহাকে দক্ষিণে, সমুদ্রের উপকূলে রাজ্য £সংস্থাপন করিতে অনুমতি করেন। তীয় আক্রান্থসারে হেমচন্ত্র সুন্দরবনের পশ্চিমভাগে মাগধনগর নাম দিয়া এই নূতন রাজ্য সংস্থাপন করিয়াছেন। যবনদিগের হিন্দুদ্বষিতায় গীড়িত তীহাদিগের অত্যাচারে একান্ত অত্যাচারিত হইয়া অনেক ধনী মন্রান্ত ও-সাধারণ ভদ্রলোক হেমচন্দ্রের নূতন রাজধানী মাগধনগরীতে আসিয়া বসতি আরম্ভ ক্রিলেন। এইরূপে সত্বরেই সে স্থান জনাকীর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল। ক্রমে হেমচন্ত্র দূর্ঘ, পরিখা-ও বহুল সৈন্য সংগ্রহ করিয়াছিলেন

হেমচন্ত্রের পরিনীতা পরী মৃণাঁলিনী তাহার রাজপুরীর শোভা হ্ৃদয়ানন্দ বন্ধন করিতে লাঁগিলেন। তৃত্যদিগ্বিজয় হেমচন্দ্রের 'পরিচর্ধযাও রমিকতায় চিতবিনোদন করিত, এবং তদীয় যুবতীভার্ধযা গিরিজায়৷ মৃনালিশীর দাসী হুইলেও অনেক সময়ে রহস্তে গানে তাহার চিত্তরপ্রন করিত। গানে রসিকৃতাঁয় গিরিজায়া বড় প্রখ্যাতা_-তাহা! বিধাতা তাহাকে যে ভাবে শক্তি প্রদান িরিয়াছেন তাহা অব্্ণনীয়। _ ম্বণালিনী যখন গৌড়নগরে বড় ছুরবস্থায় অবস্থিত 'ছিলেন, তখন হৃদ্বীফেশ শর্মার বস্তা মনিমাঁলিনী তাহাকে নানা প্রকারে সাহায্য করিতেন ছুঃখের অশ্র বিমোচনে সদত যত্শীলা! ছিলেন, ময় পাইয়া মণিমালিনীকে মগধনগরীতে আনাইয়া- ছিলেন। তিনি রাঁজপুরী মধ্যে মৃণীলিনীর সবীন্বরপ -'বাঁস করিতে লাগিলেন, আর তাহার স্থামী -রাঁজবাঁটার পৌরাহি্ কশ্ে নিধুকতহ হুয়ীছিলেন। মণিমাপিনী অত্যন্ত বৃদধিমতী,

পাঁগ্লী-অভিসারিকা * ৯৩

সরলা, তাহার স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী সৎব্রাহ্মণ এবং শাস্ধজ্ঞ বুদ্ধিমান

বঙ্গদেশ যখন অত্যাচারীর পদতলে দলিত হইতেছিল, তখন হেমচন্্র এই বনভুমি কর্তন করিয়া, ক্ষুদ্র একটি হিলুরাত্য সংস্থাপনানত্তর তথায় স্থিরদীপ্তি নক্ষত্রের স্তায় চতুর্দিকে শাঞ্োেজল কিরণ ধাঁরা বর্ষণ করিতেছিলেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পাগ্লী-অভিদারিকা

রঙের শ্রেঠী নামক এক ধনবাঁন গৃহস্থ যবনাত্যাচারে . হেমচন্ত্রের নব সংস্থাপিত যাগধনগরীতে আসিয়া বসতি করিতে- ছিলেন। তিনি এখানে আদিয়া সুন্দর অট্টালিকা নির্বাণ. করাইয়াছেন। বাটার অন্থুথে ছই তিনটা! পু্করিণী খোররিত : - করিয়াছেন। চতুপপার্থে আম পনস প্রস্তি ফ্রবক্ষ এবং সেঁউতি শেফালিকা প্রভৃতি ফুল বৃক্ষ সকল রোপিত করিয়াছেন। ফলত; তীহার বাঁড়ীটি অতি হুন্দর জরম্য অট্টালিকামযী। রঙের শ্রী. একজন বিখ্যাত ধনবান। :. | তি, রযেখর প্রেটটর, ছইপুত্র ধী এককন্তা। বনকার নাম:

১৪ হেষচন্। |

তিলোত্তমা তিলোত্তমা যুবতী - পূর্ণেন্দুকরোজ্জলঃ প্রুল্ল-কুমুদিনীবৎ অতীব স্থনদরী। তিলোত্তমা যোড়শী,_ফিস্ব আঁজ'ও তাহার রিবাহ হয় নাই।

বেলা ঘ্প্রহর। আকাশে বসিয়া নলিনীনাথ আপন মন কর বর্ষণ করিতেছেন। তীয় তাপে উত্তপ্ত হইয়া! পৃথিবী ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছে।

তিলোত্রম৷ নিজ সুরম্য প্রকোষ্ঠে বসিয়া কি ভাবিতেছিল, এমন সময় তথায় পিয়ারী আগমন ক্রিল। পিয়ারীর আসল নামটা বোধহয় প্যারিঙ্ন্দরী, অথবা এমনই কিছু একটা হইরে-- কিন্তু লোকে পিয়ারী বলিয়াই ডাকিত। আমরাও তাহাই রলিয়া উল্লেখ কাঁরলাম | পিয়ারী আসিয়া পালক্কোপরি তিলোত্তমার, পার্থে উপবেশন করিয়া তাহার গণ্ড টরাপিয়া বলিল,

ভেবে ভেবে কি মর্বে সি ?*

তি। মরণকি আছে!

.পি। কেন এমন হ'লে সখি? |

তি। কেন হ'বাম জানন! ?-_যমের বাড়ী যাব গলে। .

: পি। €দ পথে যাইতে অত ভাবিতে হয় না। কিছবে, যারে মারতে পারে না।

ভাবিল,_ভাঁবিল যে মঝিয়াছে পে

নি নি মরিলেত...আর তায়াকে দেখা যায় না।

পি। আচ্ছা সধি-তোঁমারত বম হইরাছে, এরি মার পিত তোমার বিবাহ দেন নাই কেন?

ডি. তাহা হইলে কিহইত]

পাগ্লী-্মভিসারিকা ১৫

পি। তাহা হইলে আজি এমন করিয়া! মারতে বসিতে না।

_তি। বিবাহ দেন নাই,__নানা.কারণে।

পি। আমি কিছু কিছু শুনিতে ইচ্ছা করি।

তি। আমরা যখন নবদ্বীপে ছিলাম,--তখন শাস্তণীল নামক এক যুবকের সহিত আমার বিবাহের স্ন্ধ হয়।

পি। শীস্তশীল কি কা্য করিতেন? |

তি। তিনি রাজকীয় কর্মচারী ছিলেন,-_তিনি প্রধান চৌরোদ্ধরণিকের কাধ্ধ্য করিভেন। তীহার বসন তখন পঞ্চবিংশতিবর্ষ হইবে। | কি তি

পি। সে বিবাহ হইল না কেন?

