পত্রাঙ্ক

বাগবাজার রীডিং লাইব্রেরী

ভ্তাল্রিহখ ন্িলেদম্পণন্ সভ পনের দিনের মধ্যে বইখানি ফেরৎ দিতে হবে।

এরহণের ; ভার্িথ

প্রদানের 1 তারিখ

প্রদানের গ্রহণের তারিখ তারিখ

পত্রাঙ্ক

বা রন যাহা

লি প্রদানের | গ্রহণের

তাবিথ : তাত্রিধ

! 1 প্রদানের ] গ্রহণের | প্রান হ্কারিখ | তারিখ |

পাশপাশি

ভুল্পীভিল্ স্পত্ছে

মোহনদাস করমচাদ গান্ধী

তরুণ সাহিত্য মন্দির, ১৬, গোবিন্দ সেন লেন, কলিকাস্ত

অন্নবাদক-__ প্রকাশক__ বিলম্ব (সেন হিজস্ক্ত্র সেন

মূলা হয় আনা

প্রকাশ প্রেস ৬৬ মাণিকত্লা সীট, কলিকাতা শ্রকষ্প্রসাদ ঘোষ কর্তৃক মুদ্রিত

নিবেন

দুর্মীজি গাথা মহাথু। গান্ধী নিগিত গত 000 |81010010)4 বাংলা মনুবর | গাদ্ীজীর রেখা ১01-18থ1 মূ $8].]]10]101 নামক ঈংরাছী বউও পরিশিষ্ট গমন্ত (ধার অব? ইহাতে (৪। হংপ। নুর প্রযুক মনোরঞ্জন গু গুক পরণান বি ছায়া করিয়া আমাকে বাধিত করিয়াছেন।

কনিকা বিনয়কৃষ্ণ সেন

বিষয় প্রবেশ

অবিবাহিতদের ভিতর ভষ্টাচার

বিবাহিত জীবনে ভরষ্টাচার সংযমের উপকারিস্তা

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংঘম

আজীবন ত্রহ্মচধ্য বিবাহ-সংস্কার উপসংহার

প্রাণীজগতে জনন প্রাণীজগতে অস্তজজনন অস্তর্জনন অগোচর জনন মৃত্যু

মন রঃ ব্যক্তিগত সম্ভোগনীতি কাম প্রেম সামাজিক সম্ভোগনীতি উপসংহার

যম ইন্দ্িয়পরায়ণতা

৫৫ ৬২

৬% ণ১

৭২

হুনাভিল্প স্খে

০১৯০০

প্রথম অধ্যায় বিশ্বস্র প্রবেশ

কৃত্রিম উপায়ে সম্তানবৃদ্ধি বন্ধ কর সন্ধে যেনব লেখা দেশী সংবাদ পত্রে বাহির হইতেছে, তাহা কাটিয়া সদয় বন্ধুগণ আমার নিকট পাঠাইতেছেন। যুবকদের সহিত তাহাদের চরিত্র সন্থদ্ধে অনেক পত্র- বাবহার আমি করিতেছি। পত্রলেখকগণ যেসব প্রশ্ন তুলিয়াছেন, আমি তার অতি অগ্ল কয়েকটির আলোচনা এখানে করিতে পারিব। আমেরিকার বন্ুগণ আমার নিকট সন্বম্ধীয় সাহিত্য পাঠাইতেছেন এবং কৃত্রিম উপায়ের বিরুদ্ধে মত দিয়াছি বলিয়া কেহ কেহ আমার উপর চটিয়াছেন। তাহারা ছুংখ করিয়া বলিয়াছেন, আমার ন্যায় নানা বিষয়ে উন্নত সংস্কারকের জন্ম-নিরস্ত্ণ সদ্দ্ধে সেকেলে ধারণা থাকা ঠিক নহে। ইহাও দেখিতেছি যে, কৃত্রিম উপায়ের পক্ষপাতী লোকের ভিতর সব দেশের কতকগুলি চিস্তাশীল নর-নারীও আছেন।

এমব দেখিয়া ম্বনে হইল, কৃত্রিম উপায়ে সম্ভতিনিরোধের পক্ষে নিশ্চয়ই কিছু জোরের যুক্তি আছে এবং পধ্যন্ত সম্বদ্ধে যাহা বলিয়াছি, তাহা অপেক্ষ। কিছু বেশী বলিতে হইবে'। ঘখন আমি এই

দুর্নীতির পথে

সমস্যার কথা এই বিষয় মহন্ধীয় পুস্তক পাঠকরার কথা ভাবিতে- ছিলাম, তখন একথান। ইংরেজী বই আমার হাতে পড়ে। ইহাতে স্ন্বররূপে সম্পূণ বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক ইহাই আলোচিত হইয়াছে। মূল গ্রস্থথানি শ্রদুক্ত পালবুরো৷ নামক এক ব্যক্তি ফরাসী ভাষায় লিখিয়- ছেন। বইটির নাম শষ্াচার? |

এই বই পড়ির। ঘনে হইল, গ্রন্থকারের অভিমত সংক্ষেপে প্রকাশ করিবার পুর্বে, কুত্রিম উপায় সমর্থন করিয়। বেসব বই প্রকাশিত হইগ্সাছে তার ভিতর হইতে প্রধান প্রধান বই পড়িতে হইবে জন্য ভারত সেবক দমিতি'র (30.7%185 01 11101 ১০০1০৮)) নিকট ঘে নব বই ছিল তাহা আনিয়া পড়িলান। কাকা কালেলকর ইহা আলোচনা করিতেছিলেন। তিনি আমাকে হাভলক্‌ এলিদের এক- খান| বই দিয়াছেন এবং একজন বন্ধু “দি প্রাকটিশনার" পত্রিকার বিশেষ সংখ্য। দিয়াছেন__এই সংখ্যায় বিখ্যাত চিকিসকদের অভিমত সংগৃহীত হইয়াছে

প্রযুক্ত বুরোর সিদ্ধান্তের মত্যতা পরীক্ষার জন্য, যাহারা চিকিৎসক নহেন তাহাদের পক্ষে যতটা সম্ভব, আমি এই বিষয়ের সাহিত্য সংগ্রহ করিতে ততটা চে করিয়াঙি। বৈজ্ঞানিকদের ভিতর কোনো প্রশ্ন লইয়া আলোচনা হইলে প্রায়ই দেখা যায় যে, ইহার ছুটি দিক আছে এবং ছু*দিকেই যথেষ্ট বলার আছে। জন্য বুরোর গ্রন্থ পাঠকদের নিকট উপস্থিত করার পূর্বের কৃত্রিম উপায়ের পক্ষপাতীদের সমস্ত যুক্তি জানার ইচ্ছা হইয়াছিল। অনেক চিন্তার পর আমি এই স্থির সিদ্ধান্তে পৌছিয়াছি যে, অস্ততঃ পক্ষে ভারতবর্ষে কৃত্রিম উপায় প্রবপ্টনের কোনো প্রয়োজন নাই। বাহারা ভারতে ইহা প্রচার করিতে চাহেন, তাহারা হয় ভারতের প্রক্কত অবস্থা জানেন না, না হয় জানিয়াও তাহা গ্রাহথ

বিষয় প্রবেশ

করেন না। কিন্ত ঘদি প্রমাণ কর! যায় যে, কুত্রিম উপায় পাশ্চাত্য দেশের অনিষ্টকর, তবে ভারত সন্ধে ইহা! আলোচনা করা দরকার হইবে না।

দেখ] যাক, বরো কি বলেন। ভিনি ফ্রান্স সঙ্গদ্ধে আলোচন। করিয়াছেন কিন্তু ইহা! আমাদের পক্ষে যথেষ্ট, কারণ ফ্রান্সের অথ আনেক উহা পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ। যদি ফরাসী দেশে এই প্রণালী সফল না হইয়া থাকে, তবে ইভা কোথায় সফল হইবে ?

'অসফলতার' অর্থ লইয়া মতের হইতে পারে। সে জন্য এখানে ঘন 'অথে ইহা ব্যবহার করিরাছি 'ভাহ। ধলিব। যদি প্রমাণ করা থায় যে, ক্ুত্রিম উপান্ধ অবলঙ্গনের ফলে লোকের নীতিজ্ঞান শিখিল হইন্াছে, ব্যভিচার বৃদ্ধি পাইয়াছে এবং স্থাস্থা রক্ষা অর্থ নৈতিক কারণে গভ- নিরোধের জন্য ইভার বাবহার ন। করিয়! শুধু পাশববৃন্তি চরিতাথ করার জন্য লোকে ইহার আশ্রয় লইতেছে, তবে নিশ্চই বুঝান হইবে থে, এই প্রণালী অরুতকাধ্য হইয়াছে কৃত্রিম উপায়ে জন্ম-নিয়ঞু কর! অধ্যম পন্থা উতরুষ্ট নৈতিক সিদ্ধান্ত অগ্কসারে ক্ুত্রিম উপাছে সন্তান, নিযজণ করা সর্বাবস্থায় দৌবনীয়। যেমন শরীর রক্ষার উদ্দেশ্ঠ ভিন্ন নর-নারীর আহার করা উচিত নহে, তেমনি সন্তান লাভের উদ্দেশ ভিন্ন কামেন্রিয় চরিভাথ করার প্রয়োজন নাই। তুতীপ্ন আর এক শ্রেণীর লোক আছে। তাহারা বলে, নীতি বলিয়া কোনোকিছু নাই, থাকিলেও ইহার অর্থ সংঘম নহে; ইহার অর্থ খুব বিষয়ভোগ করা; ইন্্রিয়সেবাই জীবনের উদ্দেশ্ঠ ; একটু নজর রাখিতে হইবে ইন্দিয়- সেবা করিতে করিতে শরীর নষ্ট না হয, কারণ ইহাতে ভোগে ব্যাঘাত পড়িবে এইরূপ উৎকট ভোগপন্থী লোকের জন্য বুরো তাহার পুস্তক লেখেন নাই, কারণ বুরো টম্য্যানের যে কথাটি * উদ্ধত করিঘা তাহার

দুর্নীতির পথে

পুস্তক শেষ করিয়াছেন তাহা এই “বাহার সংযমী ভবিস্তৎ সেই লব জাতির হাতে | «

পুস্তকের প্রথম ভাগে শ্রীযুক্ত বুরো যে সব ঘটনা বর্ণনা করিযঘ্বাছেন, তাহা পড়িলে অস্তুরাস্ম! কাপিয়া উঠে। মান্তযের পাশববৃত্তির খোরাক যোগাইবার জন্য ফরাসী দেশে কিরূপ বিরাট প্রতিষ্ঠান সকল গড়িয়া উঠিয়াছে তাহার কথা ইহাতে আছে। কৃত্রিম উপায় সমথন- কারীদের সর্ববাপেক্ষ। বড় যুক্তি এই যে, ইহার দ্বারা গর্ভপাত ক্রণহত্যা বন্ধ হয়। তাহাদের কথাও ঠিক নহে। শ্রুক্ত বুরে। বলেন, গত পচিশ বৎসর ধরিয়। ফরাসী দেশে নির্ভ-নিরোধের জন্য নানা উপায় অবলম্বন করা সত্বেঃ সেখানে অপরাধ-মূলক গভগাতের সংখ্যা কমে নাই, বরং ইহা বাড়িতেছে। ফ্রান্সে বংপরে লক্ষ ৭৫ হাজার হইতে লক্ষ ২৫ হাজার পথ্যন্ত গ্পাত হইয়া থাকে। ছুঃখের বিষয়, পূর্বের সাধারণে ইহাকে যেরূপ ভীতির চোখে দেখিত, এখন তা দেখে না)”