তি। বিবাহ হইবে স্থির হইতেছে_এই সময় নরছীপে সুসলমানাক্রমণ হইল। নবদ্ধীপে শনির দৃষ্টি পড়িল: যে যেখানে পাইল পল্লাইল, আমরাও পলাইয়৷ আদিলামণ হী আর বিবাহ হইল না।

পি। শাস্তণীল এখন কোথায় আছেন জান? বে

তি। শুনিয়াছি তিনি মুমলমানবিগের নিকট উচ্চ রা প্রাপ্ত হইয়াছেন_-তিনি মুসলমানের দেনা বিভাগে গ্রবেশ করিয়া হিনুছ্েষিতায় মনঃপ্রাণ সমর্পিত করি্মছেন। ...

পি। তুমি শাস্তণীলের সহিত রিরাহ হুর নবী ইয়ে?

তি। জানিনা সুত্বী কি ছুঃখী হইতাম। তখন আমার, বয়স একাদশের উপরে হইবে না। আর তখন চেমচকে দেখিয়াও মজি নাই। 7

পি। এখন শর্কণীলকে পাইবে বিবাহ করিতে পার. .

বর্পিতা সিংহীর মত ভ্রীরা বাকাইয। তিলোত্বমা বলি,

১৬ হেমচন্

“যে হিচছু হইয়া হিন্দুর সর্বনাশ করিতেছে, যে হিন্দু হইয় হিন্দুর আরাধ্য দেবতা হিন্দুর আবাঁধ্য দেবতার মন্দির চূর্ণ করিতেছে, সন্তান হইয়া মায়ের চরণে শৃঙ্খল পরাইতেছে_ হিন্দুকন্থা হইয়া তাহাকে ভালবাসিব !”

পি। নতুবা পারিতে ?

তি। না।

পি। কেন?

তি। একদিন বলিয়াছি,--একবার ভাল বাসিলে আর কি ভোলা যায়!

পি। তোমার ছুঃখে আমি বড় ছুঃখিতা,-কেননা,

হ্মচন্্রকে পাইবার কোন উপায় নাই। আমি চেষ্টা করিয়া দেখিয়াছি! _ তিলোত্বমা তাহার দিকে উদাস নেত্রে চাহিয়া এই কথ শ্রবণ করিল। অনেকক্ষণ সে কথা কহিল না,_-বুঝি কথা কহিতে সে পারিল না। অনেকক্ষণ সেইরূপ অবস্থাতে চাহিয়া থাকিয়া শেষে বলিল,

“সখি ! তুমি কি চেষ্টা করিয়াছিলে ?*

পি। স্ঠায়রত্ব মহাশয়কে দিয়া প্রস্তাব করাইয়াছিলাম !

“ছি! ইহা করিতে «তোমায় কে বলিল!”

পি।' রা রিন্টোমিনি আমাকে অনুরোধ করিয়াছিল '

তি।. তাহার উপযুক ফলভোগ কলিম কি আমার বড় লঙ্জা করিতেছে! .. হেমচন্ত্র আমার না জানি কি. ভাবিয়াছেন।

গাগ্লি--অভিসারিকা।

পি! বালাই দেখ! স্তায়রত্ব মহাশয় কি না বলিয়াছেন যে, তিলোত্তমা তোমার জন্য কেঁদে কেঁদে চস্ষুর মাথা, খেয়েছে_- তুমি তাহাকে বিবাহ কর--মে দৌত্যকার্যে আমাকে পাঠাইয়া দিয়াছে। মরণ আর কি!

তি। তবে কি বলিয়াছেন?

পি। বলিয়াছেন_ শ্ঠাম) তোমা বিহনে রাই আমাদের শয্যাবরা |

তি। তামাসা রাখ, বল--আমার বড় লঙ্জা করিতেছে

পি। আদল কথা,কি কথা বার্তা হইল,_কিরপে তিনি প্রত্যাখ্যান করিলেন, তাহাই শ্রবণ করা। |

তি। তবে তুমি বলিও না।

পি। বলি শোন,_আমি স্তায়রত্ব মহাশয়কে তোমার কথা বলিয়া বলিলাম, একবার এই বিবাহের প্রস্তাব করিয়া দেখ তিনিও স্বীকৃত হইয়! রাজপুরোহিত দয়ানন্দ সরস্বতী মহাশয়কে রাজার নিকট প্রস্তাব করিতে অনুরোধ করেন,--অবশ্ঠ তাহীতে তোমার বিকারপ্রস্থের কোন কথারই উল্লেখ ছিল. না।

_তি। তার পর».

পি। তার পর তিনি বলিলেন,_আমার প্রাণ টুকু 'সমস্তই মুণালিনীতে সমর্পিত হইয়াছে। কেন অন্ত একটি কুজবালার জালার কারণ হইব।

তি। তুমি যদি নিজে র্াবারিন হইতে তবে .হয়ত, ইহার উত্তর দিতে পাঁরিতে।

পি। কিউত্তর রিতীম? যা

তি। মরণ--যেন মেয়ে মান্য নন.! : +২..

১৮ হেমচন্ত্র

পি। বুিয়াছি-স্ত্রী জাতি কেবল ভালবাসা পাইবাঁর জন্য ভালবাসে না,_ভালবাসিলে ভাল থাঁকে এই জন্ত ভালবাসে

'তি। তারপর

পি। তাহারপর ছুই পঙ্ডিতে মিলিম্া হিন্দু প্লাজাদের বহুবিবাহের কথার উল্লেখ করিলেন

তি। তাহাতে তিনি কি বলিলেন ? |

পি। তিনি?-_রাঁজা তোমার তিনি হইলেন না কি?

তি। ভুলিয়া বলিয়াছি সখি! কিন্তু জীবনে মরণে হেসচন্দ্র আমার।

পি। তাহাতে রাঁজা বলিলেনআমা হইতে হয়ত তাহাদের প্রেমের প্রস্রবণ অধিক ছিল, আমার ক্ষুদ্র হৃদয়ের ক্ষুদ্র প্রেম এতটুকু,” বুঝি তাহাতে মৃণালিনীকে সন্তুষ্ট করিতে পারি না।

তিলোত্তমা দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিল। তাহার আয়ত- 'লোচন যুগল জলভারে স্কীত হইল,_যেন বারিগর্তানীলকাদদিনীর বিকাশ হইল। লোহিত অধর আরও লাঁল এবং কম্পতি হইল

পিক্লারী তাহাকে তদবন্থ দেখিয়া মর্ান্তিক ছ্‌ঃখানুভব করিতে লাগিল। উভয়ের কেহই অনেকক্ষণ কথা কহিল না। আকাশ 'নিস্তন্ব_গৃহ নিস্তত্ধ। রমণীদ্ঘয় নিস্তব্ধ। অনেকক্ষণ পরে পিয়ারী সে নিগুব্ধতা ভগ করিয়া কহিল, .

“নথি ! কোন উপায় কি নাই ?”

দুর শ্বরে তিলোত্তমা বলিল, “কেন নাই ?” . পি। ক্িআছে? |

তি। আমি মরিব।

পি। সেকি ভিলৌত্মা ?