দ্বিতীয় অধ্যায়

অবিবাহিতদেন্স ভিতন্্র ভ্রষ্টাালপ

এযুক নুরো৷ বলেন, “গঙপাতের নহিত শিশু হত্যা, বাভিচার এবং এইরূপ আরও অনেক পাপ বাড়িয়াছে। এসব শুনিলে ছাতি ফাটিয় হায়। শিশুত্যা সন্দ্ধে বিশেষ কিছ বলিবার নাই, তবু এইটুকু নলিব, অবিবাহিত মাভাদের গভ-নিরোধ গভপাতের নানা স্থবিধা দেওয়া সতবে, শিশ্তুহত্যা অপরাধ পূর্বাপেক্ষ। বুদ্ি পাইরাছে | ইহাতে তথাকথিত সম্মানী লোকদের মূনে দণ্ড দেওয়। অথবা! ভংসনা করার কথা জাগে না এবং আদালত হইতে এই সব ব্যাপারে প্রারই “বে-কম্থর থালাস' রায় দেওয়া হইয়| থাকে”

অশ্লীল সাভিতোর প্রচার কিরূপ বুদ্ধি পাইয়াছে, বুঝে! এক অধ্যায়ে শুপু তাহাই আলোচন! করিয়াছেন সাহিত্য, নাটক চিত্রাদি লোকের মানসিক আনন স্বাস্থ দান করিবে। কিন্তু অশ্লীল ঙ্গাহিত্য চিত্রাদি বিক্রয় করিয়! অর্থশোষণের উদ্দেশেই অনেকগুলি সমিতি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে সর্বত্র এই সাহিত্যের চাহিদা আছে, ইহা বিক্রয় হইতেছে এবং ইহার চর্চা হইতেছে। খুব বুদ্ধিমান লোকে এই সাহিত্য-ব্যবসায় করিতেছে এবং কোটি কোটি টাকা এই কারবারে খাটিতেছে। লোকের মনের উপর এই সাহিত্যের ভয়ানক বিষাক্ত গ্রভাব পড়িয়াছে। » এই সব পুস্তক পাঠ করার সময় ভাহারা মনে মনে এক নৃতন ব্যভিচারী দুনিয়া ভোগ করে-__এই সাহিত্যই সেই কল্পনা" রাজ্য সির মূলে আছে।

ছুনীতির পথে

তারপর বুরো৷ রুইসনের করুণাপূর্ণ এক লেখা উদ্ধৃত করিয়াছেন £-_

“এই সব অঙ্গীঘা সাহিত্য লোকের মহা অনিষ্ট সাধন করে। ইহার বিক্রয়াধিক্য দেখিয়া! বলা যায় যে, লক্ষ লক্ষ লোকে এগুলি পড়ে। পাগলা-গারদের বাহিরেও কোটি কোটি পাগল বাস করে। পাগল যেরূপ তাহার এক নিরাল। দুনিয়ায় বাস করে, এই মব বই পড়ার সময় লোকে সেইরূপ এক নূতন দুনিয়ায় বাস করে এবং তখন জগতের কথা তাহাদের মনে হয় না। অঙ্লীল সাহিতোর পাঠকগণ কল্পনার সাহায্যে ইন্দিয়-ভোগের স্প্র-রাজ্যে বাস করে এবং নিজেদের কর্তব্য ভুলিয়া যায়।”

ইহার একমাত্র কারণ লোকের এই ধারণা আছে যে, ইন্দ্রিয়সেবা কর। মানুষের জন্মগত অধিকার এবং বিষ়-ভোগ না করিলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ হইতে পারে না। যখন এরূপ ধারণা কোনে! লোককে পাইয়া বসে, তখন তাহার সব চিন্তার ধারা উন্টাইরা যায়। যাহাকে সে এককালে পাপ মনে করিত, তাহাকে সে পুণ্য মনে করে এবং নিজের পাশববৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য নৃতন নৃতন উপায় উদ্ভাবন করে।

কিরূপে দৈনিক সংবাদ-পত্র, মাসিক পত্রিকা, উপন্যাস, চিত্র নাট্যশাল! প্রভৃতি এই মনুত্ত্ব-নষ্টকারী রুচির খোরাক ক্রমবদ্ধমান ভাবে যোগাইতেছে তাহা তিনি বিশেষ প্রমাণ প্রয়োগে দেখাইয়াছেন।

অবিবাহিতদের মধ্যে যে নৈতিক অধংপতন হইয়াছে, তাহা বলার পর শ্রীযুক্ত বুরো৷ বিবাহিত জীবনের ত্রষ্টাচার সম্বন্ধে লিখিয়াছেন। তিনি বলেন, "সন্াস্ত শ্রেণী, মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় কষকদের অধিকাংশ বিবাহের যূলে আছে বৃথা অভিমান, চাকুরী অথবা সম্পত্তির লোভ, বৃদ্ধ বয়সে অথবা অস্থখের সময় দেখাশুনার জন্ত একজন লোকের

অবিবাহিতদের ভিতর ভ্রষ্টাচার

বন্দোবস্ত করিয়া রাখা, বাধ্যতামূলক সৈন্যসংগ্রহের সময় নিজের স্থলে আর একজনকে (পুত্রকে ) সৈন্তদলে ভন্তি করার স্থবিধা পাওয়ার আশা, অথবা এইকূপ অপর কোনো স্বার্থচিন্তা | যে পাপ-্পথে চলিতে চলিতে তাহারা ক্লান্ত হইয়। পড়ে, তার পরিবর্তে নূতন রকমে ইন্দ্িয়ভোগ করার জন্যও তাহার! বিবাহ করে।

রীযুক্ত বুরো৷ তার পর হিসাব করিয়া দেখাইয়াছেন যে, এই সব বিবাহের ফলে ব্যভিচার কমে নাই বরং বাড়িয়াছে। তথাকথিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্ষার এই অধঃপতনের যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছে--এই আবিষ্কারের উদ্দেশ্ত ইন্দরিয়পরায়ণতা রোধ করা নহে, ইহার উদ্দেশ ইন্দিয়-পরিতৃপ্তির ফল এড়ান। যে অধ্যায়ে পরস্ত্রীগমন তালাকের খ্যাবৃদ্ধির কথা আছে, সে অধ্যায় সঙ্থদ্ধে এখন কিছু বলিব না_ গত ২০ বৎসরে এই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশী বাড়িয়াছে। 'পুরুষের সমান অর্ধিকার নারীর থাকা চাই” এই কথ বলিয়া ঘাহারা নারীকে ইন্ছ্িয়সেবার স্বাধীনতা দিবার পক্ষপাতী, আমি তাহাদিগকে কিছু বলিব। গর্ত-নিরোধ এবং গর্ভপাত করিবার জন্য যে সব তথাকথিত উর্লত প্রণালী আবিষ্কৃত হ্ইয়াছে, তাহা৷ স্ত্র-পুরুষ সকলকে সব রকম নৈতিক বন্ধন হইতে মুক্ত করিয়াছে জন্য বিবাহের কথায় লোকে যদি হাসে, তবে ইহাতে বিস্ময়ের কি আছে? বুরো এক জনপ্রিয় লেখকের এই লেখা উদ্ধৃত করিয়াছেন :-_“আমার মতে বিবাহপ্রথা বর্ধরতা নিষ্ঠরতার পরিচায়ক। যখন মানুষ আরও ন্যায়পরায়ণ বুদ্ধিমান হইবে তখন তাহারা এই কুপ্রথা নিশ্চয়ই লোপ করিবে। *** কিন্তু পুরুষ এত মূর্খ এবং নারী এত ভীরু যে কোনো মহান আদর্শের জন্ত তাহারা উৎসাহের সহিত কিছু করিতে চায় না”

যেসব প্রণালীর কথা বুরো৷ উল্লেখ করিয়াছেন, তাহার ফল এবং

ছুননীতির পথে

যে যুক্তির দ্বারা এই সব প্রণালী সমর্থন করা হয়, পুষ্থান্থপুঙ্ঘরূপে সে সব পরীক্ষা করার পর বূরো বলিতেছেন :--"এই ত্রষ্টাচার আমাদিগকে এক নৃতন দিকে "লইয়া যাইতেছে সেকোন্‌ দিক? আমাদের ভবিষ্তৎ আলোকময়, না অদ্ধকারময়? আমরা উন্নত হইব, না অবনত হইব? আমরা আত্মার সৌন্দর্য দেখিতে পাইব, না কদধ্যতা এবং পশুত্বের ভয়ানক মৃত্তি দেখিব ? বিপ্লব তো ছড়াইয়া পড়িতেছে। যে বিপ্রব দেশ জাতির উত্থানের পূর্বের সমর সময় দেখা দেয়, যার ভিতর উন্নতির বীজ নিহিত থাকে, ইহা! কি নেই বিপ্লব? ভবিবাৎ বংশীয়দের উন্নতির জন্য ইহা যথাকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া কি তাহারা কৃতজ্ঞতার সহিত এই বিপ্লবকে স্মরণ করিবে না, আদি মানবের সেই পণ্ডভাব আমাদের মধ্যে জাগিয়৷ উঠিতেছে এবং ইহা দমন করিতে হইলে কঠোর নিয্ম পালন করা দরকার? এরূপে কি আমরা শান্তি নষ্ট জীবন বিপন্ন করিতেছি না?”