পাগ্‌লি-_অভিষারিকা |

তি। নতুবা অন্ত উপায় আর নাই।

পি। কখনও এমন কাজ করিও না। অল্প বয়সে বিধবা হইয়া লোকেত বীচিয়া থাকে,__তাহারা বাচে কিসে? মৃত পতির ধ্যান করিয়া_তুমিও না হয় আজীবন রাজার রূপ ধ্যান করিয়া কাটাইয়া দিও, আত্মহত্যা মহাঁপাপ।

তিলোত্তমা বলিল, “তাহাই হইবে।”

পি। ম্রিবে না ত-”

তি। না--”

এদিকে দিবাবসাঁন স্থচক বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় পিয়ারী বলিল, “আমি তবে এখন গৃহে গমন করিলায়,__কিস্তু কোন কাজ আমায় না জিজ্ঞাসা করিয়া করিও না। একে তুমি বালিকা, তাহাতে বড় কার! হইয়া

তি। যাবে, যদি হ্ামাকে পথে পাও পাঠাইয়া দিও।

«আচ্ছা”

এই কথা বলিয়৷ পিয়ারী উঠিয়া গেল। বাটার বাহির হইতেই শ্টামার সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইব শ্টামা যদুচ্ছা ভ্রমণ করিয়া বেড়ায়। শ্ামাকে লোকে পাগল- রলিয়াই জানিত-তাহার গমনে ভ্রমণে কেহ কোন গ্রুকারে বাধা দিত না। পিয়ারী -স্থামাকে বলিল, ণস্তায়! 'ভিলোত্তমা তাকে একবার ঘাইতে রলিয়াছে-এখনই,ম! 1”

শ্তামা বিনা বাক্য ব্যয়ে গাঁছিতে-গাছিতে চলিল,

চা পতোমা বিনা মোর, সকল জাধার, 5 দেখিলেজজুড়ায় সখি, :.

২০ | হেমচন্ত্র।

যে দিনে ন! দেখি, ওটাদ রন মরমে মরিয়া থাকি।”

তিলোত্তমা! অত্যন্ত গাঁড় চিন্তায় মগ্র ছিল, শ্তামার গান তাহার চিন্ত।তরঙ্গের রোধ করিল। শ্ঠামাকে আদরে পারে বসাইয়৷ বলিল, “শ্তামা--তুই কি পাঁগল ?”

শ্তামা হাঃ হাঃ করিয়া হাসিয়া উঠিল। তাঁহার হাদি আর থামে না?

তিলোত্তমা বলিল, “তুই কিসের পাঁগল শ্ঠাম!? তোর প্রাণে কি আমারই মত একটা আগুণ জলে শ্তামা__আমার কাছে গোপন করিস্‌ না, আমার. কাছে মিথ্যা বলিদ্‌ না”

শ্তামার হাঁসি তবুও থামিল না কিন্তু তিলোত্বমা৷ চাহিয়া দেখিল,_হাঁসিতে হাসিতে তাহার মুখ শ্লান হইয়া গি়াছ্ে,_- তাহার ছুই চক্ষু জলে পূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে।

সেই ম্লান মুখে, সেই জলভারাকীর্ট আয়ত লোচনে তিলোত্তমা তাহার হৃদয়ের অন্তস্তল পর্যন্ত দেখিতে পাইল মনে মনে বলিল,_তোমায় চিনিতে পারিয়াছি ্ঠামা,_সেই জন্যই আমার এই ছুঃসময়ে তোমার শরণ লইয়াছি। প্রকান্থে বলিল, পত্ঠামা! আমি এক বিপদে পড়িয়া তোমায় ডাকিয়াছি

হাঁসির গতিরোধ করিয়। শ্তামা৷ কহিল, “প্রেমে মজিয়াছ.?”

তি। তিগ্ন' কি আর রিপদ.লাই। সি

শ্তা। না।

তি।' কে?

.. শ্তা। অবলারতার কি ভয় $

* গাগ্লি--অভিসারিকা 1 ২১

তি। কেন, আহাঁর, বাসস্থান...দস্থ্যতক্করাদি।

শ্তা। তুফাণময়ী নদী আছে, বাজারে বিষ আছে-. কিসের ভয়--কিসের বিপদ ! [ও

তি। তবে শোন, আমি মরিয়াছি। প্রেমে মজিয়াছি।

শ্তা। তুমি অবিবাহিতা--তাহাকে বিবাহ কর। আমি ঘটক হইব।

তি। সে আশা নাই।

স্তা। কিছুতেই না।

তি। না।

হ্তা। তবেমর |

তি। কিন্ত মরিবার আগে একবার দেখিব।

শ্তা। সুবিধা আছে?

তি। কড়নহে। .;

শ্তা। কে সে1--আমি দেখাইব।

তি। মহারাজা হেমচন্্র |!

হ্তা। আজিই দেখাইব--রাজা আজি ননদনাবাসে আছেন। :

তি। শুনিয়াছি, তিনি নাকি কি যজ্ঞে দীক্ষিত হইয়াছেন, _ তাই তাহার নদী উপকুলস্থ' নন্দনাঁবাসে আছেন

শ্তা। হীতাই। আগামী ল্য পূর্ণাহুতি দিয়া পুরীতে গমন করিবেন। আজিই আঁমার সঙ্গে চল- দেখা করাইব।

তি। এই রাত্রেই।

হ্টা। হা। ভয়করে নাকি?

ভি। -গৃহস্থের মেয়ে-_গুধু তুমি আয় আমি |

পি। আর তোমার প্রেম! 8,

২২ হেমন্ত |

তি। কিন্তু যদি তিনি ইহাতে মনে কিছু ভাবেন! . স্তা। €তোমার কি ক্ষতি?_তুমি দেখিতে গিয়াছ, দেখা গাইলেই হইল।

তিলোত্বমাও তাহাই ভাবিল। একবার দেখিব | না দেখিলে বাঁচিব না। স্তামার সহিত সেই পরামর্শই স্থির হইল একটু ভারি রাত্রির জন্ঠ তাহারা অপেক্ষা করিতে লাগিল স্টাম! বসিয়া বদিয়৷ গাহিতে লাগিল,

*উন্মাদিনী রাধা ধায় শ্তাম-দরশনে রে আয় আর সহচরি দেখিগে মিলন রে।

অন্ধকারে পথ ঘেরা, হই হুব কুল হারা।

অকুল কাওারী হরিরু পাঁধ দ্রশন রে।*

গান শুনিয়া কুন্দদস্তে অধর টাপিয়া তিলোতযা ভাহাকে সে গান গাহিতে প্রতিনিবৃত্ত করিতে যাইতেছিল, _কিন্ধু সে পাগল ত্রাহা গুনিল না, সে যেমন উদাস ভাবে গাছিত্েছিল, তেমনই গাহিতে লাগ্রিল। ভ্যিলাতমার নিষেধ শক্তি অধিকক্ষণ থাকিল দা। সে ক্রমেই তাহাতে মুগ্ধ হইয়া! পড়িতে লাগিল এবিকে রাবিও ক্রমে মধাযামে পদার্পণ করিল। . |

তায় বজিল, প্চল যাই যমুনাতীরে এতক্ষণ শ্টামটাদ আধিক্াছে।” .

সেই কক্ষের দীপ নিবাইযা, লগ বানা র্‌

পাগ্লি-_অভিদারিক!। হও

উপরে উুক্ত__সুনীল আকাশ। ন্ুুনীল্ আকাশে অদ্য উচ্দজল হীরকথণ্ডের স্তায় জনত্ত নক্ষত্র। আশে পাশে পুণ্পকানিনের আঁবফুটন্ত কলিকাগুলির স্বর সুগন্ধময মুক্ত রাতাস। বামে দক্ষিণে, উদ্ে অধেঃ ঘোর অন্বকার। সেই অন্ধকাঁর শ্রেণী মঘিত করিয়। ছুইজনে পুরীত্যাগ করিয়া চলিল। এক মর্শ্ভেদী দীর্ঘনিশ্বা__সেই আকুল হৃদয়ের অন্তস্থল হইতে উঠিয়া শূন্তে মিশাইয়া গেল!

তিলোত্তমা অগ্রে শ্যামা পশ্চাতে__উভয়েই নির্বাক | বাগান ঘুরিয়া তিন চারি রশি পথ অতিক্রম করিয়া গিককা একটা ক্ষুদ্র নদী__নদীতে দেড় হস্ত পরিমিত জল, সেই নদীর অপর পার্থ রাজা! হেমচন্ত্রের নন্দনাবান নামক স্ুরম্য অট্রালিকাময়ী উগ্ভান।

তিলোত্তমা চমকিয়৷ উঠিল। অতিমৃদৃম্বরে শ্যামাকে বলিল, ,

*শ্যামা আর কতদূর ?”

শ্যা। ভয় করিতেছে?

তি। এই মাত্র শুধপত্রের উপর পদশব্ধ শুনা গেল।

শ্া। তেম'র অভিসার জর শি্াল রাও ঝি চলা ফেরা বন্ধ করিবে!

ততক্ষণ উভয়ে চলিয়া গেল। - ছলে 'নাঙ্ছা মদীপার হইবে, সুন্দরীর সেই. রক্তোৎফু্প নায় চরণভলে নদীর তীভূমির কর্দম মাখা হুইয়া সহস! গড়ি হই্ল।

এন জুমামান পুর কির গতিতে নরযৃ নি চলিয়া গেল। তিলোত্বম! সেই বর্দমবিলিধশ্-রকরাগময়পপ

২৪ হেমচন্্র।

গতিশূন্ত পা দ্ুইখানি সরাইয়! একটু দূরে টড়াইয়! সেই মুসলমান সৈনিকের প্রতি কঠোর দৃরিক্ষেপ করিল। পদতলে সহসা ভীমকায় কৃষ্চদর্প দেখিলে পান্থ যেমন চমকিত হয়, তিলোত্তম! সেইরূপ চমকিয়া উঠিল।

কিন্তু মুসলমান সৈনিক তাহাদিগকে যে দেখিয়াছে, এমনও বোধ হইল না-সে তড়িগতিতে নদীপার হুইনা অপর পানে চলিয়া গেল,-যে পারে হেমচন্ত্রের নন্দনাবাদ মুসলমান সেই পারে চলিয়া গেল,_-দেখিয়৷ তিলোত্তমা আরও ভীত হইল।

তিলোত্তমা! শ্যাখার মুখের দিকে চাহিয়া! বলিল,

«কি দেখিলে ?”

শ্াঁ। বুঝি আমার শুভ দিনের উদয় হইতে আর বেশী বিলম্ব নাই।

তি। সেকি কথা?

শ্যা। কথা এই যে, এই মাগধপুরীর প্রতি মুসলমান প্রভুদের নজর পড়িয়াছে--অতএব আমার আশাপুর্ণ শীঘ্বই হইবে।

তি। বুৰিলাম ন|।

শ্যা। পাগলের কথার অর্থবোধ কাহারই হয় না। এখন টল-_প্যাম দরশনও হবে, আর কংসানুচরের সংবাদস্াও দেওয়া হইবে!

নদীপার হইয়া! উভয়ে চলিল। শ্যাম! একবার গান গাহিতে গিয়াছিব,কিত্ত ভদপগ্েই ভিলোতসা তাহার গলা টাপিয় ধরিয়। তাঁহা বন্ধ করিয়৷ দিয়াছিল। রি

আপ্রদৃতী ২৫

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সং আপ্দৃতী

তিলোত্তমা শ্তামা নদী পাঁর হইয়া দ্রুত পদক্ষেপে অথচ মন্থর গমনে নন্বনাবাস অভিমুখে গমন করিতে লাগিল। সেদিন কুষ্ণপক্ষের অষ্টমীতিথি__ধীরে ধীরে পূর্ব্ব গগনে স্বর্ণোজ্জলকাষ্টি কৌমুদীরেখা বিকশিত হইয়া পড়িল। তিলোত্তমা চকিত চাহনিতে শ্যামার মুখের দিকে চাহিয়া! বলিল,

“এখন উপায় ?--আলোতে যে লোকে দেখিতে পাইবে আর কত দূর ?”

শ্যামা হাসিতে হাসিতে বলিল,

“আর দূর নহে-_এ দেখ সনুখে স্বর্গের নন্দন-কাণন তুল্য মহারাজের নন্দনাবাস 1৮

তি। কিন্তু উহার ঘাটীতে ঘাঁটাতে পাঁহাঁর-_আঁমরা প্রবেশ করিব কেমন করিয়।?

শ্তা। সাগর-সঙ্গমে যাইবার সময়ে ক্ষুদ্র নদী পাহাড় ভাঙ্গিয়া বাহির হয় কেমন করিয়া ?

তিলোত্তমা আর কোন কথা কহিল না। অতি অরক্ষণ মধ্যেই তাহারা নননাবাদের প্রবেশদ্বার উপস্থিত হইল। ষেখানে পশ্চিম দেশীয় ভীমকান্তি এক বুদ্ধ শিখ সশন্ধে পাহারা দিতেছিল। শ্যামা তাহার নিকটে গিয়া বলিল,

: "আমরা রাজদর্শনে আসিয়াছি,_পথ ছাড়িয়া দাও ।”

হেমচন্দ্র।

প্রহরী ততুত্তরে যাহা বলিল, তাহা হিন্দি .পার্শী বাঙ্গলা নিশ্রিত এক নূতন ভাঁধা। আমরা তাহীর মন্মানুবানই দিলাম। প্রহরী বলিল, “এত রাত্রে মহারাজের নিকট কি প্রয়োজন ?” পোড়াররমুখী শ্যামা তদুত্তরে অন্ন অল্প হাসিতে হাসিতে বলিল, “তুমি চিরকালই এইরূপ বৃদ্ধ ছিলে? মেয়ে মানুষে কি রাজাদের সঙ্গে দিবাভাঁগে দেখ। করিয়া থাকে ।” প্রহরী একটু অপ্রতিত হইল। বলিল, “আমাদের মহারাজ তেমন নন |” শ্তামা উচ্চ হস্ত. করিয়া উঠিল। বলিল, শুধু বুঝি আমরা তেমন। দ্বার ছাড়িয়া দাও, নতুব! বিপদ ঘটবে ।” প্রহরী তথাপিও দ্বার ছাঁড়িল না। সে বলিল, “বিনান্ুমতিতে আমি দার ছাঁড়িতে পারি না। স্তা। তবে অনুমতি আনিতে যাই-_ছার ছাড়। তাহার নিকট না যাইতে পারিলে, অন্থমতি আনির কি প্রকারে? প্র। বিশেষতঃ এখন তিনি নিদ্রিতও থাকতে পারেন স্তা। আমরা ঘুম ভাঙ্কাইয়৷ নিব) ঘুম ভাক্বাইতে আ্বামার সখী জানে। প্রহরী কোন কথা কহিল না। শ্যাম! ববি, “দ্বার ছাঁড়িতে ভয় করিতেছে ?” প্র। মহারাজের জন্য ভয়। শ্তা। হট লোককে তোর সাজে মি এত ভবে সিংহাসনে বা কেন? -. প্রহনী অতন্ত বিরক্ত হইল। দেকি করিবে টং অনি!