বুরো অনেক প্রমাণ প্রয়োগে দেখাইয়াছেন, এই সব মত্ত প্রচারের ফলে আজ পধ্যন্ত সমাজ্জের মহান অনিষ্ট সাধিত হইয়াছে সব ছুরাচার জীবন পর্যন্ত লইয়া টানাটানি আরম্ত করিয়াছে।

তৃতীয় অধ্যায় বিবাহিত জীরনে জষ্টাগার

আত্ম-সং্যম দ্বারা বিবাহিত লোকে সন্তান-নি গ্রহ করে সে এক কথা, আর ইন্দিয়পরিত্প্ি করিয়া ইহার ফল এড়াইবার জন্ত তাহার! যদ্দি অন্য উপায় অবলম্বন করে, তবে সে স্বতন্ত্র কথা। প্রথমোক্ত উপায়ে লোকে সব রকমে লাভবান হয়; দ্বিতীগটির দ্বারা তাহাদের ক্ষতি ভিন্ন আর কিছুই হয় না। শ্রীযুক্ত বুরো মানচিত্র এবং অঙ্কের সাহায্যে দেখাইয়াছেন যে, অবাধ ইন্রিয়-সেবা করা এবং ইহার স্বাভাবিক ফল সন্তান-জন্ম বন্ধ করার উদ্দেশ্ঠে গর্ভনিরোধ-যস্ত্ের ভ্রমবদ্দমান বাবহারের ফলে শুধু গেরিসে নহে, সমগ্র ফরামী দেশে মৃত্যুহার অপেক্ষা জন্ম হার কমিয়াছে। ফরাসী দেশ ৮৭টী ক্ষত্র জেলার বিভক্ত, ইহার ৬৮টি জেলায় জন্ম অপেক্ষা মৃত্যু-সংখ্যা বেশী। লট জেলায় জন্ম-হার ১০১ স্থলে মৃতহার ১৬৮) টার্নগরী জেলায় জন্ন-সংখয৷ ১০৯ স্থলে মৃত্যু-সংখ্যা ১৫৬। এমন কি থে উনিশটি জেলায় মৃত্যু-সংখ্যা অপেক্ষা জর-সংখ্যা বেশী, মে নব যায়গার অধিকাংশ স্থলের এই বৃদ্ধি ধর্তব্য নহে। শ্ধূ দশটি জেলায় এই বৃদ্ধি হুম্পষ্ট। মোরবিহান পাস-ডি-কালে জেলায় মৃত্যুহার সর্বাপেক্ষা কম--১০* জনন স্থলে মৃত্তাহার ৭৭ বুরো দেখাইয়াছেন এইরুপে আত্মহত্যা দ্বারা দেশকে জনশূন্য করা এখনও বন্ধ করা হয় নাই।

বুরো তার পর ফরাসী দেশের প্রত্যেক স্থানেক্স অবস্থার খু'টিনাটি

১০ দুর্নীতির পথে

বিচার করিয়াছেন এবং নরুম্যাপ্ী সম্বন্ধে ১৯১৪ সালে লেখা এক বই হইতে নীচের অংশটি উদ্ধৃত করিয়াছেন গত ৫০ বৎসরে নর্ম্যান্তীর লোক সংখ্যা তিন লক্ষ কমিয়াছে; ইহার অর্থ এই সমগ্র ওর্ণ জেলায় যত লোক আছে, নরম্যাপ্ীর তত লৌক কমিয়াছে। ফরাসী দেশ পাচটি স্থবায় বিভক্ত, এক স্থববায় যত লোক আছে, প্রতি বিশ বৎসরে তত লোক কমিতেছে। মৃত্রুহার এইভাবে থাকিলে ফ্রান্সের উর্বর শশ্বান্ঠামল ক্ষেত্র এক শত বৎসরে ফরাসীশৃন্ঠ হইবে। আমি ইচ্ছা করিয়া “ফরাসীশূন্য” শব্দটি বাবহার করিলাম, কারণ নিশ্চয়ই অন্য দেশের লোক আসিয়া সেখানে বসতি করিবে; ইহার অন্তথা হইলে বলিতে হইবে অবস্থা আরও শোচনীয় কেনের চারি পাশে যে সব লোহার খনি আছে, সেখানে জার্মান শ্রমিকগণ কাজ করে ; এবং যেখান হইতে বিজয়ী উইলিয়ম * জাহাজে চড়িয়া ইংলগ যাত্রা করিয়াছিলেন, গত কল্য ঠিক সেখানে সর্বপ্রথম একদল চীনা মজুর নামিয়াছে। বুরে! লিখিয়া- ছেন, অন্যান্ বহু প্রদেশের অবস্থা ইহা! অপেক্ষা ভাল নহে।

তিনি পরে দেখাইয়াছেন জনসংখ্যা হাঁসের ফলে ফরাসী জাতির সামরিক শক্তি কমিয়াছে। তাহার বিশ্বাস, একই কারণে ফ্রান্স হইতে কম লোকে বিদেশে বাস করিতে যাইতেছে এবং ফরাসী জাতির উপনিবেশ, ভাষা সভাতার বিস্তার না হইয়! অবনতি হইতেছে।

বুরো প্রশ্ন করিয়াছেন, 'প্রাচীনকালের সংযম অগ্রাহ করিয়া ফরাসী জাতি কি বেশী সখ, পাখিব সম্পদ, শারীরিক স্বাস্থা এবং কির অধিকারী হইয়াছে? উত্তরে তিনি বলিতেছেন, 'স্বাস্থ্যো্লতি সম্বন্ধে অল্প কথা বলিলেই ঘথেষ্ট হইবে। সব রকম আপত্তির বিরুদ্ধে সুন্দর

পিপি

* ইনি ১০৬৬ খুনে ইংলও জয় করেন-__অনুবাদক

বিবাহিত জীবনে ভ্রষ্টাচার ১১

ভাবে উত্তর দিবার ইচ্ছা আমাদের যতই প্রবল হউক না কেন, যখন কথা বল। হয় যে, অবাধ ইন্দ্রিয়সেবা শরীরকে, হুস্থ সবল করে, তখন তাহা বিশ্বাস করা যায় না। চারিদিক হইতে শুনা যাইতেছে যে যুবক বয়স্কদের তেজোবীধ্য কমিয়া যাইতেছে। যুদ্ধের পূর্বের সৈন্য বিভাগের কণ্ভাদিগকে নৃতন সৈন্য সংগ্রহের সময় শারীরিক যোগ্যতার সর্ত কয়েকবার টিলা করিতে হইয়াছিল। জাতির সহনশীলতা সাংঘাতিকভাবে কমিয়। গিয়াছে অবশ্য কথা বলিলে অন্যায় হইবে যে, শুধু অসংযমই এই অধঃপতন আনিয়াছে, তবে ইহা সত্য ষে

ত্যম এজন্য অনেকখানি দায়ী, মদ্যপান অস্বাস্থ্যকর স্থানে বাস করা প্রভৃতি কারণও ইহার জন্য আংশিকভাবে দায়ী। আমরা যদি স্থিরভাবে একটু চিন্তা করিয়া দেখি, তবে সহজে বুঝিব এই ত্রষ্টাচার এবং যে মানসিক অবস্থা ইহাকে স্থায়ী করে তাহা অন্যান্ত ব্যাধিরও বিশেষ সহায়ক | উপদংশাদি রোগের ভয়ানক বিস্তৃতি জনসাধারণের স্বাস্থ্যের মহ। অনিষ্ট করিয়াছে।

য্যালথাস-পন্থীগণ বলেন, যে-অন্ুপাতে জন্ম-নিয়ন্ত্রণ দ্বারা লোক সংখ্যা হা করা বায়, সেই অন্থপাতে লোকের ধনসম্পদ্‌ বাড়ে। শ্রীযুক্ বুরো এই কথা মানেন না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সহিত জার্মানির অর্থ সম্পদ কিরূপে বাড়িতেছে এবং জনসংখ্যা! হাসের সহিত ফ্রান্সের অর্থ সম্পদ কিরূপে কমিতেছে তাহা! তিনি অকাট্যরূপে প্রমাণ করিয়াছেন শ্রমিকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়া অন্যান্ত দেশে যেরূপে বাণিজ্য বিস্তার করা হয়, জামর্ণনির অসাধারণ বাণিজ্য বিস্তারের জন্ত সেখানকার শ্রমিকদের স্বার্থ তাহা অপেক্ষা বেশী বিসর্জন দেওয়া হয় নাই। তিনি রোসিনোলের এই লেখাটি উদ্ধৃত করিয়াছেন £--'ঘখন জামর্ণনিতে ধু কোটি ১* লক্ষ বোক ছিল, তখন লোকৈ অনাহারে মরিত$

৯২ ছুর্নাতির পথে

যখন তাহাদের সংখ্যা কোটা ৮* লক্ষ হইয়াছে, তখন হইতে জাম্ণনি দিন দিন অর্থশালী+ হইতেছে বুরো বলেন, সম্ন্যামী বা সংযমী না হইয়াও এই সব লোক বৎসর বৎসর সেভিংস্ব্যাস্কে যথেষ্ট টাকা জমাইয়াছে। ১৯১১ সালে এই সঞ্চিত টাকার পরিমাণ ছিল ২২০* কোটি ফ্রাঙ্ক ; ১৮৯৫ সালে ছিল মাত্র ৮০০ কোটি ফ্রাঙ্ক; প্রতি বৎসর তাহার! ৮৫ কোটি ফ্রাঙ্ন জমাইয়াছে।

জামণনির যন্ত্রপাতির উন্নতির কথা বর্ণনা করিয়া, সেখানকার সাধারণ বিদ্যাচর্চ| বিষয়ে শ্রীযুক্ত বুরে! লিখিয়াছেন :-সমাজতত্ব সম্বন্ধে গভীর জ্ঞানলাভ ন| করিয়াও সকলে ইহা বুঝিতে পারেন যে, উন্নত শ্রমিক, উচ্চশিক্ষিত পরিদর্শক এবং স্থশিক্ষিত ইঞ্ছিনিয়ার পাওয়া না গেলে, সেখানে এরূপ উন্নতি অসম্ভব হইত। শিল্প বিদ্যালয়গুলি তিন রকমের-পাচ শতের বেশী বিদ্যালয়ে পেশাগত শিল্প শিক্ষা দেওয়া! হয়--শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ হাজার ; যন্ত্রবিজ্ঞান বিদ্যালয়ের সংখ্যা আরও অনেক বেশী, ইহার কোনো কোনো বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখা হাজারের উপর; সর্বশেষে আছে আরও উন্নত শিক্ষাদানের জন্য কলেজ-সমূহ, সেখানকার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০০০ এই সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্ায় ডক্টর উপাধি বিতরণ করিয়া থাকে & * * ৩৬৫টি বাণিজা বিদ্যালয়ে ৩১,০০০ ছাত্র আছে এবং অসংখ্য বিদ্যালয়ে ৯০,*০ ছাত্র ক্লষিবিদা। অধায়ন করে। অর্থ উপাজ্জনের বিভিন্ন বিভাগের এই ৪০০১০০* ছাত্রের তুলনায় ফরাসী দেশের পেশাগত শিল্প শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার ছাত্রের সংখ্যা কত কম? ফরাসী দেশে ১৭, ৭*,*** লোক ক্লষিজীবি, ইহাদের ভিতর ৭,৭৯,+৯৮ জনের বয়ম আঠার বৎসরের কম, অবস্থায় বিশেষ কষি-বিদ্যালয়ে মাত্র ৩,২৫৫ জন ছাত্র আছে। বুরো! ইহা ্বীকার করিয়াছেন যে, জার্মানির লোকের জন্মসংখ্যা মৃত্যুসখ্যা

বিবাহিত জীবনে ভ্রষ্টাচার ১৩.