'আগ্ুদূতী। ২৭

পায় না। এমন*সময় তাহার পাহার! পরিবর্তনের সময় উপস্থিত হওয়ায়। অন্ত আর একজন পাহারাওয়ালা তথায় আগমন ক্রিল। তাহারা উভয়ে পরামর্শ করিয়া পূর্বের বৃদ্ধ শিখ রাজাকে সংবাদ দিতে গেল

হেমচন্দ্র রাত্রির প্রথম যাঁমে রাঁজকা্য সম্পাদন করিয়। মধ্য যামে নিদ্রা যাইতেন। তৎপরে শেষ যামে উঠিয়া রাজোর মঙ্গলচিন্তা, সৈল্তাদিরক্ষণাবেক্ষণ রাজ্য সংক্রান্ত গুপ্তচিন্তা পরামর্শাদি করিতেন। বিশেষতঃ আগামী কল্য ..প্রত্যুষে তাহার যজ্ঞের পুর্ণাহুতি। আজি প্রায় কেহই নিদ্রা যায় নাই, নন্দনাবাসের স্ুরম্য অট্রালিকার কক্ষে কক্ষে আজি সহস্র সহস্্ আলো জলিতেছে,_রাত্রি তৃতীয় যামে পদার্পণ করিতেই সকলে উঠিয়া যন্তানুষ্ঠানের আয়োজন করিতেছে হেমচন্দ্র -বিস্তৃত প্রকোষ্ঠ মধে) পদচারণী করিয়া 'বেড়াইতেছিলেন।

প্রহরী গিয়া যথাবিধি অভিবাদন করিয়া বলিল,

ঢুইট স্ত্রীলোক আগিয়! দ্বারে দীড়াইয়। আছে, “মহারাজের সাক্ষাৎ প্রার্থীনী।

হেমচন্্র বলিলেন, গ্বন্নস কত?”

প্র। যুবতী হইবে। হে। কিজাতি বলিয়া বোধ হয়? গ্র। হিন্দু হইতে পারে

হে। বলিয়া দাও, কল্য বৈকালে দেখ! করিব।

গ্র। ধর্মাবতার ) তাহারা কিছুতেই তাহা! শুনিতে চাহে না। একট তাহার মধ্যে অত্যন্ত মুখরা। সে নির্ভয়ে যাহ! আইসে, তাহাই বলিতেছে। |

২৮ হেমচন্ত্র |

হেমচন্ত্র একটু চিন্তা করিয়া বলিলেন, “আচ্ছা ডাকিয়া আন ।”

প্রহরী চলিয়া গেল। কিয়ৎক্ষণ পরে শ্যামা হেমচন্দ্রের সন্্বীন হইয়া! বলিল, “আমার সখী আপনার দর্শন প্রাধিনী।”

হেমচন্দ্র গম্ভীর স্বরে উত্তর করিলেন, “কি "প্রয়োজন ?”

শ্যা। সম্ভবতঃ ভিক্ষী।

হে। রাত্রি? যজ্ঞের পূর্ণাহুতি দিয়া যখন ভিক্ষুক্দিগকে বিদায় করা হইবে, তখন আসিতে বলিও।

শ্যা। এত দীতা না হইলে মগধ হইতে বিতাড়িত হইবেন কেন?

হে। তুমি কি পাগল? _ -স্তা। সকলেই বলে।

হে। শেষ কথা কি বল।

শ্তা। আমার সর্থী আপনার এই নন্দনাবাঁসের পুষ্করিণী- তটে দীড়াইয়া আছে, তাহার প্রার্ধনা শুনিয়া আস্থুন।

হে। ভিক্ষুকের নিকট প্রার্থন! শুনিতে যাইতে হত, কখনও গুনি নাই।

শ্তা। ভিক্ষুক বিশেষকে তাহার নিকট যাইয়াই ভিক্ষা দিতে হয়। |

হে। রাত্রে যাইতে পারিৰ না।

শ্তা। ভর করিতেছে ?- স্ত্রীলোক কে আপনার এত ভয় !

হেমচন্ত্র ভয়ের কথায় অপ্রতিভ হইলেন। অনেকক্ষণ ভাবিয়া চিস্তিয়া শ্তামার সহিত বাঁপীতটে 'গমন করিলেন।

তখন ইদুকরবেইনে ধরিত্রী দোহাগ-বিহবল। $ মাধবময়-. মারুতে নুরভি-কুন্ুম-রাগ বিজড়িত ) পল্লবে পল্পবে চন্্রকরোজ্ছল

আধদৃতী। ২৯

নয়নাভিরাম নিগ্ধকোমল সরস শ্তামলতা ) সরসিবক্ষে নৃত্যময়ী গীতময়ী রজতন্থ্যমাময়ী ললিত তরঙ্গলতা ) শুত্রালৌক বিমণ্ডিত" বিটপীশাখে সুপ্ত বিহগমিথুনচয় ; কচিৎ পরপুষ্টবধূ সহায় পুংস্থ- কিল, চ্যুতমুকুলাসনে গীত শোণিমকে, জুস বিশ্বশান্তি তাহার পঞ্চম বাগিণীকে মগ্ন করিয়া, রাজচক্রবন্তী মনোভবের বিজন্ব ঘোষণা! দিকে দিকে প্রচার করিতেছিল )-_বিশ্ব জুড়িরা বিশ্বেখরের গৌরব-মহিমা প্রকটিত হইতেছিল।

তিলোত্তমা! সরসিতীরে দীড়াইয়া৷ জলের দিকে চাহিয়া! কি ভাব- তেছিল, সহসা শ্ত/মার সঙ্গে তথায় হেমচন্ত্র আগমন করিলেন ।, ভিলোভ্মা হ্মচন্ত্রের দিকে চাহিয়া থর থর কীপিয়। উঠিল। তাহার শ্রথকবরী থসিয়া পড়িল-্থ বলন ঢলির! গেল। সঘভনে তাহা যথাস্থানে স্থাপনের চেষ্টা করিতে করিতে তিলোন্তম! হেমচন্দ্রের মুখপানে চাহিল। হেমচন্দ্রও সে সময়ে তিলোন্তমার প্রতি চাহিয়াছিলেন-_তিনি দেখিলেন, সরিভ্তীরে আয়ত- লোচনা অনিন্য্ুন্দরী দাড়াইঘা! আছে। ভেমচন্্র জিজ্ঞাসা করিলেন,

«আমার নিকট আপনার কি প্রয়োজন ?”

যুবতী কথা কহিল না। .কথা, কহিতে বুঝি পারিল্‌ না!

ঘামে তখন তাহার সর্বাঙ্গ ভিজিয়। উঠিতেছিল। বক্ষছল দুরু

দুরু করিতেছিল-_বিশ্বোষ্ঠ স্টীত-কম্পিত হইতেছিল।

হে। যদি আপশি কথ! না বলিবেন, তবে আমি বুঝিব কি প্রকারে ?

তিলোত্তমা তথাপিও কথা কহিল না। সে আনত আননের স্তিমিতনয়নে হেমচন্দ্রের মুখেরদিকে চাহিয়া রহিল।

হে। হদি আপনার কিছু বলিবার না থাকে, তবে: '!

৩০ হেম্চন্্র |

করিবার কারণ কি? আপনাকে যেন 'কোথায় দেখিয়াছি, পরিচয় দিতে বাধা আছে কি? স্তা। ভদ্রলোকের মেয়ে-_রাত্রে রাজদর্শনে আপিয়াছে, পরি চয়ের অবগ্তই বাধা আছে। হে। তবে যাহার জন্ত আসা তাহা বলিয়া যাউন। শ্তা। আমি বাঁপতেছি_-আপনার একাটি বিবাহের সহন্ধ করিতে আমরা আসিয়াছি। তিলোত্তমা ততক্ষণ একটু দূরে সরিয়! গেল। মৃত্তিকা সংলগ্ন চক্ষুতে দীড়াইয়া পদনথে মৃত্তিকা খনন করিতে লাগিল। হে। আমি বিবাঁহিত। শ্তা। অত পরিচঘ্ধে কাজ কি? আমরা কি মহারাজকে চিনিনা। 1... হে। তবে প্রস্তাব কেন? হ্া। নতুঝ বে স্থীর জীবন সংশয়। হে। তোমার সখী কে? হা। স্বয়ং দূতী-এ আপনার সন্মুখে। হে। বুঝিলাম না-_ভদ্রলোকের কন্তা, নিজে 9 ' ব্রাত্িকালে আগমন শ্তা। অন্তের দ্বারীতেও চেষ্টা করা হইয়াছিল, কিন্ত জবাব পাইয়া হতাশ হইয়াই আসা। . হে। উনি কি মাগবের ধীরে রযেখর রে কন্তা ! শ্তা। হা। | হেমচন্ত্র সমুজ্জল জোৎঙালৌকে তিলোতমাঁর দিকে চাহি মারতে বুয।,দেখিলেন-- যুবতীর মুখে. অর্ধাবপ্ঠন। অবঞষ্ঠনের

আপ্তদূতি। ৩১ অন্তরালে মন্সথের সেই তীব্র বিষময় শর। ভ্রমর-কৃষ্ণ এলাইত কেশরাশি সেই মুখের চারিধারে পড়িয়া ধীর সমীদে. চঞ্চল ভাবে ছুলিতেছে।

বুঝি সে হৃদয়ে তিলোত্বমার মুখখানি একবার বড় প্রতাপে ঘুরিয়া আসিল। কিন্তু হেমচন্ত্র আত্মসংঘমী,-তিনি কহিলেন,

“তোমাদের এখানে আসা ভাল হয় নাই।»

শ্তা। নিশ্চয়ই হয় নাই-কিন্তু প্রেম যেখানে, হতাশের উচ্ছাস যেখানে, মেখানে এইরূপই ঘটয়া থাকে ভাদ্রের নদী কুল ভাসাইয়াই ছু'টয়া থাকে।

হে। কিন্ত আমি পরিণীত।

শ্তা। তুমি পরণীত_ আমার সখী অপরিণীত ।_-তাহার আগিতে নিষেধ কি? দেখিবার অধিকার সকলেরই আছে-- মরণের অধিকারও সকলেরই আছে।

এই বলিয়৷ সে তড়িদগতিতে হিলোত্বমার নিকট রি ভাহার হস্তধরিয়া টানিল,_বলিল,

“চল আমাদের কায সারা হইয়াছে-_-এখনও আর একবার চাহ্য়া_জন্মের শোধ চাহিয়া চলিয়া আইস। তারপর বিষ আছে,জল আছে, ভাবনা কি?”

হেমচন্দ্র অপ্চধ্যান্িতি হইলেন। তিলোত্তমা অতি মৃহ্ন্ব়ে

শ্রামাকে কহিল, “একটা সংবাদ দিতে হইবে ।” |

শ্তা। যাহা থাকে বল,-___ _- হেমচন্ত্র বলিলেন, “কি--কি বলিতেছেন ?”

হা বলিতেছেন,-উপযুক্ত পাত্রেই মন সঁপিয়াছিলাম। , হে। কি একটা সংবাদ আছে--বলিতেছেন।

৩২ হেমচন্ত্র

তিলোত্তমা কম্পিতকণে, গদগদ স্বরে কহিল,,

“এই নগরে মুদলমান প্রবেশ করিয়াছে।” ্‌

হেমচন্্র একটু সরিয়! তাহাদিগের দিকে অগ্রসর হইলেন। যুবতীর কথা যেন তাহার কর্ণে প্রভাত কালীন সেতারের ললিত রাগিণীর আলাপচারীর স্তায় অন্বভূত হইল। বলিলেন,

“মুসলমান এই নগরে প্রবেশ করিয়াছে ?৮

তি। হা।

. হে। আপনি কেমন করিয়া জানিলেন?

তিলোত্বমা। কথা কহিল না। শ্ঠামা৷ বলিল,

“আপনি আমাদের মহারাজা, আমরা আপনার গ্রজা-- বিশেষতঃ ক্ষুদ্র বালিকা_-না হই যোয়ান মাগী-_ আমাদিগকে আপনি বলা কেন?”

হেমচন্ত্র অপ্রতিভ স্বরে বলিলেন,তুমি কেমন করিয়া! জানিলে 7”

তি। আমরা যখন নদী পার হইয়া আসি--তখন একজন মুসলমান পৈনিককে নদীপার হইয়া! এই দিকে আসিতে দেখিরাছি।

হেমন্দ্র চিন্ত। করিতে লাগিলেন। শ্তাম! ভিলোত্তমাকে টানিয়া লইয়া বাহির হইয়া! পড়িল।_সেই শিশ্বপ্লাবিত জ্যোৎস্লালোকে হেমচন্দ্র দেখিলেন, একখানি অনন্ত সৌন্দধধ্যমরী প্রেমের প্রতিমা চলিয়া গেল। হৃদয়ের বকে ..চাহিয়া দেখিলেন-যেন কিঞ্ি ফাঁকা বোধ হইতে লাগিল। তিলোতমার দেই শরতের যোল- কলাপুর্ণ শরীর সায় যৌবনের পরিস্কট সৌন্দধ্য-_কাল বৈশাখীর মেঘের স্যায়-ীহার হৃদয়ের এককোণে দেখা দিল। সেই, মে মালা ফুলিয়া ফুলিয়া বড় হইল--

বীজপত্তন__ছ্বিদল। . ৩৩

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

8৯47

বীজপত্বন_ছিদল।

রমনীঘয় চলিয়া গেল। সম্মুখে আঁকা বাঁকা জন সমাগম শৃষ্ট-+ অন্ধকার বেষ্টিত প্রশস্ত রার্জপথ,রমণীদয় তাহাই বহিয়া নদীপার হইয়া গেল,-কিয়দ্দ'র যাঁইয়া তিলোত্তম! আর শ্ঠামাকে দেখিতে পাইল মা। ভীতা চকিতা তিলোত্তম! তাহাদের পুরীমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া! নিজ প্রকোষ্ঠে গমন করিল। গৃহমধ্যে তখন অন্ধকারের একাধিপত্য,--তিলোত্তম! দীপ জালিতে যাইবে, সহসা! সে চমকিয়া উঠিল--গৃহে যেন মনুষ্য পদশব্ব তাহার কর্ণকুহরে প্রবিষ্ট হইল। সে তাড়াতাড়ি দীপ জাঁলিয়া চারিদিকে দেখিল,-_কিন্তু কোথাও কিছুই নাই। তখন সে ভাবিল-_বুঝি বৃথা আশঙ্কায় মন কম্পিত হইয়াছে। শয্যায় শয়ন করিল ।-_নিদ্রা আর আইসে না।

সেত কাঞ্জ ভাল করে নাই। কেন মরিতে পাগ্লীর কথা শুনিয়৷ হেমচন্দ্রের নিকট গমন করিয়াছিল! দেখিয়াত দেখার

সাধ মিটে নাই। বে শুধু কেবল হেমচন্দ্রের নিজমুখে কটুকথা শুনিয়৷ আসিলাম !--কিন্ত তেমন কটু কথা আর একদিন শুনিতে পাইনা!