অপেক্ষা বেশী বলিয়াই যে তাহাদের মব আশ্চর্যজনক উন্নতি হইয়াছে তাহা নহে তিনি ঠিকই বলিয়াছেন, অন্থান্ত স্থযোগ থাকিলে জন্হার অনেক বেশী হওয়া রাষ্ট্রীয় উন্নতির পক্ষে অবশ্ঠ প্রয়োজনীয় বাস্তবিক তিনি যাহা প্রমাণ করিতে চাহিয়াছেন তাহা এই, জন্মসংখ্যার বৃদ্ধি পাথিব সম্পদ বৃদ্ধি নৈতিক উন্নতির পরিপন্থী নহে। জন্ম-সংখ্যা হিসাবে ভারতবামী আমাদের অবস্থা ফরাসীদের মত নহে। কিন্তু একথা বলা চলে যে, ভারতের জন্মসংখ্যার অতি বৃদ্ধি, জামণানির মত আমাদের রাষ্ট্রীয় উন্নতির সহায়ক নহে। কিন্তু বুরোর অঙ্ক এবং সিদ্ধান্ত অন্নুসারে ভারতের অবস্থার বিচার অন্য এক অধ্যায়ে করিব।

যেখানে মৃত্যুসংখ্যা অপেক্ষা জন্মসংখ্যা বেশী, সেই জার্মানির অবস্থা বর্ণনা করিয়া বুরো বলেন, “সকলেই জানেন ধন-সম্পদে ফরাসী জাতির স্থান ইউরোপে চতুর্থ এবং সে তৃতীর রাষ্ট্রের অনেক নীচে। টাকা খাটাইয়া ফ্রান্স বৎসরে পায় ২৫** কোটি ফ্রাঙ্ব, জামণনি পায় ৫০** কোটি ফ্রাঙ্ক ১৮৭৯ হইতে ১৯১৪ সাল পধ্যস্ত ৩৫ বৎসরে ফরাসী দেশের জমির মূল্য ৯২০০ কোটি হইতে ৫+২০* কোটি ফ্রাঙ্কে নাষিয়াছে অর্থাৎ ৪,০০* কোটি ফ্রাঙ্ক কমিয়াছে। দেশের প্রত্যেক দ্ধেলায় ক্ষেতে কাজ করা রুষাণের অভাব হইয়াছে এবং এমন অনেক জেলাও আছে যেখানে বৃদ্ধ ভিন্ন কদাচিত অন্ত কাহাকেও দেখ। যায়|” তিনি লিখিয়া- ছেন, *ত্রষ্টাচার এবং সন্তান নিরোধের ফলে সমাজ্জের নকল রকম শক্কি ক্ষীণ হয় এবং সামাজিক জীবনে বৃদ্ধদের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য স্থাপিত হয়। প্রতি হাজার লোকের মধ্যে ফ্রান্সে শিশুর সংখ্যা ১৭০, ইংলগ্ডে ২১০ জার্মানিতে ২২*। বৃদ্ধের সংখ্যার অনুপাত স্বভাবত যাহ] হওয়া উচিত ফ্রান্সে তাহা অপেক্ষা বেশী যাহার বৃদ্ধ নহে তাহারাও ভষ্ঠাচারের

১৪ দুর্নীতির পথে

ফলে অকালনৃদ্ধ হইয়াছে-_তাহাদের ভিতর শক্তিহীন জাতির সব রকম ছুর্ববলতা কাপুরুষত়। দেখা দিয়াছে 1”

গ্রন্থকার তারপর বলিতেছেন-_পারিবাঁরিক জীবনে প্রত্যেকে সম্পূর্ণ প্বাধীন” নীতির কল্যাণে ফরাসী জাতির অধিকাংশ লোকে ভাহাদের শাসকদের এই শিখিল পারিবারিক নীতির প্রতি উদীসীন। তিনি দুঃখের সহিত লিওপোল্ড মোনৌর নীচের মন্তবা উদ্ধত করিয়াছেন £--

“অত্যাচারীকে গালি দেওয়া এবং যাহারা দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ভাহাদদিগকে উদ্ধার করার জন্য যুদ্ধে যোগ দেওয়া বেশ। কিন্তু যাহারা বিবেককে প্রলোভন হইতে মুক্ত রাখিতে চেষ্ট৷ করে না, অন্যের আদর অথবা উম্মার ইর্গিত দ্বারা যাহাদের সাহস কম-বৃদ্ধি হয়, যাহারা লঙ্জা- সরমের মাথা খাইয়া প্রথম যৌবনে স্ত্রীর নিকট পবিত্র মুতূর্ধে সানন্দে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অগ্লানচিত্তে ভঙ্গ করে এবং এই কাজের জন্য গৌরব বোধ করে, যাহার! সম্পূর্ণরূপে আত্মসর্ধস্ব হইয়া স্বাথসিদ্ধির জন্য পরিবারের সকলকে অত্যাচারপিষ্ট করে, তাহারা কিরূপে মুক্তিদাতা হইতে পারে ?”

লেখক পরে বলিতেছেন__"এইরূপে যেদিকে তাকাই না কেন দেখিতে পাইব যে, আমাদের নৈতিক অসংঘম ব্যক্তি, পরিবার সমাজের মহা অনিষ্ট করিতেছে এবং আমাদের ছুঃখ অত্যস্ত বৃদ্ধি করিয়াছে। যুবকদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা, বেশ্যাবৃত্তি, অঙ্গীল পুস্তক চিত্রাদির প্রচার, অর্থ লোভে বিবাহ, মিথ্যা অভিমান, বিলাসিতা, ব্যভিচার বিবাহবিচ্ছেদ, কৃত্রিম বন্ধ্যাত্ব গর্ভপাত জাতিকে ছুর্বল এবং লোকসংখ্যা হাস করিয়াছে। মামু আপনার শক্তি সঞ্চয় করিয়া রাখিতে পারিতেছে না এবং জন্মসংখ্যা হাসের সহিত শিশুরা ক্ষীণ ছুক্নল হইতেছে। 'জন্ম-সংখ্যা কম হইলে, সম্তান

বিবাহিত জীবনে ভষ্টাচার ১৫

ভাল হইবে, কোনে। কারণে এই কথা তাহাদের ভাল লাগিয়াছে। ইহারা ব্যক্তিগত সামাজিক জীবনের স্থুল বিচার করিয়া ভাবিয়াছিলঃ ঘোড়া ভেড়ার স্তায় মাহৃষ একই ভাবে সন্তান উৎপাদন করিবে। অগণ্ত কত তীব্র কটাক্ষ করিয়। বলিয়াছেন, যাহারা এই সব সামাজিক ব্যাধির চিকিৎসক বলিয়া নিজেদের পরিচয় দেন, তাহারা পশ্ু- চিকিৎসক হইলে জগতের ম্দল হইত, কারণ ব্যক্তি সমাজের জটিল সনোবৃত্তি বুঝিবার মত কোনো! শক্তি তাহাদের নাই।

ব্যাপার এই, বিষয়ভোগের সহিত সংগ্রিষ্ট মনোবৃত্তি সিদ্ধান্ত

লোকের ব্যক্তিগত সামাজিক জীবনে যতটা প্রভাব বিস্তার করে;

মানের অপর কোনো মনোবৃতি, সিদ্ধান্ত অভ্যাস তাহা করে না। সে ইহাকে বাধা দিক এবং আয়ত্তে রাখুক, অথবা পরাজিত হইয়া ইহার

প্রবাহে ভাসিয়৷ চলুক, তাহার কাজের প্রতি্ধনি সামাজিক জীবনের বহুদুরবস্তী স্থানেও পৌছিবে ; কারণ প্ররুতির নিরম এই বে, অত্যন্ত গুপ্ত কাজও আপনার প্রভাব বিস্তার না করিয়া পারে ন|।

“যখন আমরা কোনোপ্রকার নৈতিক বন্ধন ছিন্্ করি, তখন আমরা! ভাবি, আমাদের দুষ্ধাধ্যের পরিণাম খারাপ হইবে না। প্রথমতঃ, নিজেদের সম্বন্ধে আমর] সন্তষ্ট থাকি, কারণ আমাদের নিজেদের স্থখ অথবা স্বাথসাধনই আমাদিগকে কাজে নিয়োজিত করে; সমাজের সম্বন্ধে আমর! ভাবি, সমাজ এত উচ্চ যে ইহা আমাদের মত সামান্ত লোকদের কুকাধ্য লক্ষ্য করিবে না; সর্ধোপরি আমরা মনে মনে আশা করি যে, অপর সকলে পবিত্র সদাচারী থাকিবে ইহার সর্বাপেক্ষা শোচনীয় কুফল এই যে, যতদিন এই দৌষ অল্প লোকের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকে ততদিন উপরোক্ত কাপুরুষোচিত হিসাব প্রায়ই ঠিক হইয়া থাকে? কিন্তু তাহার ফলে মাহুষের এই মন্সোভাব ক্রমে বন্ধমূল

১৬ ছুর্নীতির পথে

হইতে থাকে এবং পরিশেষে ইহা স্ায়সঙ্গত মনে হয়--এবং ইহাই আমাদের চরম শান্তি ।”

“কিন্ত এমন দিন আসে যখন এই ভাবে চলার ফলে অন্যান্য কর্তব্য- চ্যাতি ঘটে; আমাদের প্রত্যেক দুষ্ধার্য্যের ফলে, অন্য লোকের পক্ষে যে ধন্মপথে চলা! আমর| সহজ বলিয়া ধরিয়া লইয়াছিলাম, তাহা আরও দুর্গম কঠোর হইয়। উঠে এবং আমাদের প্রতিবাসীরা ধোখা খাইতে খাইতে হয়রাণ হইয়া ব্যস্ততার সহিত আমাদের অন্গকরণ করে। দিন হইতে পতন আরম্ভ হয় এবং প্রত্যেকে আপন আপন ছুষ্ার্য্যের ফল এবং তাহার দায়িত্বের পরিমাণ বুঝিতে পারে

"যেখানে বদ্ধ থাকিবে মনে করিয়াছিলাম, সেই খ্রপ্তস্থান হইতে গোপন কাজ বাহির হইয়! পড়ে। বায়ুমণ্ডলের ভিতর দিয়! যে ভাবে রেডিও চলে, ইহার সেইরূপ অপার্থিব শক্তি আছে; সেই শক্তির বলে ইহা সমাজের সব স্তরে প্রবেশ করে; প্রত্যেকের দোষে প্রত্যেকে ছুংখভোগ করে; কারণ ক্ষুপ্র জলাশয়ে পাথর ফেলিলে, তাহা হইতে ছোট ছোট তরঙ্গ যেরূপে বহুদূরে যায়, তেমনি আমাদের কাজের প্রভাব, সমাজের অতি দূরতম প্রদেশেও অন্ভূত হয়।

“তভ্রষ্টাচার জাতির প্রাণশক্তিকে দ্রুত শুকাইয়৷ ফেলে, পরিণত বয়স্কদের শরীর ক্ষীণ রোগপ্রবণ করিয়া তোলে এবং তাহাদের শরীর. মনের বল কমাইয়৷ দেয়।

সহসমেব্র উপক্াক্রিতা

রষ্টাচার তথা কৃত্রিম উপায়ে ছু্নীতির প্রসার তার ভয়ঙ্কর পরিণাম সন্ন্ধে আলোঠনা করিয়া লেখক তাহা! নিবারণ করার উপায় সম্বন্ধে আলোচনা করিয়াছেন। যে অংশে আইন-কাঙ্থন, তাহাদের প্রয়ো- জনীয়তা৷ সম্পূর্ণ ব্যর্থত| সন্ধে আলোচনা আছে, আমি ভার কথ! এখানে কিছু বলিব না। তার পর তিনি লোকমত গঠন করিয়া অবিবাহিতদের সংযম রক্ষার প্রয়োজনীয়তা. যাহার! সব সময় পাশববৃত্তি দমন করিতে সক্ষম নহে, তাহাদের বিবাহের প্রয়োজনীয়তা, বিবাহের পর স্বামীস্ত্রীর পরম্পরের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং বিবাহিত জীবনে রশ্ষর্ধ্যের আবশ্তকতা সম্বন্ধে লিখিয়াছেন। সংযমের বিরুদ্ধে কেহ কেহ এই যুক্তি পেশ করেন যে, ইহা নরনারীর স্বাভাবিক বৃত্তির বিরোধী, স্বাস্থোর পক্ষে অনিষ্টকর, ইহা ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে খর্ব করে, প্রত্যেককে ইচ্ছামত জীবনযাপন করার স্থধী হইবার স্বাধীনতা হইতে বঞ্চিত করে। তিনি সব যুক্তি আলোচনা করিয়াছেন।

তিনি শ্বীকার করেন না যে, অন্ত ইন্িয়ের ম্যায় জননেন্দ্িয় আপনার ভোগ চায়। ইহা সত্য হইলে ইহাকে দমনে রাখিবার যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ইচ্ছাশক্তির স্তাছে, তার মূল কিরপে নির্ণাত হইবে? আধুনিক সভ্যতা অকালে অর্নবয়স্ক বালক-বালিকাদের সামনে অসংখ্য উত্তেজনার

কারণ উপস্থিত করে বলিয়া, অসময়ে তাহাদের ইশ্রিয়পরাযণত! জাগ্রত চ$

১৮ দুর্নীতির পথে

হয়। আবার এই ইন্জরিয়সেবাকে কোনো কোনো কৃট তাকিক অতি প্রয়োজনীয় মনে করেন

টুবিগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অষ্টালেনি বলেন, “কামবাসনা এত প্রবল নহে যে, বিবেক অথবা নৈতিক শক্তির সাহায্যে ইহাকে সংযত করা যায় না। উপযুক্ত সময় পর্য্যন্ত যুবক যুবতীর নিজেকে সামলাইয়৷ চল! উচিত। তাহাদের জানা উচিত, এইরূপ স্বেচ্ছাকত আত্মত্যাগের পুরফারস্বরূপ হৃষ্টপুষ্ট শরীর, অটুট স্বাস্থ্য নিত্য নৃতন উৎনাহের অধিকারী হওয়া যায়।”

“সংযম পূর্ণ পবিত্রতার সহিত শরীরবিজ্ঞান নীতিধর্মের সম্পূর্ণ সামঞ্স্য আছে। নীতি ধর্মের অস্থশাসনের ন্যায় শরীরবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানও অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সেবার সমর্থন করে না।”

লগুনের রয়াল কলেজের অধ্যাপক শ্রীযুক্ স্যার লায়ন্স বিলী বলেন, "শ্রেষ্ঠ এবং মহৎ লোকের দৃষ্টান্ত হইতে সব সময় বুঝা! যায় যে, সর্ববাপেক্ষ! শক্তিশালী বিকার সহজাত সংস্কারকেও প্রবল ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে এবং জীবন যাপন প্রণালী পেশা নির্বাচনে সাবধানতা অবলম্বন করিলে সংযত করা যায়। শুধু বাহিকভাবে নহে,

ইন্ত্িয়সেবা হইতে বিরত হইয়াছেন, কানো অনিষ্ট হইতে পারে না। এক কথায়, মন ভাল হইলে অবিবাহিত থাকা একটুও_

ছুঃসাধ্য নহে। *** সুস্বোগ-ব্রিতিই ্রশ্চধ্য. নহে। মানসিক পবিত্রতা এবং অটল বিশ্বাসের ফলে যে শক্তিলাভ হয় তাহাই ব্রদ্চরধ্য।

হ্হ্স মনোবিজ্ঞানবিৎ ফোরেল বলেন, “প্রত্যেক রকম ন্বায়বিক কাজ অনুশীলন দ্বারা বৃদ্ধি পায় শক্তিশালী হয়। অন্যপক্ষে, কোনো বিশেষ ক্সায়ুর কাজ বন্ধ রাখিলে, উত্তেজনার কারণ কমিয়া তাহা সংযত থাকে।

ংযমের উপকারিতা ১৯

ইন্্িয়-চাঞ্চলোর সব কারণই বিষয়-বাসনাকে অত্যন্ত প্রবল করে। এই নব উত্তেজন| এড়াইতে পারিলে, বিষয়-তৃষ্ণা ক্রমে কমিয়া যায়। যুবক-যুবতীদের এই ধারণা আছে যে, ইন্জিয়-নিগ্রহ অস্বাভাবিক অসস্ভব। তথাপি অনেকে সংযত জীবন যাপন করিয়া প্রমাণ করিয়া থাকেন যে, সংযম রক্ষা করিলে স্বাস্থ্যের কোনো অনিষ্ট হয় না।

আর এক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, যাহারা পূর্ণ সংযম পালন করিয়াছেন, অথবা বিবাহের পূর্বব পর্যাস্ত ইহা পালন করিয়াছেন, এরূপ কতকগুলি লোককে আমি জানি-_ইহাদের বয়ন ২৫৩৭ অথবা তাহ! অপেক্ষা বেশী একপ দৃষ্টান্ত বিরল নহে, তবে তাহার! নিজেদের কথা ঢাক-ঢোল পিটাইয়া প্রকাশ করেন না।”

প্যাহাদের শরীর মন উভয়ই স্থস্থ এরূপ ছাত্রদের নিকট হইতে আমি অনেক গোপন চিঠি পাইয়াছি। ইন্দ্রিয়সংযম স্ুসাধ্য সে কথা আমি বিশেষ জোরের সহিত প্রচার করি নাই বলিয়া তাহারা অভিযোগ করিয়াছেন

ডাক্তার এক্টন বলেন, “বিবাহের পূর্ব যুবকদের পূর্ণ সংযম পালন করা সম্ভব এবং কর্তব্য" সার জেম্স্‌ প্যাকেট বলেন, “পবিত্রতা আত্মার যেমন কোনো অনিষ্ট করে না, তেমনি শরীরেরও কোনো অনিষ্ট করে না। সংযমের পথে চলা সর্বাপেক্ষা শেষ্ঠ।'

ডাক্তার পেরিয়র বলেন, “পূর্ণ সংঘম পালন করিলে অনিষ্ট হয়, এই ধারণা অনেকের আছে। এই ভুল ধারণা নষ্ট করার জন্য চেষ্টা কর! দরকার। কারণ ইহাতে যে শুধু বালক-বালিকাদের মন বিগড়াইয়া দেয় তাহা নহে, অহাদের পিতামাতার মনও বিগড়াইয় দেয়। ক্রদ্ষচর্ধ্য যুবকদের শারীরিক, মানসিক নৈতিক উন্নতির সহায়তাকারী 1”

সার এগ ক্ার্ক বলেন, “সংঘম কোনো ক্ষতি করে না, শরীরগঠন

২. ছুর্নীতির পথে

পুষ্টির বাধা দেয় না; ইহা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বুদ্ধিকে প্রথর করে৷ ইন্জিয়-পরায়ণতা আল্ম-সং্যমের শক্তি হ্রাস করে, অলসতা বৃদ্ধি করে, শরীরকে অকর্মণ্য স্ব করে এবং ইহাকে এমন মব রোগের আকর করে, যেগুলি পরবর্তী অনেক পুরুষ পধ্যন্ত সংক্রামিত হয়। যুবকদের ্বাস্থারক্ষাঁর জন্য ইন্দ্িয়সেবা দরকার, কথা৷ শুধু ভুল নহে, ইহা মিথ্যা অনিষ্টকর এবং ভয়ানক নিষ্ঠরতাপূর্ণ।”

ডাক্তার সারব্রেড লিখিয়াছেন, “অসংযমের ফল যে খারাপ তাহা 'অবিসংবাদিত এবং সর্বজনবিদিত, পরস্থ স্যষের ফল যে খারাপ তাহা করিত মাত্র অনেক প্রসিদ্ধ বিদ্বান লোকে প্রথমটি সমর্থন করেন, কিন্ত কোনো পণ্ডিত ব্যক্তি শেষোক্ত মত সমর্থন করেন না। শেষের দলের লোকে প্রকাশ্ঠভাবে তাহাদের মত আলোচনা পর্যন্ত করিতে চান না।

ডাক্তার মোণ্টেগাজজা! তাহার এক পুস্তকে লিখিয়াছেন, “সংযমের ফলে কাহারও কোনো ব্যাধি হইতে দেখি নাই। সব লোকে বিশেষতঃ যুবকেরা সংঘমের টাটক! ফল প্রত্যক্ষ করিতে পারেন।

বিখ্যাত অধ্যাপক ডুবয় বলেন, “যাহারা অধিক ইন্দ্রিয়সেব করে তাহাদের অপেক্ষা যাহারা কিছু সংযত জীবন যাপন করে, তাহাদের মধ্যে প্রায়বিক দৌর্বধল্য কম।” ডাক্তার ফিয়ার বলেন, “যাহারা মানসিক পবিত্রতা রক্ষা করিতে পারে, ভোগ-বিরতি তাহাদের কোনো অনিষ্ট করে না এবং ইন্দিয়-চরিতার্থ করার উপর স্বাস্থ্যরক্ষা নির্ভর করে না।”

অধ্যাপক আলফ্রেড ফোণিয়ার লিখিয়াছেন, “সংযম রক্ষা করিলে সুবকদের অনিষ্ট হয়, এরূপ অযোগ্য তরল আলোচন! কোথাও কোথাও হইয়া থাকে জানি। আমি দৃঢ়তার সহিত ঘোষণা করিতেছি যে, ইহাতে কোনো অনিষ্ট হয় না। চিকিৎসক হিসাবে আমার এইক্প

1471৬ সংযমের উপকারিতা [31 চস ব্যাপার লক্ষ করার যখেষ্ট স্থযোগ থাকা সব্ধে, যাকে কোনো অনিষ্ট হইয়াছে, তার কোনো প্রমাণ আমিপাই নাই 1৮