ভাঁবিতে জারা পড়ি। নিত, বসথা্র তিলোভমা স্বপ্নে দেখিতে পাইল,যেন বহুনদী বেষ্টিতা খ্রস্রোত চুদ্বিত, তটভূমির উপর মেই শুত্র অট্রালিকার অষ্ব-

ঙঃ হেমচন্ধ |

কারময় কক্ষে দে একাকিনী পড়িয়া আছে।' নদদীগর্ভ হইতে পুপ্তীকৃত ঘনান্ধকার যেন তাল পাঁকাইতে পাঁকাইতে তাহার সেই আঁলোকহীন নির্জন কক্ষের ভিউর জমাট বীধিয়া গ্রবেশ করিয়াছে প্রলয়ের কাল কাল পর্মঘগুলা, যেন ক্ষণকাল বিশ্রাম করিবার জন্য তাহার ফক্ষে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছে। সেই অন্ধাকার রাশি যেন তাহার শয্যার আশে পাশে, শ্বেত শুভ্র উপাধানের উপর-খট্রার নিয়ে, উর্দে, অধেঃ ঘুরিয়া বেড়া- ইতেছে, কখনও ধা তাহাকে গ্রাস করিবার চেষ্টা করিতেছে। ভয়ে আহঙ্কে দে শিহরিয়া উঠিল-_তাহার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। চক্ষু মেলিয়াই গৃহস্থিত স্তিমিতালোকে তিলোত্তমা দেখিতে পাইল, এক মন্ুয্যমূর্তি সরিয়া গেল। তিলোত্তমা চিৎকার করিতে যাইতেছিল,_কিস্তু সে মুর্তি মুহূর্তমাত্রে ফিরিয়া ঠাড়াইয়া বলিল, “তিলোভ্তম! ! ভয় করিও না। আমাকে কি চিনিতে গারিয়াছ ?” পু _. ঘোমটা টানিয়া ভয়বিহ্বল কণ্ঠে তিলৌত্মা কহিল, “চিনিয়াছি-_তুমি শাস্তশীল। কিন্ত এখানে কেন ?” : সন্তম্বরা বীণার স্ুুরবীধা লঙ্গীতপূর্ণতানে কে যেন অন্ুলির আঘাত করিল। সেই সুর যেন শাস্তণীলের কাণের ভিতর দিয়া প্রাণের চারিধার ঘিরিয়৷ বড়ই মিঠা বাজিতে লাগিল। সেই সুন্দর ঘোমটার অন্তরালে, সেই কষ্ণতারকাঁময় টান! টানা চোক ছুইটি--আর চাদপান! মুখখানি শাস্তশীলের মাথা থুরাইয়া দিল। শাস্তণীল কম্পিত কণ্ঠে কহিল, “সুন্দরি, তোমাকে দেখিতে আজি সমগ্র বঙ্গের খ্যাতনাম! লোক হইয়াও চোরের তায় নি প্রবেশ করিয়াছি।”

বীজপত্তন-_দ্বিদল। ৩৫

তিলোত্তমার দয় বাতাহত ক্দলীব কীপিতে লাগিল, সে জড়িতম্বরে কহিল, «আমাকে দেখা কি জন্য ?--আমি তোমার কে? আমি ভদ্রকন্া। রাত্রে গোপনে আমার গৃহে আগমন করা, তোমার কাঁপুরুষের কর্ম সন্দেহ নাই।»

শান্তনীল কাপুরুষ! যাঁহার বাহুবলে আজি সমস্ত বঙ্গ বিত্রা- সিত-যাহার কুটনীতিতে মুদলমানগণ মন্তষ্ট এবং যাহার গপ্তাহ" সন্ধানে হিন্দুগণ ব্যথিত সন্ত্রীসিত, তাহার মুখের উপর দীড়াইয়া একটি বালিকা বলিল,_-“শান্তশীল ! তুমি কাপুরুয।”

শান্তীলের মন্তক ঘুরিয়া উঠিল। সে দৃঢ়তার স্বরে কহিল,

“তিলোত্তমা! আমার সহিত তোমার বিবাহের প্রস্তাৰ হয়--তাহা তুমি জান কি?”

অত্যন্ত বিরক্তিস্বরে তিলোত্তমা কহিল, “জানি।”

শা। সেই পধ্যন্ত জমি তোমাকে ভালবামি।

তি। কেন?

শা। তোমাকে বিবাহ করিয়া সুখী হইব!

তি। €স আশা নির্িত্নে পরিত্যাগ করিতে পাঁর।

শা। পরিত্যাগ করিতে পারি নাই বলিয়াই আজি সমগ্র বঙ্গের মধ্যে প্রতিপন্তিশালী হইয়াও হীনের ায় তোমার নিকট * আগমন করিয়াছি।

তি। নিতীত্ত অন্যায় করিয়াছ। জানিতে দি আম- দের মহারাজা তোমাঁকে শাস্তি দিবেন

শা শান্তণীলকে শাস্তি ?--হেমচন্্র ক্ষুদ্র মৃষিক।

তি। আমি আশা এখান চান হুইবে। ্‌ রী

৩৬ হেমচন্ত্র।

শা দেখ, তিলোত্তমা! ! তোমাকে প্রাণের সহিত ভালবাসি বলিয়াই, তোমার এত কথা সহ করিতেছি__

তি;। নতুবা কি করিতে?

শা। কি করিতাম, তাহ! বলিবাঁর প্রয়োজন নাই। কিন্ত তোমার রূপতৃষ্ণয় আমার হৃদয় সর্বদী বিদগ্ধ_তুমি অন্থুমতি করিলে আমি তোমার পিতার নিকট তোমার পাণি প্রার্থনা করি।

তি। তোমার মত স্বুদেশদ্বেধীকে আমার পিতা কখনই কন্য! সম্প্রদদান করিবেন না।

'পা। আমি আজি বিপুল সম্পন্তিবান্‌।

তি। তাহা জানি- কিন্তু দস্থ্যতস্করের সম্পত্তি ভদ্রলোকের তম্পর্শনীয়।

শা। দেখ তিলোত্বমা ! তোমাকে লাভ করিতে যদি আমার হৃদয়ের সমস্ত বক্তটুকু ব্যয়িত হয়, তথাপিও আঁমি কাতর হইব না। তোমাকে আমি গ্রহণ করিবই-_নতুবা আমার প্রাণ থাকিবে না। তৌমাবিহনে বুঝি স্বর্গেও আমার সুখ হইবে ন!।

তি। শান্তশীল! কুবানা পরিত্যাগ কর-__আমি কখনই তোমার হইব না। শুনিয়াছিলাম তুমি যে বিবাহ করিয়াছিলে?