“ইহা ভিন্ন শরীর-শাস্ত্ববেত্বারূপে আমি বলিব, ২১ বৎসর বা এইক্সপ বয়সের পূর্বে প্রকৃত বীর্যা-পুষ্টি হয় না; এবং বিশেষভাবে কুৎসিৎ উত্তেজন] দ্বারা কু-বাসনা উদ্দীপ্ত না হইলে, তার পূর্বের ইন্দিয়সেবার উচ্ছা উৎপন্ন হয় না। অকালে ইন্দ্রিয়-পরিত্ৃপ্তির ইচ্ছার মূলে থাকে কৃত্রিম অভাব, এবং অধিকাংশ সময় ইহা কুশিক্ষার ফল।”

“সে যাহা হউক. নিশ্চিত জানিয়া রাখুন, স্বাভাবিক গ্রবৃত্বির পথে চলা অপেক্ষা তাহা সংঘত করিতে গেলে শরীরের অনিষ্টের সম্ভাবনা কম হইবে ।”

এই সব স্থবিখ্যাত লোকের মত উদ্ধৃত করার পর, ্রীযুক্ত বুরো ১৯*২ সালে ব.সেল্স্‌ নগরে, আন্তর্জাতিক স্বাস্থা নীতিরক্ষা কংগ্রেসের অধি- বেশনে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ১০২ জন বিশেষজ্ঞ কর্তৃক সর্বসন্মতিকুমে যে প্রস্তাব গৃহীত হইয়াছিল, তাহা উদ্ধত করিয়াছেন :--“যুবকদিগকে সর্বোপরি এই শিক্ষা দিতে হইবে যে, ব্রদ্ধচর্ধ্য এমন জিনিষ যাহা কাহারও কোনো অনিষ্ট তে! করেই না, বরং ইহা স্বাস্থা রক্ষার জন্য পরম আবশ্যকীয়

বুরো তারপর লিখিতেছেন :__কয়েক বৎসর পূর্বে কোনো খষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা-বিভাগের আচার্যগণ সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা করিয়াছিলেন, “পবিত্র জীবন যাপন করিলে স্বাস্থোর হানি হয়, এইরূপ উক্তির মূলে কোনো ভিত্তি নাই পবিভ্র নৈতিক জীবন যাপন করিয়া, কাহারও কোনো ক্ষতি হইয়াছে একূপ কিছু আমাদের জানা নাই |”

“এ কথা শুনা গিয়াছে এবং নীতিবিদ সমাজ-শাস্ব-ধুরত্ধরগণ শ্রীযুক্ত ক্লায়সেনের এই স্পষ্ট সত্যের পুনরাবৃত্তি করেন বেআহার ব্যায়ামের

২২ ছু্নীতির পথে

গ্ঘায় বিষয়-ভোগের তৃষ্তির দরকার নাই। কথা সত্য, ছই একটি বিশেষ উদাহরণ ব্যতীত, প্রত্যেক নরনারী কোনো অস্থবিধায় না পড়িয়া কোনো প্রকার পীড়াগ্রন্ত না হইয়াই, পবিত্র জীবন যাপন করিতে পারে। বহুবার বলা সত্বে ইহার পুনরুক্তি করিলে দোষের হইবে না যে, সংযম হেতু জনসাধারণের কোনো ব্যধি উৎপন্ন হয় নাই, এবং জনসাধারণই সংখ্যায় সকলের চেয়ে বেশী। ইহাও সত্য যে অনেক সর্বজনবিদিত সংঘাতিক মারাত্মক ব্যাধি অসংঘম হইতে উৎপন্ন হয়। প্ররুতি সর্বাপেক্ষা সরল অভ্রান্তভাবে খাদ্য হইতে উৎপন্ন প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তির উচিত ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছে-ইহাকে আমর! মাসিক খতু অথবা অনায়াস-্থলিত বীধ্যরূপে দেখি

“হৃতরাং ডাক্তার ভিরি ঠিকই বলিয়াছেন যে, বাস্তবিক আবশ্ঠকতা অথবা খাঁটি সহজাত সংস্কারের সহিত এই প্রশ্নের কোনো সম্বন্ধ নাই। সকলেই জানেন, ক্ষুধায় আহার না করিলে, অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের' গতি বন্ধ করিলে, পরিণাম কিরূপ খারাপ হইতে পারে; “কিন্ত সাময়িক অথবা স্থায়ী সংযমের ফলে কোনো সামান্ত অথবা সাংঘাতিক ব্যারাম হইয়াছে, কথা কেহই লিখেন নাই। আমরা সাধারণতঃ দেখিয়া থাকি, যাহারা ব্রহ্মচর্ধ্য পালন করেন, তাহার! চরিক্ত্র- বলে কাহারও অপেক্ষা নান নহেন, কম উৎসাহী অথবা কম বলবান নহেন, এবং বিবাহ করিলে সন্তানের জন্ম দিতে কম যোগা নহেন। যে প্রয়োজন অবস্থা অনুসারে পরিবত্তিত হয়, যে সহজাত সংস্কার তৃপ্তির অভাবে শান্তভাব ধারণ করে, তাহা প্রয়োজনও নহে সহজাত সংস্কারও নহে।

যে বালক বাড়িতেছে শারীরিক প্রয়োজনে ইন্দরিয়সেবা করা তাহার পক্ষে অনাবশ্থক ; বর তাহার স্বাভাবিক বৃদ্ধি দৈহিক গঠনের,

ংযমের উপকারিতা ২৩

উন্নতির জন্য পূর্ণ সঘমই বিশেষ দরকার। যাহারা ইহা! মানে না, তাহারা স্বাস্থ্যের মহা অনিষ্ট করে যৌবনপ্রাপ্তির সময় অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়, শরীর মনের বিক্ষোভ চাঞ্চল্য উপস্থিত হয় এবং সাধারণ উন্নতি হয়। বর্দিষু বালকের পক্ষে তাহার সমগ্র জীবনী-শক্তি সঞ্চয়ের প্রয়োজন খুব বেশী, কারণ এই সময় রোগ-প্রতিরোধ করার শক্তি প্রায়ই কমিয়া যায়, ব্যাধি এবং মৃত্যুহার পূর্ববাপেক্ষা অনেক বেশী হয়। দীর্ঘকাল-সাপেক্ষ শরীরবৃদ্ধি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রমবিকাশ, সমগ্র শারীরিক মানসিক পরিবর্তন, যার পরিণামে বালক মানবত্ব প্রাপ্ত হয়, তাহা প্রকৃতির পক্ষে বহু পরিশ্রমনাপেক্ষ ব্যাপার এই সময় সব রকম মাক্মাধিক্য বিশেষতঃ ইন্দ্রিয়-সেবা অত্যন্ত বিপদসম্কুল।

পঞ্চম অধ্যায়

ব্যক্ত স্বাধীনতা সহম

র্বচরধ্য পালনের ফলে যে শারীরিক উপকার হয় তাহা আলোচনার পর, বুরো ইহার নৈতিকও মাননিক উপকার নঙ্দ্ধে অধধাঁপক মন্টে- গাজার নীচের লেখাটি উদ্ধৃত করিয়াছেন।

“মকল মানুষ বিশেষতঃ _যুবকগণ ত্রন্ষতর্যের ফল টাটকা কা পাইতে পারেন। ইহার ফলে রশি স্থির প্রথর, বুদ্ধি উর্বর, ইচ্ছাশক্তি আদমা হয় এবং সং সমস্ত জীবনে এমন এক পরিবর্তন, সাধিত. হয় যার. ক্পনাও ফেছাচারীগ্ণ কখনও করিতে পারে না। সংযম আমাদের পারিপাখিক জিনিষকে এমন য় আভায় ররিত করে যাহা আর কিছু- তেই পারেন না। ইহা বিশ্বের অতি সামান্য দ্রবাকেও উজ্জল আলোকে আলোকিত করে এবং আমাদিগকে চিরস্থায়ী সখের পবিত্রতম আননের ভিত লইয়া যায়_এ আনন্দ কখনও হাস বা যান হয় না। গ্রস্থকার আরও বলেন, “তবওর্যা-ব্রতধীরী তেজ যুবকদের প্রহু্চিত্বগ আনন্দ এবং ইন্জিয়ের দাগণের অশান্তি অস্থিরচিত্ততার মধ্যে আকাশ গাতাল প্রভেদ তিনি তার পর কামুকতা চরিত্রহীনতার শোচনীয় পরিণামের সহিত সংযমের উপকারিতার তুলনা করিয়াছেন। গ্রন্থকার বলেন, “মংঘমের ফলে কাহার কোনো রোগ হয় না, কিন্তু অসংযমের ফলে যে ভয়ানক ব্যাধি হয় মে কথা কে না জানে? অসংযমের ফলে শরীর গচিয়া যায়, কল্পনাশি, বুদ্ধি এবং অন্তঃকরণ পর্যন্ত কলুষিত হয়।

ব্যক্তিগত স্বাধীনত। সংযম ২৫

ইহার ফলে সর্ধত্র চরিত্রের অবনতি, ইন্দরিয়ের উদ্দাম প্রবৃত্তি এবং স্বার্থপরতা বৃদ্ধি হয় ।”

পর্যান্ত বিবাহের পূর্বের ইন্ড্িয়সেবার তথাকথিত প্রয়োজন এবং তার ফলে যুবক-যুবতীর যথেচ্ছ-বিহারের বা স্বাধীনভাবে চলার কথা বলা হইয়াছে। ইহা সত্ব, যাহার! বীর্ধ্যনাশ করা আবশ্যক মনে কবেন, তাহার! বলেন, ইহাতে বাধা দিয়া তোমরা আমাদের স্বাধীনভাবে শরীর-বাবহারের অধিকারে হস্তক্ষেপ করিতেছ। গ্রন্থকার স্থন্দর যুক্তিদ্বারা দেখাইয়াছেন যে, সমাজের কল্যাণের জন্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় এবপে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে

গ্রন্থকার বলেন, “সমাজতত্ববিদের মতে কর্ের পরম্পর ঘাত- প্রতিঘাতের নাম জীবন। এমন কোনো কাজ নাই, যাহাকে আমরা অন্যান্য কাজ হইতে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন কহিতে পারি। প্রত্যেক কাজের প্রভাব সর্ধত্র পড়িবে। আমাদের অতি গোপন কাজ, চিন্তা, অথবা সংকল্পের প্রভাব এত দূরে গভীরভাবে পড়ে, যার ধারণ| করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। মানুষ মানুষ বলিয়াই সামাজিক জীব। এই সামাজিক প্রবৃত্তি তাহার মন্ুষ্যত্বেরই অঙ্গ ইহ! সে বাহির হইতে লাভ করে নাই। মান্ছষের সব কাজের ভিতরকার এই অথগ্ড সম্ব্ধ বিচার না করিয়।, কখনও কখনও কোনো কোনে সমাক্জ দুই এক বিষয়ে লোককে স্বাধীন বানাইতে চাহে এই স্বাধীনতাকে স্বীকার করার ফলে ব্যক্তি আপনাকে ছোট করিয়া! ফেলে-_ আপনার মহত্ব খোয়াইয়া বসে।”? |