শা। সে ভ্রী জলে ডুবিয়া মরিয়া গিয়াছে।

তি। যদি না মরিত?

শা তি মে চাইত মা শাস্তি নাই।: _ তি। আমাকে বার বার তাক্ত করিও না। আমি ক্ষমা চাহিতেছি, তুমি এখনই এখান হইতে চলিয়া যাও। :

বীজপত্তন_দ্বিদল। ৩৭

শা। আমাকে তৃপ্তরকর-_-বল তোমাকে ভালবাসি।

পথপার্থ্ে পতিত! ফণিণীকে পদাহত করিলে সে যেমন ফণ! মেলাইয়া গর্জিয়া উঠে, তিলোত্তমা তদ্দরপ উঠিয়া গর্জন করিয়া বলিল,_

“এই তোমার বক্ষে বামপদের আঘাত করিলাম, তুমি তৃপ্ত হও |”

এই কথা বলিয়া তিলোত্তমা! গ্ীড়াইয়া রহিল। সে কোমল- রৌদ্র, সে মধুর-ভীষণ, সে তেজোগর্ব রূপ দেখিয়া! শীস্তশীল চমকিয়া উঠিল। বুঝি এমন রূপ সে কখন দেখে নাই-_-এরূপে বুঝি বিশ্ব ধ্বংস হইতে পারে। অনেকক্ষণ উভয়ে নিস্তন্ধে ছিল'। শেষে শাস্তণীল বলিল,

“তিলোত্বমা বুঝিলে না__কিন্তু অপমানের প্রতিশোধ লইব।”

সহস! হ্বরওজার পার্খ হইতে হাঃ হাঁঃ করিয়া কে বড় উচ্চ হাসি হাঁসিয়! উঠিল। সে হাঁসি অত্যন্ত উদ্ধাস্ত--অত্যত্ত ওদান্ত ব্প্তক। উভয়েরই নয়ন সে দিকে ফিরিল। কিন্তু .কেহুই কিছু দেখিতে পাইল না। তখন বিপদাঁশঙ্কার সম্ভাবনা থাকিতে পারে ভাবিয়া শীস্তণীল অতি দ্রুতপদে বাহির হইয়া পড়িল।

শান্তনীল আকাঙ্ঞাপূর্ণ অতৃপ্ত হৃদয়ে অপমানের আঘাত প্রাপ্ত হইয়া ফিরিল। * তাহার বুকের ভিতর পাঁজার আগুণ জলিতে লাগিল। সে গৃহের বাহির হুইল,_পথে যাইতে যাইতে : বলিল, পসর্বনাশী ! দেখিব তোমার রাজার বাহুতে কত বল দেখির তোমার কতদূর রূপগর্ক ! দেখিব তোমার কতদূর হিন্দুহিতৈষণ] 1”

. সহস! শাস্তশীলের চাঁপকানে টান পড়িল। প্রথমে ভাবিয়াঁছিল, বুঝি কোন ক্ষুতরবৃক্ষে বাধিয্ছে_কিন্তু তাহা নহে। এতটান-_..

1৩৮ হেমচন্দ্র।

স্যোত্গ্ালোকে চাহিয়া চিত টি তাহার পরিধেয় চাঁপকানি ধরিয়া টানিতেছে। শাস্তশীল যেই তাহাঁর দিকে ফিব্িগ্লাছেন,_সে অমনি হাঃ হাঃ করির হাসিয়া! উঠিল।

শান্তশীল বিরক্ত হইয়া বলিল,

“কি আপদ! কি বল? কে তুমি?”

আগন্তকা যুবতী। সে হাঁসিতে হাঁসিতে বলিল,

“আমার খোঁছগে কাজ কি লি ঘরে চোরের, মত্ত কেন গিয়াছিলে ?”

এক্বাঁর শান্তনীলের হৃদয় কীপিয় উঠিষাছিল! শীস্তীল চিন্ত ঢৃঢ় করিয়া বলিল,

“তোমার কি? | . ছু। আমার কিছুই নহে। বলি, অত প্রেমে একটা! লাধির ভয়ে পলাঁয়ন করাটা! স্ুরসিকের কাঁজ হয় নাই।

শাস্তণীল নীরবে তাহার মুখ -শ্দিকে চাহিয়া দেখিত্বে লাঁগিলেন। সেই চন্দ্রীলৌকে-_সেই সুন্দর অথচ বিশর্ণদপ কি সুন্দরই দেখাইতেছে।

শীস্তশীলের মনে হইতে লাগিল, যেন এমুখ কোথায় দেখিয়াছি।

পুনরায় তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল,

“তোমার নীম বলিবে কি ?”

যু। কুলস্ত্রীর গৃহগমনকারী বীর পুষ্গবের সহিত বির দিতে ভয় লজ্জা হয়।

শী।. অপমানের প্রতিশোধ লইব-_দেখিতে

ঘু। আমি যেই হই, আমার একটা অরোধ রাষিবে? - শাঁ। কিবল।

বীজপত্তন--ছ্বিদল ৩৯

যু। তোমার পায়ে ধরিয়া, বলিতেছি, সমগ্র বঙ্গের মধো, শ্রই নুদূর বনতুমিন্ন একবিদু নবস্থাপিত সাধের হিন্দু রাজাটুকুর উপর যেন নজর দিওনা

শাঁ। উত্তর দিতে পাঁরিলাম না যদি সহজে আমার কাধ্যোদ্ধার হয়, তবে রাজ্য আমি নষ্ট করিব. না_ তোমাকে আশ্বাস দিলাম এক্ষণে তোমার পরিচয় দিবে কি?

যু। না।

শা। কেন?

যু। আমি পাগল-.পাঁগলের আবার পরিচয় কি?

শাঁ। তুমি পাগল?

যু। আমি পাগল-_কিন্ত আর একটা অনুরোধ মরণ সকলেরই আছে, হিদ্ু হইয়া! কেন হিন্দুর সর্ধ্বনাশ করিতেছ _ কেন হিন্দুর বুকের রক্ত লুষ্ণ করিতেছ-_কেন ছেলে হইয়া মাকে পরদেশীর-্লেচ্ছের দাসী করিয়৷ দিতেই? তুমি বীর-- বীরের মত কার্ধ্য কর, মায়ের পায়ের বেড়ী খুলিবার চেষ্টা কর। আমাদের মহারাজা! সেই মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়াছেন, তুমি বীর, তুমি কুটবুদ্ধি সম্পন্ন, াহীর সাহায্যকর - এখনও সময় আছে, এখনও ফিরিয়া! পড়। তোমার পাঁয়ে কুশাহুর বিধিনে আমি, নাতে করিয়া! তুলিয়া দিব।

শাস্তণীল মনমগ্ধের মত তাহার কথা শুনিতেছিলেন। গুনিতে গুনিতে জ্যোতমালোকে চাহিয়া দেখিলেন, যুবতীর গণুস্থল. বহি জলম্বোত বহিতেছে। চাঁরি চক্ষুতে মিলিত হইল-- তড়িন্গতিতে যুবতী ছুটয়া। কোথায় চলিয়া গেল। শীস্তশীলইতস্ততঃ দৃষ্টি স্শালন করিয়া কোথাও .