গ্রন্থকার আর৪ বলেন, “অবস্থাবিশেষে রাস্তায় খুতু ফেলার অধিকার যখন আমাদের নাই, তখন বীর্ধযবূপ মহাশক্কি খরচ করার স্বাধীনতা আমাদের কিনূপে থাকিবে? একাজ কি এরূপ যে, উপরে

২৬ দুর্নীতির পথে

বর্ণিত সমস্ত কাজের পারস্পরিক অথণ্ড সঙ্বম্বের সহিত ইহার কোনো সংশ্রব নাই প্রকৃত ব্যাপার এই যে, গুরুত্ব হেতু ইহাঁর প্রভাব আরও গভীর। যে নব-যুবক এবং বালিকা নিজেদের মধ্যে এখনই এরূপ সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছে, তাহাদের কথা ধরুন। তাহারা মনে করে, বিষয়ে তাহারা সম্পূর্ণ স্বাধীন_-তাহাদের কাজের জন্য আর কাহারও কিছু আসিয়া যায় না; ইহার ফল শুধু তাহারা দুঙ্নে ভোগ করিবে। স্বাধীনতার তুল ধারণার বশে তাহারা ভাবে, তাহাদের গোপন কাজের সহিত সমাজের কোনে সম্বন্ধ নাই এবং তাহাদের কাজ সম্পূর্ণ্ূপে সমাজ-শাসনের বাহিরে ইহা শিশুর কল্পনা! তাহারা জানে না যে, প্রত্তেকের গুহ এবং ব্যক্তিগত কাজের ভয়ানক প্রভাব অত্যন্ত দূরের কাজের উপরও পড়ে। এইরূপে সমাজ বিশৃঙ্খল হইয়া উঠে। যদি তুমি শুধু আনন্দের জন্য অল্স্থায়ী অথবা অন্থুৎপাদক যৌনমিলনের অধিকার স্থাপন করিতে অগ্রদর হও, যদি জীবনের সারপদার্থ বীধ্যকে যথেচ্ছ ব্যবহার করিতে যাও, তবে তুমি ইচ্ছা কর আর না কর, ইহা দ্বারা সমাজের ভিভর ভেদ বিশৃঙ্খলার বীজ বপন করিবে। আমাদের স্বার্থপরতা এবং উচ্ছঙ্খলতার দ্বারা সম্পর্ণরূপে বিগড়াইয়া গেলেও সমাজ ইহা ধরিয়! লয় যে, লোকে জননবৃত্তি তৃপ্তির সহিত ইহার দায়িত্ব ভালভাবে গ্রহণ করিবে। এই দায়িত্ব লোকে ভুলিয় যায় বলিয়া, সমাজে আজ মুলধন এবং শ্রম, মজুরী সম্পত্তির অধিকার, করধার্ধ্য করা এবং সৈম্যদলত্ুক্ত হওয়া, প্রতিনিধিত্বের অধিকার এবং নাগরিকের ম্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয় লইয়া জটল সমস্তার উত্তব হইয়াছে। কেহ এই দায়িত্ব গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিলে, সে একই আঘাতে, সমাজের সমস্ত সংগঠন নষ্ট করিয়া দেয়। এরূপে সে সমাজ-বদ্ধনের ' মূলতত্ব অগ্রাহ করে, অপরের বোবা। ভারি

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংযম

করিয়া নিজে হালকা হইতে চায় এবং পরগাছার ন্যায় জীবন যাপন করিতে ইচ্ছা করে; স্থৃতরাং সে লুণ্ঠনকারী, চোর জুয়াচোর অপেক্ষা ভাল নহে। অন্যান্য শক্তির ন্যায় শারীরিক শক্তির সদ্বাবহারের জন্ত আমরা সমাজের নিকট দায়ী। সমাজ বিষয়ে নিরস্ব। সমাজের মঙ্গলের জন্য শক্তি হিসাব করিয়া ব্যবহার করার দায়িত্ব আমাদের উপর ন্যান্ত হইয়াছে, সেজন্য দায়িত্ব অন্যান্য দায়িত্ব অপেক্ষা গুরুতর 1”

*ম্বাধীনতা বাহির হইতে স্থখের মনে হয়, পরস্ত ইহা বাশ্তবিক এক বোবা স্বরূপ। ইহার ধারণ! প্রথমেই হইতে পারে। মন বিবেকের ভিতর এঁক্য আছে তা জানি; ছুটির ভিতরই আমাদের শক্তি নিহিত আছে; পরস্ত উভয়ের ভিতর বিস্তর পার্থক্যও দেখা যায়। যখন মন বিবেক বিপরীত পথে চলিতে বলে, তখন কাহাকে মানিব? আমাদের বিবেক বুদ্ধি হইতে যাহা উৎপন্ন তাহাকে মানিব, না অত্যন্ত হীন ইন্জ্রিয়লালসা হইতে যাহা উৎপন্ন তাহাকে মানিব? যদি বিবেকের জয় হইলে সমাজের উন্নতি হয়, তবে এই ছুটির ভিতর একটি রাস্তা বাছিয়া লওয়া কিছু শক্ত নহে। তবে তর্কের খাতিরে কথাও বলা চলে যে, শরীর আত্মার যুগপৎ বিকাশ চাই। সে বেশ কথা। কিন্ত ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে, আত্মার সামান্য বিকাশের জন্যও কিছু না কিছু সংযম পালন করিতে হয়। প্রথমে এই বিলাসের ভাবকে নষঈ করিয়া দিলে, পরে যাহা ইচ্ছা হওয়া যায়।”

গ্যাব্রিয়েল সিলেস লিখিয়াছেন, “আমরা মানুষ হইতে ইচ্ছা করি কথা বলা খুব সোজা, কিন্ত ইহা এক কঠোর কর্তব্য এবং ইহা পালনে সকুলেই অল্প বিস্তর অক্ষম। “আমরা স্বাধীন হইতে চাই? ইহা ঘোষণা করিয়া লোকের অন্তরে আমরা ভ্রাসের সঞ্চার করি। সহজাত সংস্কারের গোলামরূপে ইচ্ছামত কাজ করাকে যদি

২৮ দুর্নীতির পথে

্বাধীনতা বলিতে হয়, তবে জন্য গর্ব করার কিছু নাই। যদি খাটি, স্বাধীনতা চাই, ডুবে যেন কোমর বাধিয়া স্থায়ী যুদ্ধের জা প্রস্তত হই। একতা, সাম্য এবং স্বাধীনতা সম্বন্ধে কিছু বুলি কগচাইয়া গার্ধভরে আমরা ভাবি যে, আমরা ভগবানের অমর সম্ভান। কিন্তু এই “'আমি'কে ধরিতে চে! করিলে, “আমি'র খোজ পাই না) ইহা অসংখ্য কতঙ্ত্র প্রাণীতে পরিণত হইবে--ইহারা একে অপরকে অস্বীকার করে, ইহাদের ইচ্ছাও পরম্পরবিরোধী-__-এই সব ইচ্ছার সমষ্টি লইয়াই আমি। যেসব কুসংস্কার এবং প্রলোভনের অধীন আমি হইয়া থাকি, আমি তাহাই। আমার এই স্বাধীনতা ইন্্রিয়ের দাস ভিন্ন আর কিছুই নহে-_এই দাসত্কে অবশ্য আমি দাসত্ব মনে করি না এবং বাধ! দেই ন1।”

রায়সেন বলেন, “সংযম শান্তির এবং অসংযম অশাস্তিূপ মহাশক্রর উৎ্ম। কামেচ্ছা সব সময় বিপদসম্ীল। কিন্তু যৌবনে ইহা ভয়ানক অধঃপতনের কারণ হইতে পারে। ইহা আমাদের ইচ্ছাশক্তি বুদ্ধি- বৃত্তিকে বিলকুল বিগড়াইয়! দিতে পারে। যেষুবক প্রথমবার কোনো স্ত্রীলোকের সহিত মিলিত হয়, সে জানে না যে, এরূপে সে তাহার শারীরিক, মানসিক নৈতিক জীবন লইয়া খেলা করিতেছে; সে ইহাও জানে না যে, এই ইক্জিয়প্তির কথা ভবিষ্যতে তাহার স্মতিপটে উদ্দিত হইয়া তাহাকে বার বার যাতন! দিবে এবং পে আপনার ইন্জিয়ের হীন দাসরূপে পরিণত হইবে। এমন অনেক লোকের কথা জানি, যাহাদের নিকট লোকে অনেক কিছু আশা করিয়াছিল, কিন্তু যাহার! গোল্সায় গিয়াছে- প্রথম বারের নৈতিক পতন “হইতেই তাহাদের অধ:পতন সুর হইয়াছে ।”

কবিও দার্শনিকেত্র কথার প্রতিধ্বনি করিয়া বলিতেছেন, “মানুষের

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংযম ২৯

আত্মা গভীর পাত্রের স্যায়, একবার যদি ইহার উপর কলুষিত জল ফেলা হয়, তবে সহঅবার ধুইলেও ইহার কলুষ দূর হয় না।”

ইংলগডের বিখ্যাত শরীর-শাস্্-বিদ কে্তিক সাহেব বলেন £-.

যৌবনোন্সেষের সময় অবৈধ ইন্দিয়-পরিতৃপ্তি কেবণমাত্র নৈতিক অপরাধ নহে, ইহা শরীরের পক্ষে মহ] অনিষ্টকর। একবার বশ্া্া স্বীকার করিলে, এই নৃতন অভাব আরও অত্যাচার করিবে, এবং মন অপরাধী হইলে ইহার কথা শুনিতে ইচ্ছা হইবে এবং ইহার শক্তি আরও বৃদ্ধি পাইবে। প্রত্যেক বারের নৃতন কাজ, গোলামীর জিপ্রিরে এক নৃতন কড়া লাগাইবে |”

“ইহা ভাঙ্গিবার শক্তি অনেকের থাকে না। এই প্রকারে এক অজ্ঞতা-জনিত অভ্যাসের ফলে জীবন নষ্ট হয়। ইহা হইতে রক্ষ! পাইবার শ্রেষ্ট উপায় হইল পৃবিত্র চিন্তা করা. এবং সব কাজে সংযতভাবে_ চুল11”

শ্রযুক্ধ বুরো ডাক্তার এসকাণ্ডির লেখা উদ্ধৃত করিয়াছেন :__“মন সংকল্প দ্বারা মিলনের ইচ্ছাকে আয়ত্বাধীন করা যায়। ইন্দ্রিরভোগের প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তে ইন্দ্িয়ভোগের ইচ্ছা শব ব্যাবহার করা দরকার, কারণ ইহা এমন কোনো অবশ্ঠকরণীয় কাজ নহে, যাহা ভিন্ন জীবন ধারণ করা অসম্ভব অনেকে ইহাকে বিশেষ দরকারী ভাবিলে বাশ্ুবিক ইহা দরকারী কাজ নহে আমরা কথা বলিতে পারি না যে, প্রাকৃতিক নিয়মের বশীভূত হইয়। অনন্যোপায় হইয়া পরিপত বয়সে আমরা ইহাতে লি হই। বরং পূর্বব হইতে সংকল্প করিয়া জানিয়া শুনিয়া ইচ্ছা করিয়াই আমরা ইন্দিয়সেবায় নিরত হইয়া থাকি।

ষষ্ঠ অধ্যায়

আজীবন ভ্রঙ্মচধ্য

'বিবাহের পূর্বের এবং পরে সংযম রক্ষা করিতে বলিয়া, খবং আত্ম-সংযম অসম্ভব বা অনিষ্টকর নহে বরং ইহা সম্ভব এবং মন শরীরের পক্ষে হিতকর ইহা দেখানর পর বুরো আজীবন ব্রশ্চরধ্য সমন্ধে এক অধ্যায় লিখিয়াছেন। তাহার প্রথম প্যারাটি এই :-_

“কাম-বাসনার গোলামী হইতে মুক্ত বীরদের মধ্যে সর্বপ্রথম সেই সব যুবক যুবতীর নাম লওয়া দরকার, যাহারা কোনে! মহান্‌ উদ্দেশ্য সাধনের জন্ত আজীবন অবিবাহিত থাকিয়া ত্রন্ষচ্্য পালন করা স্থির করিয়াছেন। তাহাদের এই দৃঢ় সংকল্পের ভিন্ন ভিন্ন কারণ আছে। কেহ অসহায় পিতামাতার সেবা করা কর্তবা মনে করেন, কেহ মাতৃপিতৃ- হীন ছোট ভাইভগ্ীর মাতাপিতার স্থান গ্রহণ করেন, কেহ জ্ঞানের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেন, কেহ দরিদ্র অথবা! রোগীর সেবায়, কেহ ধন্ম বা নীতিশিশ্ষা কার্ধ্যে আপনাকে নিয়োজিত করিতে চান। এই সংকল্প পালন করিতে গিয়া কাহাকে কাহাকেও পাশববৃত্তির সহিত ভয়ানক যুদ্ধ করিতে হয়, এবং ভাগ্যবশে কেহ্‌ কেহ ইন্দ্রিয় দ্বারা একরূপ ্রলুন্ধই হন না। তাহারা মনে মনে নিজের কাছে অথবা ভগবানের কাছে প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন, যে সংকল্প তাহারা করিয়াছেন তাহা ত্যাগ করিবেন না এবং বিবাহের চিন্তা করা তাহাদের পক্ষে ব্যভিচার সদৃশ অবস্থা বিশেষে বিবাহ করা অবশ্ত কর্তব্য হইলেও, মহৎ উদার উদেশ্-প্রণোগ্িত হইয়! বিবাহ না! করার সংকল্পও কোনো কোনে!

আজীবন ব্রহ্গচর্য্য ৩১

স্থলে স্তায়সঙ্গত। প্রসিদ্ধ চিত্রশিল্পী মাইকেল এঞ্েলোকে কেহ বিবাহ্‌ করিতে বলিলে তিনি কহিয়াছিলেন, “আমার পত্থী চিত্রবিদ্যা বড় হিংহটে ; তিনি সতীন বরদীস্ত করবেন না ।”

ধাহার! আজীবন ব্রহ্মচ্ধ্য পালন করিয়াছেন, এইরূপ সকল প্রকার ইউরোপীয় বন্ধুর অভিজ্ঞতার বিবরণ বুরো৷ সাহেব তাহার পুস্তকে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। তাহাদের কথা উদ্ধৃত করিয়া আমি উপরের উক্তি সমর্থন করিতে পারি। শুধু ভারতেই শিশুকাল হইতে আমাদিগকে বিবাহের কথা গুনান হয়। বালকদের বিবাহ দেওয়া এবং তাহাদের জন্য যথেষ্ট অর্থ সম্পদ রাখিয়া যাওয়া ভিন্ন মাতাপিতার অন্ত চিন্তা অন্ত উচ্চাকাক্ষা নাই। প্রথমটি অকালে বুদ্ধি শরীর ধ্বংস করে, দ্বিতীয়টি অলসতার প্রশ্রয় দেয় এবং অনেক সময় লোককে পরগাছার ন্যায় করিয়া তোলে। ব্রহ্মচধ্য দারিদ্য-ব্রতের কঠোরতাকে আমরা অতিরঞ্রিত করিয়া থাকি এবং বলি ইহা পালন করিতে হইলে অসাধারণ শক্তির দরকার। দুটি জিনিষ আমর! মহাত্মা যোগীর জন্ত রাখিয়া দি; একথা আমরা ভুলিয়া যাই, যেখানে সাধারণ লোকের অবস্থা হীন সেখানে সাচ্চা মহাত্মা যোগীর উদ্ভব সম্ভব নহে। সদাচারের গতি কচ্ছপের গতির ন্যায় ধীর অথচ অবাধ, কিন্তু ছুরাচার শশকের ন্যায় দ্রুত চলে! এই হিসাবে পশ্চিমের ব্যভিচারের সওদ! বিছাৎগতিতে আমাদের নিকট আসে আপনার মনোমোহিনী চাকচিক্যের দ্বারা আমাদের চোখ ঝলনাইয়া দেয় এবং আমরা সত্যকে ভুলিয়! যাই। প্রতি মুহূর্তে পশ্চিম হইতে যে তার আসিতেছে, প্রতিদিন পাশ্চাত্য দেশের মাল বোঝাই হইয়। যে জাহাজ ,এখানে পৌছিতেছে, এবং এইকূপে যে চটকদার জিনিষ আসিতেছে, তাহা দেখিয়! ক্রদ্ষচরধ্যব্রত পর্য্স্ত গ্রহণ করিতে আমরা লঙ্জিত হইতেছি এবং দ্ারিজ্র্য-ব্রতকে পাপ বলিয়া ঘোষণা

৩২ দুর্নীতির পথে

করিতে প্রস্তুত হইয়াছি। পরস্ধ ভারতবর্ষে আমরা পশ্চিমের যে রূপ দেখিতেছি, পশ্চিম সপূর্ণরূপে তাহা নহে। দক্ষিণ আক্রিকার শ্বেতাঙ্গগণ

সেখানকার ভারতীয় বাসিন্দাদিগকে দেখিয়া, সমস্ত ভারতবাসীর চরিত্র সন্থদ্ধে একটা ধারণা পোষণ করিয়। যেমন ভূল করে, সেইরূপ ইউরোপ হইতে প্রতিদিন যে লোকজন মালপত্রানি আপিতেছে, তাহা দেখিয়া পাশ্চাত্য দেশ নম্বন্ধে ধারণা কর আমাদের ভুল হইবে। যাহার৷ এই ভ্রমের পরদা সরাইয়। ভিতরের বস্থ দেখিতে সক্ষম, তাহারা

দেখিতে পাইবেন যে, পশ্চিমেও পবিত্রতা এবং শক্তির একটি ক্ষুত্র অথচ অফুরন্ত উৎস আছে। ইউরোপের মহা মরুভূমিতেও এবূপ সব ঝরণা আছে, থেখানে যে-কেহ ইচ্ছা করিলে সর্বাপেক্ষা পবিত্র জীবন-

বারি পান করিয়া তৃপ্ত হইতে পারে সেখানকার শত শত ভ্ত্রীপুরুষ স্বেচ্ছায় ত্র্মচধ্য দারিত্য-ব্রত গ্রহণ করির! থাকেন, জন্য কেহ

ভূল করিয়াও গর্ব অথব। হৈ চৈ করেন না। তাহারা নমত্রতার নহিত

গ্ব-জন অথবা দেশসেবার জন্য ইহাতে ব্রতী হইয়া থাকেন। আমরা

বলিয়া থাকি যে, ধশ্মের সহিত সংসারের সাধারণ কাজের কোনো! সম্বন্ধ

নাই এবং যে সব যোগী হিমালয় পর্বতস্থ বন অথব! গুহায় একান্তবাস

করিতেছেন ধশ্ব শুধু তাহাদের জন্য। যে_ আধ্যাত্মিকতা লোকের দৈননিন জীবনের সহিত সম্প্কশৃন্ত, যার প্রভাব সংসারের উপর_

পড়ে না, তাহা আকাশ | কুহ্থম ভিন্ন আর কিছুই নহে সপ্তাহে সপ্তাহে

যাহাদের জন্ত ইয়ং ইত্ডয়া” লেখা হয়, সেই সব যুবক যুবতী জানিয়া

রাখুন যে, যদি তাহারা তাহাদের পারিপার্থিক অবস্থা পবিত্র করিতে

এবং দুর্বলতা পরিহার করিতে চান, তবে ব্রশ্ষচধ্য ব্রত পালন করা

ভাহাদের কর্তব্য তাহাদের ইহাও জানা! দরকার, তাহারা যেরূপ

শুনিয়া আসিতেছেন, ব্রক্ষচর্য পালন কর! তত কঠিন নহে।

আজীবন ত্রহ্মচর্য্য ৩৩

বুরো সাহেব আরও বলেন, “বর্তমান সমাজ-বিজ্ঞান যে পরিমাণে আমাদের নৈতিক অভিব্যক্তির অনুসরণ করিবে* এবং যত গভীর- ভাবে শৃঙ্খলার সহিত আমরা সমাজের বান্তব সমস্যা আলোচনা করিতে পারিব, সমস্ত ইন্জরিয়সংমের কাজে ত্রহ্মচর্ধ্যের সহায়তার মূলা আমরা সেই পরিমাণে উপলব্ধি করিতে সক্ষম হইব। বিবাহ কর! আবশ্যক মানিয়৷ লইলেও, সকলে বিবাহ করিতে পারে না, অথবা সকলের পক্ষে ইহা আবশ্যক কিংবা উচিত বলা যায় নাঁ। যাহাদের কথা পূর্বে বল! হইয়াছে তাহারা ভিন্ন আরও তিন শ্রেণীর লোক আছে, যাহাদের ' পক্ষে ত্রন্ষচর্ধ্য পালন করা ভিন্ন অন্ত কোনো পথ নাই; (১) বে সব যুবক-যুবতী অর্থনৈতিক কারণে বিবাহ

: পিছাইয়৷ দেওয়া উচিত মনে করে; (২) যাহাদের উপযুক্ত

পাত্র-পাত্রী জোটে না; (৩) যেসব লোকের এমন কোনো রোগ আছে যাহ! সন্তান-সন্ভতিতে সংক্রামিত হইবার আশঙ্কা! আছে, অথবা যাহারা অন্য কোনো কারণে বিবাহের চিন্তা বিলকুল ত্যাগ করি- য়াছে। কোনো মহৎ কার্য ব| উদ্দেশ্ট সাধনের জন্য যে সব স্ত্রী-পুরুষ মানসিক শারীরিক শক্তির পূর্ণ অধিকারী এবং কখনও কখন৪ যথেষ্ট ধনসম্পদের মালিক হইয়াও আজীবন ব্রপ্ষচর্ধা পালন করেন,